ঢাকা, রোববার, ৭ আগস্ট ২০২২

ফলোআপ : উখিয়ায় ইয়াবাকারবারীদের ধরতে মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

প্রকাশ: ২০২০-০৩-১৪ ১৬:১১:৪৩ || আপডেট: ২০২২-০৩-১৬ ১৪:২৮:৪০

গফুর মিয়া চৌধুরী ॥
বহুল প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যম সিএসবি২৪ ডটকম এ ”উখিয়ায় বহাল তবিয়তে নতুন-পুরাতন ইয়াবাকারবারী” শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তথ্যবহুল এ সংবাদটি প্রকাশের পর জনসাধারণের পাশাপাশি সচেতন সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক মহলেরও নজর কেড়েছে। একই সাথে পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদের সূত্র ধরে নতুন করে ইয়াবাকারবারীদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে। এমনকি থানা পুলিশ এসব নতুন-পুরাতন ইয়াবা কারবারীদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করে তালিকা প্রণয়নের কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে অভিযোগ উঠেছে, র‌্যাব ও পুলিশের সাথে সহযোগিতাকারী নামধারী কতিপয় সোর্স নিজেদের ও পারিবারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে ইয়াবার চালান নিয়ে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলায় নিরহ ব্যক্তিদের নাম ঢুকিয়ে দিয়ে হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদেরকে সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানিয়েছেন সমাজের দায়িত্বশীল মহল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, উখিয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে উঠতি বয়সী অনেক যুবক। তাদের মধ্যে অনেকে সময়ে-অসময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে লোক দেখানো আটক হলেও নিয়ন্ত্রণটা ঠিকই তাদের হাতে থেকে যাচ্ছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের তালিকায় রয়েছে পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন, ইউপি সদস্য নুরুল আমিন, ইউপি সদস্য নুরুল হক। পালংখালী স্টেশন সংলগ্ন ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শীর্ষ ইয়াবা কারবারি রাশেল পুলিশের জালে আটক হলেও তার বড় ভাই সাহাব উদ্দিন এখনো মাদক পাচার করে যাচ্ছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানিয়েছে।

এছাড়াও পালংখালী আঞ্জুমানপাড়ার সিকান্দর আলীর ছেলে আবদুল গণি, আবদুল মুহিদের ছেলে এয়াকুব মার্শাল, আবদুল মান্নানের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান, মৃত হোছন আলীর ছেলে ফখরুদ্দিন সম্প্রতি বিজিবির হাতে আটক হলেও তাই অপর ভাই গোলাম কাদের ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। থাইংখালী স্টেশনের রনি হোটেলের মালিক খাইরুল বশর ও তার ভাই নুরুল আমিন ইয়াবার টাকায় স্টেশন বহুতল ভবন করেছে।

শিয়াল্যাপাড়া গ্রামের মৃত এয়াকুব আলীর ছেলে আকবর আহমদ, আবদুর রহিম, আলী আকবর এরা তিন সহোদর মিলে ইয়াবা কারবার বৈধ ব্যবসায় রূপ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। একই গ্রামের মৃত ছুরুত আলম প্রকাশ ছুরুত্যা ডাকাতের ছেলে কামাল উদ্দিন প্রকাশ ছুরি কামাল, মোহাম্মদ আরিফ প্রকাশ পুতিয়া, শাহজাহান, মোহাম্মদ হোছনের ছেলে আবু তাহের, মৃত আবু বক্করের ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম প্রকাশ ফ্যাক্স আনোয়ার আল্লাহরদান টেলিকমের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে নিরবে নিভৃতে।

