ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

জালিয়াপালং ইউপিতে দালালের উৎপাত, নাগরিক সেবা ব্যাহত

প্রকাশ: ২০২২-০৮-০৪ ২০:১৩:১০ || আপডেট: ২০২২-০৮-০৪ ২০:১৩:১০

 

পলাশ বড়ুয়া::
কক্সবাজারের উখিয়ায় জালিয়াপালং ইউপিতে সেবা নিতে গিয়ে নানা ভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দালাল ছাড়া নাগরিক সেবা পাওয়ার সাধ্য নেই কারো। এসব নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে সেবা নিতে আসা অসংখ্য নারী-পুরুষ। যেন নিয়ন্ত্রণহীন অনিয়মের আঁতুড়ঘর জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জানা গেছে, দালালদের মাধ্যমে ২/৩ হাজার টাকা দিলে মিলছে নাগরিক সেবা। এমনকি গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যানের প্রতিটি স্বাক্ষরের জন্য টাকা দিতে হচ্ছে। সাংবাদিকদের পেয়ে এমন তথ্য জানালেন দিনের পর দিন হয়রানির শিকার মানুষ গুলো।

উখিয়া নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে ভোটার কার্যক্রম। চলবে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত। ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমের এই সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রিক দালালচক্রের উৎপাত বেড়ে গেছে। হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা।

শতশত ভুক্তভোগী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদে এসে নানান ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছি। প্রতিটি কাগজে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালাল চক্র। যা বলার বা দেখার কেউ নেই!

 

চিহ্নিত দালাল হিসেবে তাৎক্ষণিক যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের মধ্যে মনখালী এলাকার নুরুল হক, নুরুল আলম, জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ শফির বিল এলাকার ওমর আলী, আজিজ, রূপপতি এলাকার নেতা জাফর, সোনারপাড়ার সামসু উদ্দিন, জুয়েল, নেতা আব্বাছ, সাজ্জিল, শফিউল করিমের নাম উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম ছৈয়ম আলম বলেন, পরিষদে কোন দালাল নেই। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি দুষলেন পুরুষ মেম্বারদের। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রতিদিন জটলার সৃষ্টি হচ্ছে।

চেয়ারম্যান এও বলেন, কিছু মানুষ নিজেরা দালালি করতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিষদের উদ্যোক্তার কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, উদ্যোক্তা নেই। সহকারি উদ্যোক্তা ও হোল্ডিং আদায়ের নামে তবে ৬/৭জন দালাল সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছে। তাদের পরিচয় এবং নিয়োগ প্রাপ্ত কিনা জানতে চাইলে কেউ সদুত্তর দিতে পারেনি।

ওই উদ্যোক্তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার সময় শমশের আলম নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

ওই সময় ভূক্তভোগীদের অভিযোগের সাথে চেয়ারম্যানের কথার কোন মিল পাওয়া যায়নি। এসব হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, অনিয়মের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কারো অভিযোগ পায়নি। তবে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।