ঢাকা, রোববার, ৭ আগস্ট ২০২২

হলদিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, ধর্মঘট নিয়ে যা বললেন চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২০২২-০৪-০৩ ২৩:১৭:০৪ || আপডেট: ২০২২-০৪-০৩ ২৩:১৯:৪০

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় নানা ভাবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে হলদিয়াপালং ইউপি’র নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে বিক্ষোভ করেছে মরিচ্যা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার মরিচ্যাবাজারে পুন: বিন্যাসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় চিহ্নিত চাঁদাবাজকে বাজার থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এর বিপরিতে হঠাৎ রবিবার মরিচ্যা বাজারে ধর্মঘট ডাকে চাদাঁবাজ সিন্ডিকেট।

সরেজমিনে জানা গেছে, মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ী ছৈয়দ উল্লাহ প্রকাশ জানান, তিনি দীর্ঘ ১৫/১৬ বছর ধরে মরিচ্যা বাজারে ব্যবসা করে আসছিল। বাজারে সরকারি শেড নির্মানের পর থেকে সাইফুল নামের একজন তাকে ব্যবসা করতে দিচ্ছিলনা।

তার কাছ থেকে জোরকরে খালি স্ট্যাস্প নেয় পশ্চিম মরিচ্যার শফিউল্লাহর ছেলে সাইফুল। গত ৩ বছর ধরে জিস্মি তাকে জিম্মি করে সরকারী শেড থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে আসছে ওই সাইফুল।

বিষয়টি তিনি লিখিত ভাবে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানায়।

গতকাল শনিবার রাতে উচ্ছেদের পরপরই ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আজ রোববার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে সকাল থেকে স্বাভাবিক নিয়মে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও বিক্ষুদ্ধ ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি সফল হয়েছে বলে দাবী করছে।

অপরদিকে মরিচ্যা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মনজুর আলম বলেন, ইমরুল কায়েস চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিতে নেই। নির্বাচনী প্রতিহিংসা থেকে দোকান লুটপাট, উচ্ছেদ এবং ভাঙচুর চালিয়ে আসছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তার কারণে শত শত ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ আজ।

ইউপি সদস্য মনজুর আলম বলেন, শনিবার রাতে বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এসময় শত শত ব্যবসায়ী ও চেয়ারম্যানের রোষানলে পড়া সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ক্ষতিগ্রস্থদের একজন ব্যবসায়ী জসিম আহমেদ বলেন, ইমরুল চেয়ারম্যান হওয়ার পরই প্রথমে আমার দোকান উচ্ছেদ করেন। কারণ আমি হলদিয়াপালংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমের জন্য ভোট করেছি।

এ বিষয়ে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস চৌধুরী আরো বলেন, মরিচ্যা বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বাজারের সরকারী শেড থেকে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে মাসিক চাঁদা আদায় করছিলো। কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে সাইফুলকে বার বার ঐ সকল ব্যবসায়ীদের স্ট্যাম্প ও টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। কিন্তু সে ব্যবসায়ীদের স্ট্যাম্প ও টাকা ফেরত দেয়নি। নিরিহ ব্যবসায়ীর স্ট্যাম্প ও টাকা আদায় করার জন্য শনিবার তার কিছু মালামাল পরিষদের হেফাজতে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, মরিচ্যা বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোন ধরনের চাঁদাবাজি করতে দেয়া হবেনা। মূলত: মরিচ্যা বাজার থেকে চাঁদাবাজদের বিতাড়িত করায় সিন্ডিকেটটি ধর্মঘট ডাকে। মরিচ্যার সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার ও শান্তির জন্য তিনি সব ধরনের পদক্ষেপ নিবেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, শনিবার রাত থেকে মরিচ্যা বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভের বিষয়টি জেনেছি। তবে কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেননি। তারপরও পবিত্র রমজান মাসের বিষয়টি মাথায় রেখে আমি বাজারের নেতাদের ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।