ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

স্থানীয় এক নারীকে ৫২ ঘন্টা ধরে আটকে রাখলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি

প্রকাশ: ২০২২-০৩-২৭ ১৮:০৭:৩৪ || আপডেট: ২০২২-০৩-২৭ ২৩:৩৭:২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: 
কক্সবাজারের উখিয়ায় স্থানীয় এক নারীকে টানা ৫২ ঘন্টা আটকে রেখেছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২ এর ইনচার্জ (সিআইসি)।

২৫ মার্চ আটক করা ছমুদাকে ২৭ মার্চ তারিখ দুপুর ২ টা ২০ মিনিটের দিকে হাজারো তদবিরের মাধ্যমে ছাড় দেয় এমনটি জানিয়েছেন পালংখালীর ইউপি চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী।

এর আগে নিজস্ব বৈধ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নিমার্ণে বাঁধা প্রদান করায় ছমুদা খাতুন (৩৪) নামের স্থানীয় ওই নারীকে ধরে নিয়ে আটক করা হয়।

তবে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেছেন, ওই নারীর কাছে রোহিঙ্গা কার্ড ও বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়া গেছে। ওই নারীকে ছেড়ে দেয়ার জন্য সিআইসিকে বলা হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীর দেয়া তথ্য মতে, আটকে রাখা নারী ছমুদা খাতুন পালংখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফরিদ আলমের স্ত্রী।

গত ২৫ মার্চ সকালে ক্যাম্প ইনচার্জের নিদের্শে এপিবিএন সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে ২৬ মার্চ দুপুরে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী লিখিত অভিযোগে বলেন, ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সংকটের সময় সরকার উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়। অন্যান্য স্থানের মতো পালংখালীর ঘোনারপাড়া এলাকায় ছমুদার বসতবাড়িতেও রোহিঙ্গাদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি অবশিষ্ট কৃষি জমিতেও রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন শেড নির্মাণ কাজ শুরু করে ক্যাম্প ইনচার্জ রবিন্দ্র চাকমা।

রোজগারের শেষ আশ্রয়স্থল রক্ষা করতে শেড
নির্মাণে বাঁধা দেন ছুমদা। তাই ২৫ মার্চ সকাল ৯টায় তাকে ক্যাম্পের এপিবিএন সদস্য দিয়ে তাকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। তাকে ফেরত না দেয়ায় আত্মীয় স্বজনের মাঝে ভীতি আর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এসংলগ্ন অভিযোগের কপিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি রোববার (২৭ মার্চ) দুপুর ১ টায়
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ মো. রেজওয়ান হায়াত এর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, এপর্যন্ত ওই নারীটি সিআইসি’র কাছে রয়েছে। ওই নারীর কাছে রোহিঙ্গা কার্ড ও বাংলাদেশের এনআইডি পাওয়া গেছে। তাকে দ্রুত ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা আশ্রয় দিয়ে স্থানীয়রা কি অপরাধ করেছে ? একজন নারীকে ধরে নিয়ে এভাবে আটকিয়ে রাখা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।

তিনি এও বলেন, ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রবিন্দ্র চাকমার সাথে অনেকবার যোগাযোগ করার পরেও তাকে ছেড়ে দেয়নি। এলাকার পরিস্থিতি অস্বাভাবিক না হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট এ অভিযোগ করেছি।

এ ব্যাপারে ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) বরিন্দ্র চাকমার সাথে আলাপ করা সম্ভব হয়নি।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন সজীব জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য আলাদা প্রশাসন রয়েছে। তবে চেয়ারম্যানের লিখিত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠানো হয়েছে।