ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২

কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত পানির তীব্র সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

প্রকাশ: ২০২২-০৪-২৭ ১৩:৩৩:৩১ || আপডেট: ২০২২-০৪-২৭ ১৩:৩৩:৩১

 

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই:
প্রচন্ড তাপদাহের কারণে কাপ্তাই হ্রদে দ্রুত পানি কমে গেছে। ফলে দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই হাইড্রোলিক পাওয়ার স্টেশনে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি এবং প্রচন্ড তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি কমে যাওয়ায় ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদের উপর নির্ভরশীল বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া হ্রদের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি উপজেলার সাথে নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার এটিএম আবদুজ্জাহেরের সাথে বুধবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। পানির অভাবে কেন্দ্রের সব ক’টি ইউনিট সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৩ নম্বর ও ৫নং ইউনিট চালু রয়েছে। বুধবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ৩ নং ইউনিট হতে ২৯ মেগাওয়াট এবং ৫ নং ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট সহ সর্বমোট ৫৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ২৩০ মেগাওয়াট। বর্তমানে পূর্নবাসন কাজের জন্য ১ নং ইউনিট এবং পানির তীব্র সংকটে ২ ও ৪ নং ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রুলকার্ভ অনুযায়ী এসময় হ্রদে পানি থাকার কথা ৮২.৮০ ফিট এমএসএল (মীন সী লেভেল)। কিন্তু বর্তমানে পানি আছে ৭৬.৯৪ ফিট এমএসএল। কাপ্তাই লেকে পানির ধারন ক্ষমতা ১০৯ ফিট এমএসএল। পানির উচ্চতা ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে কেন্দ্রের সবক’টি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে।

অপরদিকে, হ্রদে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরতদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। পণ্য পরিবহনসহ জীবিকা নির্বাহে এসব মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।

এছাড়া হ্রদের পানি সংকটের কারণে হ্রদের পাশের ৬ উপজেলার সাথে নৌপথে যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমতাবস্থায় পার্বত্য এলাকায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত না হলে এই সংকট হতে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে জানান কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক।