ঢাকা, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

প্রকাশ: ২০২২-০১-০১ ১৭:৩৩:১৮ || আপডেট: ২০২২-০১-০১ ১৭:৪৪:০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছে স্থানীয়রা। তবে যথাযথ নিয়ম মেনে ৬ষ্ট শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এমনটি জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে, করোনা সংক্রমণ মাথায় রেখে এবার ভর্তি পরীক্ষার বদলে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়। সবশেষে ১৫ ডিসেম্বর লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে মেধাতালিকা ও অপেক্ষমান তালিকা নামে দুটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে লটারি রেজাল্টে মেধা তালিকায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের, ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলে।
আর অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থী ভর্তির নির্ধারিত সময় ছিল ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রি. তারিখ পর্যন্ত।
এদিকে উখিয়ায় ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন আজমিরা লতিফ নামে একজন। তিনি ব্যক্তিগত আইডিতে লিখেছেন, উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে ভর্তি জালিয়াতি। ইউএনও উখিয়ার সু-দৃষ্টি কামনা করছি।
এছাড়াও বিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী ৬ষ্ট শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু তাসপ্রিয়া নুর সামিহা’র পিতা জসিম বলেন, উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজী স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম পূর্বক মেধা তালিকা প্রকাশের ৭দিন পর অপেক্ষমান তালিকা প্রকাশ করে। যা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাথে সাথে নোটিশ বোর্ড এবং গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
তিনি এও বলেন, আমার মেয়ে সামিহা অপেক্ষামাণ তালিকায় ১নম্বরে ছিল। আবুল হোছাইন সিরাজী দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছেন। এর আগেও কক্সবাজারে বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলে চাকুরীকালীন দূর্ণীতির কারণে চাকরিচ্যুত হন তিনি।
জসিম এ বিষয়ে মাউসির মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রক্রিয়াধীন বলে জানায়।
মোহাম্মদ শফি নামে একজন বলেছেন, উনার আচরণ শিক্ষক সুলভ নয়।
এ ব্যাপারে জানতে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে ৬ষ্ট শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ভর্তি কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তাঁর পরামর্শে মেধা তালিকার সাথে অপেক্ষামান তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি এও বলেন, ১২০জন শিক্ষার্থীর সুযোগ রয়েছে। তৎমধ্যে ১১৭জন ভর্তি হয়েছে। বাকী ৩টি মুক্তিযোদ্ধা কোটার সংরক্ষিত আছে। ১নং অপেক্ষামান তালিকায় ১১৭জন শিক্ষার্থী ছিল। যা পরে তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ের ব্যস্ততা দেখিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভর্তি কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এরপরও যদি কেউ অনিয়মের অভিযোগ করে তাহলে তা তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।