http://www.csb24.com/archives/89257

ঢাকা, , শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০

সোনাইয়া হাডা থেকেই “শৈলেরঢেবা”

প্রকাশ: ২০২০-১১-১০ ০০:১৫:৫৯ || আপডেট: ২০২০-১১-১০ ০০:১৮:৫৫

আলমগীর মাহমুদ :

উখিয়া কক্সবাজার। রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের একটি গ্রামের নাম ‘শৈলেরঢেবা’। এই শৈলেরঢেবা গ্রামেই উখিয়া কলেজ ভিটি ।

‘হাডা’-শব্দটি চাটগাঁইয়া। -জঙ্গল, পাহাড়, মাঠের মতো পতিত গবাদি পশুর চারণভূমি বুঝাতে হয় ব্যবহার । চাটগাঁইয়াদের কাছে এটি “হাডা মোরা” বলেও উচ্চারিত হয় । গো-চারণ ভূমির পাহাড়সদৃশ অংশ। মুলত “হাডা ” হাডা মোরা সমার্থক হিসেবেই ব্যবহৃত।

চাটগাঁইয়া উচ্চারণের ফাঁক ফোঁকরে হাডা, কাড়া,কাটা হয়েও উচ্চারিত হয় । চাটগাঁইয়া ভাষাতে শুদ্ধ অশুদ্ধ নিয়ে নেই তেমন বাড়াবাড়িও । মনেরভাব বুঝাতে পারছেতো সব শুদ্ধ।

তৎকালে জঙ্গলীভূমি সরকারি পি, এফ ল্যান্ড এলাকার বিভিন্নজনের গরু মহিষের চারণভূমি হিসেবে হতো ব্যবহার। যার গবাদিপশুর চারণভূমি তার নামেই ঐ চারণভূমির হতো পরিচয়। মালীকের নাম যোগ হতো পরিচয়ে। (ক’ খ, গ এর হাডা মোরা,)

বর্তমান শৈলেরঢেবা গ্রামটি একসময়ের জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি ভূমি। “সোনাইয়া হাডা” — ‘সুমইন্না হাডা’–সম্পূইন্না হাডা নামেই এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিল।

সোনাইয়া – সুমইন্যা – সম্পূইন্না মুলত সোনাতন বড়ুয়ারই খিতাই২ নাম। এ তিনটিই সোনাতন বড়ুয়ার নামের অংশ পরিবর্তন হয়ে চাটগাঁইয়া ঢং এর উচ্চারণ মাত্র। মুলত এই এলাকাটি সোনাতন বড়ুয়ার গো-চারণভূমি । কাড়া/হাডা মোরা।

উখিয়া কলেজ এলাকায় প্রবীণ ব্যবসায়ী আঞ্জু সাওদাগর বয়স ৭৫ বছর। ঘরোয়া আড্ডায় শুনেছেন উনার বাবার আমলে নয় দাদার জোয়ানক্যি আমলে যৌবনকালে এই নাম ছিল । উনার বাবা দাদার বয়ানে শুনেছেন বলে জানিয়েছিলেন।

সে হিসেব মতে উনার মন্তব্য উনার ৭৫ বছর। বাবার বয়স। দাদার আমলের যৌবনকালের পরবর্তী সময়। সব মিলিয়ে এই এলাকার সম্পূইন্যা- সুমইন্যা – সোনাইয়া হাডা নাম ছিল একশ অথবা ১২০ বছর আগে বলে অনুমান করেন।

ন-টেক। নাফ টেক। এরপর টেকনাফ যেমন। সোনাইয়া হাডা ও সরাসরি শৈলেরঢেবা হয়নি। গো-চারণ ভূমির বেচাবিক্রির কারনে এ এলাকা বিভিন্নসময় বিভিন্ন মালীকের নামে পরিচিতি পেয়ে কাটায় যুগের পর যুগ ।

এলাকাটির পরের নাম যথাক্রমে ঃ–সোনাইয়া হাডা– ফতেহ আইল্লাবর হাডা—কেরামইত্যাবর হাডা– আলীরবর ভাদাইম্যা কাটা/ কাড়া।

কে এই সোনাতন জানতে চাইলে এলাকার মুরুব্বিরা জানায়। কিরনসাধু সোনাতন দুই ভাই। সোনাতন বড়ুয়া উখিয়া কলেজ কর্মচারী সাধন বড়ুয়ার বড় নানার বড় নানা।প্রপিতামহের প্রপিতামহ হবে অনুমান করেন।

১৮৬০-৬৫ সালের পর পাতাবাড়ির বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রথম বসতি। পাতাবাড়ি চন্দ্রোদয় বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা ১৮৮৩ এরপরে এলাকা আবাদ প্রসার হতে রয় বেশীর ভাগই।পরবর্তী সময়ে বড়তি বসতে এককালের কাড়া মোরা “সোনাইয়া হাডা” হয়ে যায় ”শৈলেরঢেবা গ্রাম’!

দোহাইঃ—
মৃত ইমাম শরীফ নুরু সাওদাগরের বাবা ব্যক্তিগত আলাপ ২০০৪ সালে, কাদের, শামশু গুচ্ছগ্রাম এলাকা, আঞ্জু সওদাগর উখিয়া কলেজ এলাকা।

লেখকঃ বিভাগীয় প্রধান। সমাজবিজ্ঞান বিভাগ। উখিয়া কলেজ, কক্সবাজার।
alamgir83cox@gmail. com