বালুখালী পানবাজারের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী হাবিবুর রহমান বিদেশ থেকে আসার পর ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়েছে পুরোদমে। বর্তমানে সে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। বদিউর রহমান সিকদারের ছেলে সরওয়ার দেশব্যাপী ইয়াবা পাচার করে অবিশ্বাস্য সহায় সম্পদের মালিক বনে গেছে। সে ইয়াবার টাকায় চড়াদামে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকায় বালুখালী বাজার ইজারা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মোহাম্মদ নুরুল আলমের ছেলে নুরুল বছর প্রকাশ পুতিয়া, নুরুল আলম প্রকাশ লেডা আলম, বালূখালী পশ্চিম পাড়ার আলী আহমদের ছেলে আলা উদ্দিন প্রকাশ পুলিশ আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ হোছনের ছেলে নুরুল ইসলাম বৈধ কোন ব্যবসা না থাকা স্বত্ত্বেও ইয়াবার টাকায় বিশাল ভবন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছে। একই গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলের শাহ আলমগীর, নুরুল ইসলামের ছেলে মনির আহমদ, আহমুদুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ হোছন কাকড়া ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান নিয়ে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

বালুখালী বালুরখিল গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মাহমুদুল হক পলাতক থেকেও ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। আবু বক্করের ছেলে ছৈয়দ নুর বর্তমানে বিলাস বহুল গাড়ী, বাড়ির মালিক বনে গেছে। আবু বক্করের ছেলে আলমগীর, ওসমান, জুমেরছড়া গ্রামের লম্বা পুতুর ছেলে ফরিদ আলম এছাড়াও পূর্ব বালুখালী গ্রামের ইউপি সদস্য জামিনে মুক্তি পেয়ে শহরে অবস্থান করে আবারও পুরোদমে ইয়াবা কারবার করছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।

বালুখালী জুয়েলার্স এর মালিক মৃদুল কান্তি ধর বিগত ৩ বছর ধরে স্বর্ণের দোকানে আড়ালে ইয়াবা কারবার করে বর্তমানে তিনটি স্বর্ণের দোকানসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। একই সাথে তার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুস্কুলে রাজপ্রাসাদের মতো ভবন তৈরির খবর পাওয়া গেছে।

রাজাপালং ইউনিয়নের চিহ্নিত ইয়াবাকারীদের মধ্যে খালকাছাপাড়ার কবির আহমদ, হিজলিয়ার বাবুল। হিজলিয়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর ছিদ্দিকির ছেলে জয়নাল আবেদীন ও ইয়াবা গডফাদার বাবুল আত্মগোপনে থাকলেও তার ভাই দেলোয়ার মোটরপার্টসের দোকানের আড়ালে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে লম্বাঘোনার মৃত ফকির আহমদের ছেলে মাহমুদুল করিম খোকা পুলিশের হাতে আটক হলেও তার ইয়াবা সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে বড় ভাই সাহাব উদ্দিন। এছাড়াও একই এলাকার ফরিদ মিস্ত্রির ছেলে মো: রুমু, মৃত জাগির হোছনের ছেলে আবদু রকিম, দরগাহ বিল এলাকার আলী হোছনের ছেলে বেলাল আহমদ প্রকাশ কানা বেলাল, তার সহযোগি মৃত মিয়া হোছনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, পার্শ্ববর্তী টাইপালং এলাকার মৃত আলী আহমদ মাষ্টারের ছেলে আনোয়ার, মৃত দরবেশ আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন।

কুতুপালং এলাকার মৃত মীর কাশেমের ছেলে রশিদ আহমদ, রশিদ আহমদের ছেলে আলমগীর, শামশুল আলমের ছেলে বুজুরুছ মিয়া, মৃত কাদির হোছনের ছেলে রহমত উল্লাহ প্রকাশ কালু।

একই ইউনিয়নের হাজির পাড়ার এলাকার বারবার গ্রেপ্তারকৃত আলী আহমদের ছেলে আতাউল্লাহ, ওই এলাকার মীর আহমদ। ৫/৬ মাস পূর্বে টাইপালং গ্রামের শামশুল হক সিকদারের ছেলে নজরুল সিকদার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার কিছুদিন পর্যন্ত চিহ্নিত গডফাদাররা গা ঢাকা দিলেও এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ডিগলিয়াপালং গ্রামের মৃত আবু ছিদ্দিকের ছেলে সদ্য গ্রেপ্তারকৃত হানিফ সিদ্দিক ও তার বড় ভাই ছৈয়দ আকবর তার সন্তানদের সহযোগিতায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকার মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মকবুল পুতিয়াও দাপর্টের সাথে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ব ডিগলিয়ার নুর আহমদের ছেলে জয়নাল উদ্দিন, মৃত উলা মিয়ার ছেলে মো: ছৈয়দ প্রকাশ মরা ছৈয়দ, শামশুল আলমের ছেলে ছৈয়দ আকবর প্রকাশ লোডা আকবর, রশিদ আহমদের ছেলে আবু বক্কর।

উখিয়ায় কিছু ইয়াবা গডফাদাররা কাপড়ের দোকান, পরিবহণ ব্যবসা, পোল্ট্রি খাদ্যের ব্যবসা, ডিস, ইন্টারনেট ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে এমন তথ্য বেরিয়ে আসছে গোয়েন্দা নজরদারিতে।

সূত্রেমতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ দুয়েকজন ইয়াবা কারবারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার পূর্বে তাদের অবৈধ কারবারের সমস্ত টাকা জনৈক উখিয়ার এক ব্যবসায়ীর হাতে রক্ষিত আছে। ওই টাকায় বর্তমানে সে উখিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ীর স্থান দখল করে নিয়েছে। তার সাথে রয়েছে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কতিপয় সরকার দলের প্রভাবশালীদের নিয়মিত যোগাযোগ।

ডেইলপাড়া এলাকার ছব্বির আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন, আজিজুর রহমানের ছেলে শামশুল আলম, মৃত মৌলভী বাঁচা মিয়ার ছেলে রফিক উদ্দিন রফু, মৌলভীর ছানা উল্লাহর ছেলে একরাম, হোছন মেম্বারের ছেলে আনোয়ার ইসলাম, মৃত সুলতানের ছেলে শামশুল আলম। তুলাতলীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে কামাল উদ্দিন, মৃত গুরাচানের ছেলে এখেলাছ, মৃত কালুর ছেলে আবদুল করিম, জাফর আলমের ছেলে আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি সদস্য মোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ইকবাল ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে।

রাজাপালং পিনজিরকুল গ্রামের দেবু বড়ুয়া’র ছেলে তাপস বড়ুয়া ও দুই তিন ভাই মিলে গড়ে তুলেছে শক্তিশালী ইয়াবা সিন্ডিকেট। তারা দীর্ঘদিন ভিডিও ব্যবসার আড়ালে থেকে ইয়াবার কারবার পরিচালনা করে। পরে তারা ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে।

রত্নাপালং ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া গ্রামের মৃত জাফর আলম ড্রাইভারের ছেলে মো: শাহজাহান। ইয়াবার তালিকায় নাম শীর্ষে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোয়ার বাইরে। এছাড়াও একই গ্রামের ফরুখ আহমদ খলিবার ছেলে তারেক আজিজ ও তার পরিবারের সকল সদস্য ইয়াবার আস্তানা গড়ে তুলেছে। মৃত জালাল আহমদের ছেলে সরওয়ার কামাল সিকি, আবছার কামাল, আলী হোছনের ছেলে আলমগীর। রতœাপালং টেকপাড়ার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোর্শেদ চৌধুরী, মফিজ ড্রাইভারের ছেলে মানিক, দক্ষিণ রত্না তেলীপাড়া এলাকার জবর মুল্লুকের ছেলে নাজু মিয়া, বেলাল উদ্দিনের ছেলে ফোরকান, নজরুল ইসলামের ছেলে এহেছান, বাঁচা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, ছগির আহমদের ছেলে ভুলু, আবুলু’র ছেলে আবুল মনজুর, আলী মিস্ত্রীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন, বশরত আলীর ছেলে মো: কামাল।

