ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো বেড়েছে চাল তেল পেঁয়াজের দাম

প্রকাশ: ২০২২-০২-২৫ ১২:০৭:২১ || আপডেট: ২০২২-০২-২৫ ১৬:২৬:৫৪

সিএসবি ডেস্ক।। দেশের বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো বেড়েছে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও পেঁয়াজের দাম। করোনা ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন এমনিতেই সংকটে পড়েছে। সেই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও সরকারি বিপণন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সব ধরনের চালের দামই কেজিপ্রতি দুই টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। চালের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দাম। বেড়েছে মাঝারি ও ছোট দানার মসুর ডালের দাম। পেঁয়াজের দামও কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। আর ঘোষণা ছাড়াই চিনির দাম খুচরা বাজারে কেজিতে তিন টাকা বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, চালের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম বাড়তি। আর ক্রেতারা বাজার মনিটরিংয়ে জোর দিতে বলছেন।

টিসিবির হিসাবে এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে সরু চালের দাম ছিল ৫৬ থেকে ৬৬ টাকা কেজি, শুক্রবার ছিল ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা। সে হিসাবে বেড়েছে ৩.২৮ শতাংশ। মাঝারি মানের চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, এখন ৫০ থেকে ৫৬ টাকা। মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা ছিল, এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা।

এক সপ্তাহ আগে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৩৬ থেকে ১৪২ টাকা লিটার, এক সপ্তাহে লিটারপ্রতি আড়াই শতাংশ দাম বেড়ে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা হয়েছে। আগের সপ্তাহের ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকার পাম সুপার তেল ৩.৭৭ শতাংশ দাম বেড়ে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা হয়েছে। খোলা চিনির দাম এখন ৮০ থেকে ৮৫ টাকা প্রতি কেজি। হঠাৎ ৮৮ থেকে ৯০ টাকায় ওঠে যাওয়া বড় দানার মসুর ডালের দাম চলতি সপ্তাহে কমেছে ১.৬৯ শতাংশ। তবে ছোট দানার মসুর ডালের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সে হিসাবে দাম বেড়েছে ৬.৯৮ শতাংশ।

পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় উঠে যাওয়ার পর সপ্তাহখানেক আগে দাম নেমে এসেছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে গতকাল পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে দেখা যায়। গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। আমদানির পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজি।

রাজধানীর মাটিকাটা বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা মামুনুর রশিদ বলেন, আগের মতো আয় নেই। অথচ খরচ বেড়েছে অনেক। আয়ের সঙ্গে ব্যয় মেলাতে পারছি না। জিনিসপাতির দাম তো বাড়তেই আছে। সামনে যে কি করবো সেটাই বুঝতে পারছি না।

গোপীবাগ বাজারের চালের দোকান মরিয়ম স্টোরের বিক্রেতা আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, চালের দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। শুনছি চালের আমদানি কমে গেছে, তাই দাম বাড়তি। তবে কয়েক দিন পর আমন ধান উঠলে দাম আবার কমতে পারে।