http://www.csb24.com/archives/88776

ঢাকা, , বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এনজিও’র দেয়া ধারালো অস্ত্র !

প্রকাশ: ২০২০-১০-২১ ১৭:৪২:২১ || আপডেট: ২০২০-১০-২১ ১৭:৪৮:৫৮

পলাশ বড়ুয়া ॥
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে এনজিও কর্তৃক সরবরাহকৃত ধারালো অস্ত্র। এসব অস্ত্রের কারণে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের গ্রুপিং, আধিপত্য বিস্তার, খুন, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে কর্মহীন রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন দলে, উপ-দলে বিভক্ত হয়ে দিন দিন হিংস্র হয়ে যে কোন অপরাধ করতে দ্বিধা করছে না। ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ প্রবণতা কমাতে প্রয়োজনে আইনৃ-শৃঙ্খলার বাহিনীর নিয়মিত সাড়াশি অভিযান পরিচালনার দাবী করেন স্থানীয়রা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ক্যাম্প থেকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রসহ ৬০জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৫টি মামলা রুজু করা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে জব্দকৃত এসব অস্ত্রের সাথে ইতোপূর্বে এনজিও শেড, মুক্তি-কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রদত্ত রোহিঙ্গাদের সরবরাহকৃত কৃষি উপকরণ নামে দা, কোড়াল, নিড়ানি ইত্যাদির সাথে মিল রয়েছে।
২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি গণমাধ্যমে চাওর হলে উখিয়া উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে উখিয়া সদরের মালভিটাপাড়া শেড অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র জব্দ করে।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট কোটবাজারের ভালুকিয়া সড়কের কামারের দোকান থেকে এনজিও মুক্তি কর্তৃক অর্ডারকৃত বিপুল পরিমাণ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে প্রশাসন।

ওই সব অস্ত্রের সাথে সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে প্রশাসনের অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মিল থাকায় ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

এ বিষয়ে উখিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মো: তহিদুল আলম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে অস্ত্র মুক্ত করতে প্রয়োজনে সেনা অভিযান পরিচালনার দাবী জানান। একই সাথে ইতোপূর্বে যে সকল এনজিও’র বিরুদ্ধে ধারালো সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে ওই সকল এনজিও সংস্থাকে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে কাজ বন্ধ করে দেয়ার দাবী করেন তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও শেড কর্তৃক সরবরাহকৃত ধারালো অস্ত্রের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রোগ্রাম অফিসার মো: শওকত বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে প্রশাসনের জব্দকৃত কৃষি উপকরণ (ধারালো দা, কুড়াল, নিড়ানি) গুলো স্থানীয় জনগোষ্টির জন্য তৈরি করা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে সরকার ওই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।

এ বিষয়ে মুক্তি কক্সবাজারের প্রধান নির্বাহী বিমল চন্দ্র দে গত বৎসর রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্টির জন্য তৈরিকৃত কৃষি উপকরণ (দা, চুরি, নিড়ানি, কোদাল ইত্যাদি) প্রশাসন কর্তৃক কামারের দোকান থেকে জব্দের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে এসব কৃষি উপকরণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন বলেন, ক্যাম্পে চলমান ঘটনায় ১৫ মামলায় এ পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্রসহ ৬০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতিপূর্বে এনজিও গুলো কি ধরণের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে এবং নতুন করে কি করছে সে সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি অবগত নয়। তবে এনজিও কর্তৃক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহকৃত কৃষি উপকরণের নামে ধারালো সরঞ্জামের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর থেকে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা। বিশাল এই রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে মানবিক আশ্রয় দিলেও দিন দিন নানা অপরাধে জড়িতে পড়ছে তারা। রোহিঙ্গাদের অপরাধে জড়াতে দেশি-বিদেশী কিছু কিছু এনজিও’র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।