http://www.csb24.com/archives/90127

ঢাকা, , মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১

“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ”

প্রকাশ: ২০২০-১২-২০ ১২:৫১:০৭ || আপডেট: ২০২০-১২-২০ ১২:৫২:৫১

 

ফৌজিয়া করিম:

“শেখ মুজির মানে বাংলাদেশ বাংলাদেশ মানে শেখ মুজিবুর রহমান” শেখ মুজিবকে বাদ দিয়ে যেমন বাংলাদেশ কল্পনা করা যায়না তেমনি বাংলাদেশ মানে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিচ্ছবি, শেখ মুজিবুর রহমানের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্বের দরবারে বিপুলভাবে সমাদৃত। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষনটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতী অর্জন করেছে। শুধু মাত্র ভাষনের কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশটি নতুন ভাবে পরিচিত লাভ করেছে।

শেখ মুজিব এর জীবনী : ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ ফরিদ পুর জেলার গোপাল গঞ্জ মহকুমার, টুঙ্গীপাড়া গ্রামে মুজিব জন্ম গ্রহন করেছেন। তাঁর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান, মা-বাবা তাকে খোকা বলে ডাকতেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাল্য বিবাহ করেছিলেন। মুজিবের বয়স যখন ১৩ বৎসর সেই সময় চাচাতো বোন রেনুর বয়স মাত্র ৩ বৎসর। তখন ১৯৩৪ সাল, ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মুজিব। রেনুর বয়স যখন ৭ বৎসর, তখন রেনুর বাবা মারা গেলে, রেনুকে লালন পালন করেছেন মুজিব মাতা। মুজিব এর লেখাপড়া ধারাবাহিক ভাবে হয়নি। ১৯৩৮ সালে শেখ মুজিব ৭ম শ্রেণির ছাত্র। তিনি গোপালগঞ্জ মহকুমার, “গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুলে” ১০ শ্রেণীতে অধ্যায়নরত ছিলেন। তখন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক, বাংলার প্রধান মন্ত্রী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্রম মন্ত্রী, তখন শেখ মুজিব গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুলের ছাত্র ছিলেন। তখন জরাজীর্ণ গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুলের সংস্কার করার দাবী উত্থাপন করেন। ফজলুল হক ও সোহরাওয়ার্দী ওয়াদা করলেন সংস্কার করে দিবেন। এতে সেই সময় থেকে মুজিব দুর্দান্ত প্রতিবাদী ছিলেন। তখন তাঁর বাবা গোপাল গঞ্জ মহকুমার সেরেস্তাদার ছিলেন। মুজিব ছিলেন বাবার তৃতীয় সন্তান। তার বড় ভাই এন্ট্রাস পরীক্ষা দিয়ে মারা যান।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবীতে ধর্মঘট পালন কালে সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার হন।

১৯৫৫ সালে ২১ অক্টোবর “আওয়ামী মুসলিম লীগ” থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ করা হয়, তখন মুজিব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৫৬ সালে শেখ মুজিব শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট মির্জার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগ, প্রধান সেনাপতি আয়ুব খান ক্ষমতা গ্রহন করেন।

১৯৫৯ সনে শেখ মুজিব কারাগারে, সামরিক প্রেসিডেন্ট আয়ুবখান কর্তৃক মৌলিক গণতন্ত্র নামক উদ্ভট পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। ১৪ মাস পর শেখ মুজিব মুক্তিলাভ করলে জেল গেইট থেকে পূনরায় গ্রেফতার করেন। অত:পর হাইকোর্টে রীট পিটিশনের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করেন।

১৯৬০ প্রহাসন মূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গণভোট, একমাত্র প্রার্থী ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খান। আয়ুব নিেিজক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দাবী করতে থাকে।

১৯৬২ সনের ৬ই ফেব্রেুয়ারী শেখ মুজিবকে জন নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হয়, চার বছর পর সামরিক শাসনের অবসান হলে ১৮ জুন শেখ মুজিব মুক্তি লাভ করেন।

১৯৬৩ সনে লেবাননের বৈরুত নগরীর এক হোটেল কক্ষে, অসুস্থ হোসেন সোহরাওয়ার্দী ইন্তেকাল করেন।

১৯৬৪ সনে ২৫ জানুয়ারী, শেখ মুজিবের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পূণঃজীবিত করেন।

১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী লাহোরে বিরোধীদল সমুহের জাতীয় সম্মেলন ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবী পেশ করেন। প্রস্থাবিত ৬ দফা বাঙ্গালী জাতীর মুক্তি সনদ।

১৯৬৬ সনে ১ লা মার্চ শেখ মুজিব, আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তাজউদ্দিন আহাম্মদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৬৬ সালের ৮ই মে থেকে একনাগাড়ে ২০ মাস শেখমুজিব ঢাকা জেলে আটক ছিলেন। ১৮ই জানুয়ারী ভোর রাত সাড়ে তিনটায় শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং জেল গেট থেকে সামরিক হেফাজতে নেয়া হয়।

১৯শে জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বিশেষ ভাবে নির্মিত আদালতে সামরিক পাহারায় তথাকথিত ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হয়।

১৯৬৯ সনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানী শেষ হয়। ১৭ জানুয়ারী ডাকসু ভিপি তোফাইল আহামদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় ছাত্র সভা এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে শোভাযাত্রা।

চারিদিকে আয়ুব বিরোধী আন্দোলন জোরদার হতে লাগলো। গ্রামে গঞ্জে বিস্তুতি লাভ করতে লাগল।

১৯৩৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ততকালীন ডাকসুর ভিপি তোফায়েল আহম্মদ শেখ মুজিবকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধীতে ভূষিত করেন।

১৯৭০ সনের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৯ টি আসন থেকে ১৬৭টি আসন লাভ করেন। প্রাদেশক পরিষদের ৩১০টি আসন থেকে ২৯৯টি আসন লাভ করেন। নিরঙ্কুস সংখ্যা অর্জন করার পরও পাকিস্তানীরা ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হলেন না।

৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম” এবারের সংগ্রাম “স্বাধীনতার সংগ্রাম”। জয় বাংলা।

১৯৭১ সনে ২৪ শে মার্চ ইয়াহিয়া খানের মুজিবের আলোচনা হয়।

২৫ মার্চ আলোচনা দিবাগত রাত নিরহ ও নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ঝাপিয়ে পড়ে গণহত্যা শুরু করে।

বঙ্গবন্ধু মধ্যরাতের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন।

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ থেকে শুরু হয় মুক্তি যুদ্ধ। মু্িক্তযুদ্ধ শেষ ১৬ই ডিসেম্বর, ৯৩ হাজার পাকহানাদার আত্মসমর্পন মাধ্যমে দেশ স্বাধীন ও সার্ব ভৌমত্ব অর্জন করেন।

১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন, প্রতিটি সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

দীর্ঘ সংগ্রামে মুজিব নেই এমন কোন আন্দোলন পাওয়া যাবে না।

জীবনে ১৩ – ১৫ বার গ্রেফতার হয়ে ১৭ বছরের অধীক কাল কারাভোগ করেছেন। তাই তো বলা হয় “মুজিব মানে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানেই মুজিব”।

তথ্য সুত্রঃ ১। মহাপুরুষ, এম আর আক্তার মুকুল ২। অসাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।

সংকলনে : ফৌজিয়া করিম, অর্থনীতি (সম্মান) ১ম বর্ষ, উখিয়া কলেজ।