হলদিয়াপালং ইউয়িনের রুমঁখা চৌধুরীপাড়া এলাকার মো: ইউনুছ ড্রাইভার, সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য খুরশিদা করিম ও তার ছেলে সুজন ইয়াবাসহ আটক হয়। এখন জামিনে বের হয়ে আবারও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। পাগলিরবিল এলাকা নুর আলমের ছেলে ওবাইদুল হক। দক্ষিণ ক্লাশপাড়ার সুবধন বড়ুয়া’র ছেলে বিধু বড়ুয়া ও খোকন বড়ুয়া’র ছেলে রুবেল বড়ুয়া। রুমখাঁ বড়বিল এলাকার দুয়েকজন পুলিশের হাতে আটক হলেও থামেনি ফরিদ আহমদের ছেলে আবুলু ইয়াবা কারবার।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামশুল আলমের ছোট ভাই মোহাম্মদ মুফিজ আলম। তার নাম মানবপাচারে তালিকায় থাকলেও বর্তমানে শীর্ষ ইয়াবাকারী হিসেবে স্থান দখল করে নিয়েছে। শামশুল আলম সোহাগ মানব পাচার মামলায় বারংবার কারাবরণ করলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালামের চাচাত ভাই রফিক উল্লাহ মানব পাচার ও ইয়াবা কারবারে উৎপ্রোত ভাবে জড়িত থাকার কথা সূত্র জানিয়েছে। জালিয়াপালং ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি ফজল কাদের ইয়াবা গডফাদার ও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা মামলা চলমান রয়েছে। ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাইন্যাশিয়ার বাসিন্দা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুস ছালাম মধু ইয়াবা নিয়ে কুমিল্লায় ধরা পড়ে। ১ বছর পর জেল থেকে বের হয়ে আবার একই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। সে ২০০৯ সালেও দ্বিতীয় বারের মতো ইয়াবা নিয়ে জেলে যায়। এখনো কৌশলে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তার ছোট ভাই সেলিম উদ্দিন বর্তমানে ইয়াবা পাচার, মানব পাচার ও ধর্ষণ মামলায় জেলে বন্দি রয়েছে।

প্রতি বছর মাদক কারবারিদের নাম ঠিকানা হালনাগাদ হলেও অদৃশ্য কারণে ঘুরে ফিরে বাদ যাচ্ছে গডফাদারদের নাম। তারা ভদ্রতার মুখোশ পরে ও কিছু কিছু ব্যবসার সাইনবোর্ডকে সামনে দিয়ে রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। এসব নব্য কোটিপতিদের অঢেল সহায় সম্পদের আয়ের উৎস খোঁজে বের করা দুদকের দায়িত্ব বর্তায় বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। উখিয়ায় কয়েক বছরে যারা রাতারাতি আলিসান বাড়ি, গাড়ী করে বিলাসী জীবন যাপন করছে, কিংবা অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক বনে গেছে তাদের হিসাব যাচাইয়ের দাবী তুলেছে মাদক বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক মো: ইউনুছ চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ইয়াবা কারবারীরা সমাজ ও দেশের শত্রু। কোন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর ইয়াবাকারবারীদের সাথে সংখ্যতা থাকা মোটেও বাঞ্ছনীয় নয়। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীরা আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসলে সমাজ থেকে মাদকসহ নানান অপরাধ কর্মকান্ড দূর করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ মর্জিনা আক্তার সিএসবি২৪ ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, উখিয়া থানা পুলিশ মাদক নির্মুলে কঠোর ভাবে কাজ করছে। ইতোমধ্যে সিএসবি২৪ ডটকম সহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নজরে এনে নুতন করে মাদককারবারীদের নাম ঠিকানা নিয়েও কাজ করছে পুলিশ। উখিয়ায় গত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান পরিষ্কার করা হয়েছে। মাদকের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।