ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

কান্নাকাটি করে দিক-বেদিক ছুটছে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গারা, দাঁড়িয়ে আছে পিলারগুলো

প্রকাশ: ২০২২-০১-১০ ১৯:০৮:২৬ || আপডেট: ২০২২-০১-১০ ১৯:০৮:২৬

 

পলাশ বড়ুয়া:
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। গতকাল রোববারের অঙ্গিকান্ডের ঘটনায় কোথাও কোথাও মৃদু মৃদু আগুন জ্বলছিল আজকেও। চারিদিকে পুড়া গন্ধ। কান্নাকাটি করে দিক-বেদিক ছুটছে ক্ষতিগ্রস্তরা। দাঁড়িয়ে আছে বসতির পিলারগুলো। বারবার অগ্নিকান্ডে কারো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা অনুসন্ধান করার দাবি তুলেছে সচেতন মহল।

গতকাল রোববারের অঙ্গিকান্ডের ঘটনায় কোথাও কোথাও মৃদু মৃদু আগুন জ্বলছিল আজকেও। চারিদিকে পুড়া গন্ধ। কান্নাকাটি করে দিক-বেদিক ছুটছে ক্ষতিগ্রস্তরা। দাঁড়িয়ে আছে বসতির পিলারগুলো।

৯ জানুয়ারী বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার শফিউল্লাহকাটা ১৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে প্রায় ৪৭০টি শেড আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আরো ১২০টি ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয় বলে জানা গেছে। তবে ক্যাম্পে নিয়োজিত ৮-এপিবিএন অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১২০০ ঘর পুড়েছে এমনটি প্রাথমিক ভাবে জানিয়েছিল।

এবারের অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ক্যাম্প-১৬ এর ইলিয়াস মাঝি এবং আবুল সৈয়দ মাঝির রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে হয় বলে এপিবিএন ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারের হদিস মেলেনি।

স্থানীয়রা বলছে, অগ্নিকান্ডের সাথে ক্যাম্পের উশৃঙ্খল একটি চক্রের হাত থাকতে পারে। প্রত্যাবাসন বিরোধীরা এসব এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে। অনেকে বলছে নতুন প্রকল্প, মেয়াদ বৃদ্ধি ও চাকুরীর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য অসাধু এনজিওর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সাঈদ মু. আনোয়ার বলেন, অতীতে খাবার বিতরণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এনজিও গুলোকে এবারও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসনের সকল কাজ থেকে বিরত রাখা জরুরী। সেই সাথে বার বার অগ্নিকান্ডের সূত্রপাতের বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত করা জরুরী।

আরেকজন লিখেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৬ তে অগ্নিকাণ্ডে এইবারও ব্যবসা ভালো জমবে এনজিওর।

এদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক মো. নাইমুল হক বলেন, এ নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি দ্রুত অগ্নিনির্বাপনের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত পানি মজুত ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, এবার প্রায় ৬০০শেড পুড়ে গেছে। কক্সবাজার ও উখিয়ার ফায়ারসার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করে। প্রায় ৩ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতির বাসিন্দারা ক্যাম্পের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছে।

এর ২০২১ সালের মার্চ মাসে উখিয়ার ৮ ও ৯ নম্বর ক্যাম্পে ভয়াবহ আগুনে বহু বসতবাড়ি পুড়ে যায়। এ সময় ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়।

এছাড়াও চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ক্যাম্প-২০-এ অগ্নিকাণ্ডে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) পরিচালিত একটি করোনা হাসপাতাল বিপুল সরঞ্জামসহ পুড়ে গেছে।

এদিকে, গতকালকের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়েছে ছয় শতাধিক রোহিঙ্গা বসতি। সবকিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটছে তাদের।
তবে দ্রুত রোহিঙ্গাদের শেল্টার নির্মাণ করে দেওয়াসহ সমস্যা লাঘবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামছু দ্দৌজা জানান, কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, আগুনে পুড়ে ঘরহারা রোহিঙ্গাদের শিক্ষাকেন্দ্র, মাদ্রাসা-মক্তব, উইমেন ফ্রেন্ডলি স্পেস ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাখা হয়েছে। এনজিও সংস্থাগুলো তাদের জরুরি খাবার সরবরাহ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের দ্রুত পুনর্বাসনসহ শীতবস্ত্র দেওয়া হবে।