ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

রাজাপালং এমইউ ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

প্রকাশ: ২০২২-০৭-০৪ ২০:২২:২৮ || আপডেট: ২০২২-০৭-০৪ ২০:৪১:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়া রাজাপালং এমদাদুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এ.কে.এম আবুল হাছান আলীর বিরুদ্ধে গত দশ বছরে ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। এ সময় তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর ও স্মারক নম্বর জালিয়াতি করে জিবি’র সভাপতি মনোনীত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

এর পরপরই ওই শিক্ষকদের জামায়াত নেতা আখ্যা দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন আরেক জামায়াত নেতা সাবেক অধ্যক্ষ আবুল হাছান আলী।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক অধ্যক্ষ গত ৩২ বছরে রাজাপালং মাদ্রাসার নামীয় ২৬ একর ৬৬ শতক জমি ও শিক্ষার্থীর বিভিন্ন পরীক্ষা ফিঃ এবং মসজিদের বার্ষিক সভার আয় সহ বিভিন্ন আয়-ব্যয়ের হিসাব দেয়নি। নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

তিনি নিজের ইচ্ছে মতো, যে ভাবে মন চায় খরচ করেছেন। এমনকি মাদ্রাসার সম্পদ ব্যবহার করে কক্সবাজার শহরে কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

আবুল হাছান আলীর এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে চাইলে তাদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

বিভিন্ন কৌশলে প্রতিবাদী শিক্ষকদের বেকায়দায় ফেলতেন এমন অভিযোগ করেছেন প্রভাষক মুহিববুল্লাহ, মাহমুদুল হক, মোস্তাক আহমদ, দিদারুল আলম খোকনসহ আরো অনেকে।

যার ফলে, সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কখনো কেউ কথা বলার সাহস করেনি।

একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক অধ্যক্ষ আবুল হাছান আলী গত ৩২ বছরে বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকার উপরে দেখাননি। অথচ মাদ্রাসার মসজিদের বার্ষিক সভা এবং ২৬ একর ৬৬ শতক জমি এবং শিক্ষার্থীর পরিক্ষা ফিঃ বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা নিজের মতো করে হাতিয়ে নিয়েছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষের পদ থেকে অবসর গ্রহণের পরপরই আবার জিবির সভাপতি হতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের।

এদিকে তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি বিক্রি, জমি বন্ধক এবং শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসার জমির উপর স্থায়ী বসবাস করার মতো অনিয়মের কারণে তাকে সভাপতি হিসেবে মেনে নিচ্ছেন না অধিকাংশ শিক্ষক।

রাজাপালং আলিমুরা এলাকার জহির মিস্ত্রি বলেন, আমি গত কয়েক বছর আগে কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের পাশে মাদ্রাসার ৪ শতক জমি নিই এবং হরিণমারা পাহাড়ি এলাকা থেকে ১০ শতক জমি দিয়ে উভয় পক্ষের আলাদাভাবে দলিল সম্পন্ন করেছি। তিনি বলেন, এছাড়াও মাদ্রাসার তহবিলে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। পাশাপাশি অান-অফিসিয়ালি আবুল হাছান আলীকে টাকা দিয়েছি।

হরিণমারা এলাকার মৌলভী রশিদ নামে একজন বলেন, আমি দশ বছর আগে কোনরকম চুক্তিপত্র ছাড়া ১০০ শতক জমি আবুল হাছান আলী হুজুরের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বন্ধক নিয়েছিলাম। সেখান থেকে জহির চৌধুরী ৫০ শতক জমি তাদের জমি বলে দখলে নেয়। বর্তমানে আমার কাছে ৫০ শতক জমি আছে।

রাজাপালং ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হাশেম মাদ্রাসার নামীয় ২৬ একর ৬৬ শতক জমি থাকলেও দখলে কি পরিমাণ জমি আছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে, আবুল হাছান আলী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৮ একর মতো জমি মাদ্রাসার দখলে আছে। বাকি জমি গুলো বে-দখলে রয়েছে।

তিনি এও বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হক বলেন, সাবেক প্রিন্সিপাল আমাকে মাদ্রাসার কোন কাগজ পত্র বুঝিয়ে দেয়নি। অবসরে যাওয়ার ১৬ দিনের মধ্যে আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং মাদ্রাসার স্মারক জালিয়াতি করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

রাজাপালং মাদ্রাসায় জিবি’র সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ও আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার (অ:দা:) মো: আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বিস্তারিত জেনে আগামীকাল জানানো হবে।