ঢাকা, রোববার, ৭ আগস্ট ২০২২

কেপিএম গেট-মিশন সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশ: ২০২২-০৭-১৯ ১৩:০৬:৫৩ || আপডেট: ২০২২-০৭-১৯ ১৩:০৬:৫৩

 

কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নাধীন কেপিএম গেট-মিশন হাসপাতাল সড়কের অধিকাংশ স্থানই খানাখন্দে ভরাসহ যানচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু যান চলাচল নয়, জনসাধারণকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। এসব গর্তের উপর দিয়ে অটোরিকশা, মোটর সাইকেল, মালবাহী গাড়ি, কিংবা যাত্রীবাহী ছোট ছোট যানবাহন চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড বেরিয়ে পড়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল করছে।

মঙ্গলবার ওই সড়কে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কেপিএম আবাসিক এলাকার থানাঘাট গেট থেকে খ্রীষ্টিয়ান মিশন হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ আর গর্তে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টান কবরস্থান থেকে শুরু করে দোভাষী বাজারমুখ পর্যন্ত সড়কটির ভয়াবহ দশা। সড়কটিতে বৃষ্টির পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে গেছে। এমতাবস্তায় ওই জলাবদ্ধতার পানি ও কাদামাখা সড়কটি দিয়েই জনসাধারণের ও যানবাহন চলাচল করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।

এছাড়া, দোভাষী বাজার থেকে সড়কের প্রবেশ মুখের সামনের নদী ভাঙ্গন রোধে ধারক দেয়াল নির্মাণ করা হলেও সড়কের কিনারা মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোন সময় সড়কের কিনারা ধসে পুরো সড়ক ভেঙ্গে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান।

উক্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করা মিশন এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাশ, রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মোজাম্মেল, সুমি আক্তার, কেপিএমের বাসিন্দা সুমন বড়ুয়া, মহিউদ্দীনসহ কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, এই সড়কটি দিয়ে প্রায় সময় তাদের চন্দ্রঘোনা পোস্ট অফিস, সোনালী ব্যাংক এবং কর্ণফুলী পেপার মিল এলাকা, লিচুবাগান, খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আসা যাওয়া করতে হয়। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থায় তাদের অনেক দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় অনেকের জামা কাপড় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গাড়ি নিয়ে আসলে গাড়ির ঝাঁকুনিতে শরীরে আঘাত শয্য করতে হচ্ছে।

এছাড়া এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালকেরা সহজে আসতে চায়না বলে তারা জানান। অনেক সময় দ্বিগুন ভাড়ায় গাড়ী আনতে হচ্ছে । তাই তারা সকলেই এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জোর দাবি জানান।

এদিকে, চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পাশে কর্ণফুলী নদীর পার ঘেঁষে গড়ে উঠা সড়কটি ভাঙন রোধে সম্প্রতি ব্লক বসানো হয়ছে। আবার কিছু জায়গায় ধারক দেয়াল বসানো হলেও সড়কের পাশে মাটিশূণ্য হয়ে আছে। মাটিশূন্য হওয়ায় সড়কটির কিছু অংশ যেকোন সময় ভেঙে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে চন্দ্রঘোনা খ্রীষ্টিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং জানান, প্রথমত এই সড়কের পাশে রযেছে খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান, দ্বিতীয়ত একটি হাইস্কুল ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সড়কের মিশন গেট এলাকায় প্রতিদিন সকালে পাহাড়ী-বাঙ্গালীদের বাজার বসে, তৃতীয়ত কেপিএম এলাকায় এই হাসপাতালের অনেক রোগী রয়েছে। এমতাবস্থায় কবরস্থানে, বিদ্যালয়ে এবং নিরাপদে রোগীদের আসা- যাওয়ার জন্য সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রযোজন বলে তিনি জামান।

চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের নব-নির্বাচীত ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন মিলন বলেন, সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহনসহ লোকজনের চলাচল রয়েছে। এর গুরুত্ব অনুধাবন করে সম্প্রতি সড়কটি সংস্কারের জন্য রাঙামাটি জেলা পরিষদে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। সহসাই সড়কের সংস্কার কাজটি শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মফিজুল হক জানান, কেপিএম গেট- মিশন সড়ক সংস্কারের জন্য রাঙামাটি জেলা পরিষদে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে জেলা পরিষদ থেকে ওই সড়ক সংস্কারের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সহসাই ওই সড়কের সংস্কার কাজ ও সড়কের পাশের কিছু অংশে নদী ভাঙ্গন রোধে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।