ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

উখিয়ায় শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজে নেই জবাবদীহিতা ও তদারকী

প্রকাশ: ২০২২-০২-০৫ ১৯:১১:৩২ || আপডেট: ২০২২-০২-০৫ ১৯:১১:৩২

 

রফিকুল ইসলাম:

উখিয়ায় চলমান শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলছে ঠিকাদারের মিস্ত্রি নির্ভর। এসব উন্নয়ন প্রকল্প কাজ চলাকালে তদারকি সংস্থা এলজিইডি,প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও ঠিকাদারের নিয়োজিত সাইড প্রকৌশলীগণ দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও অনেকক্ষেত্রে তা পরিলক্ষিত হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী বলেছেন, সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালনের মত লোক নেই।

জরুরী সহায়তা মাল্টি-সেক্টর রোহিঙ্গা রেসপন্স প্রকল্প (ইএমসিআরপি) প্রকল্পের আওতায় উখিয়ায় ১৬৫ কিঃমিঃ গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলমান আছে। ইএমসিআরপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে উখিয়ার রাজাপালং ইউপি – বটতলী পর্যন্ত ১৮ শ মিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে ৪ মাস ধরে। সামান্য অংশ কার্পেটিং করে অধিকাংশ কাজ ফেলে রাখায় স্হানীয় লোকজনদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ সড়কের হাজীরপাড়া খালের একপাশে আরসিসি গাইডওয়াল নির্মাণ কাজে কোন তদারকি ছাড়া অতি নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে চালানো হচ্ছে বলে স্হানীয় বাবুল বড়ুয়া, ভুট্টো, জাফর আলম জানান। তারা বলেন, দেশের উন্নয়নে সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করলেও কাজের গুণগত মান খুবই নিম্নমানের।

তারা বলেন,মিস্ত্রিরাই ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তাদের ইচ্ছেমত কাজ করছে। সিলেট বালি,পাথর, বুজুরি প্রভৃতি মালামাল নিম্নমানের। নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয়নি কিন্তু গাইড ওয়াল একপাশে ঝুকে পড়েছে। ২০ ফুট গভীরতায় পাইলিং করার কথা থাকলেও করেছে ৮-১০ ফুট।

সরেজমিনে রোহিঙ্গা ও শিশু শ্রমিক দিয়ে রড বান্ডিং,আরসিসি ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে। এতে কোথায় কিভাবে কি করতে হবে তা তারা না জানায় যেনতেনভাবে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। স্হানীয়দের মতে, অনেক প্রতিবাদ করেছি কেউ শুনে না। উন্নয়ন হচ্ছে লোক দেখানো, তবে স্থায়ীত্ব নিয়ে এলাকার লোকজন সংশয় প্রকাশ করেন।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী কাজের গুনগত মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প কাজের ব্যয় বরাদ্দ, কাজের ধরন, কাজ শুরু ও সমাপ্তির বিস্তারিত বিলবোর্ড দৃশ্যমান স্হানে জনসমক্ষে টাঙানোর সরকারি নির্দেশনা থাকলেও উখিয়ার কোথায় এগুলো দেখা যায়নি।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক নুরুল হক খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হওয়ায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে উখিয়ার সর্বত্র চলছে কয়েক শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন। গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিসহ বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এসব প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও অবহেলায় উন্নয়ন কাজে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে।

এলজিইডির উখিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলামকে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক এডিবির অর্থায়নে উখিয়ায় ব্যাপক উন্নয়ন যজ্ঞ চলছে। এসব উন্নয়ন কাজে এদিক ওদিক হতেই পারে। সব সময় এতগুলো সাইডে সার্বক্ষণিক তদারকি করার মত লোক নেই। বিশেষ প্রয়োজনে প্রকৌশল অফিসের লোকজন কাজ তদারকি করেন। নির্মাণ সামগ্রী ও চলমান কাজের গুণগত মান ভাল বলে তিনি দাবী করেন।