ঢাকা, বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২

কক্সবাজারে ছাত্রলীগ নেতা ইমন হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশ: ২০২২-০৭-২৪ ২৩:১৫:৩১ || আপডেট: ২০২২-০৭-২৪ ২৩:১৫:৩১

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ

কক্সবাজার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমন হাসান মওলা (২০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবদুল্লাহ খাঁনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (২৪ জুলাই) ভোরে টেকনাফ থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-১৫।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে নিহতের বাবা মো. হাসান বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এছাড়া এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৭/৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ইমন কক্সবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। কয়েকমাস আগে তার সঙ্গে মামলার প্রধান আসামি আবদুল্লাহর ঝগড়া হয়, যা স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তিও করা হয়। কিন্তু আবদুল্লাহ বিষয়টি মনের মধ্যে পুষে রেখে প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। একপর‍্যায়ে ২১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইমন মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফেরার সময় আবদুল্লাহর বাড়ির পাশে পৌঁছলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করে।

ওইসময় ইমনের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তার মোটরসাইকেল নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমন মারা যায়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহতের বাবা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে মৃত্যুর আগে তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের নাম-ঠিকানা বলে গেছে। সে যাদের নাম বলেছে তাদেরকেই মামলার আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, মামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। এ নিয়ে রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সংবাদ সম্মেলন করে র‍্যাব-১৫।

গ্রেফতার আবদুল্লাহ খাঁনের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক নিত্যানন্দ বলেন, নিহত ইমনের বাবা হাসানের শহরের বাজারঘাটায় একটি পলিথিন, পাপোস ও কার্পেটের দোকান রয়েছে। সেখানে একটি পাপোস কিনতে গিয়েই আবদুল্লাহ খাঁন ও ইমনের মধ্যে বিবাদের শুরু। এরই জেরে ইমন ও তার বন্ধুরা মিলে আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীদের ২০২১ সালে মারধর করে।

ওই ঘটনায় আবদুল্লাহর পরিবার বাদী হয়ে মামলা করে। তবে মামলাটি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি হলেও এতে মনোক্ষুণ্ন ছিল আবদুল্লাহ। সে প্রতিশোধ নিতে সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সে সুযোগ ২১ জুলাই রাতে আবদুল্লাহ পায়।

তিনি আরো বলেন, আবদুল্লাহকে ইমন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা পুলিশ নেবে।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস বলেন, নিহতের বাবার দেওয়া এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে সোমবার আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এছাড়া অন্যদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।

সিএসবি-টুয়েন্টিফোর;২৪/৭ঃস-১১৫(অ+০০১২২)