ঢাকা, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হওয়ায় ফেলে চলে গেলেন মা-বাবা

প্রকাশ: ২০২২-০৪-০৬ ১১:৪৭:৩২ || আপডেট: ২০২২-০৪-০৬ ১১:৪৭:৩২

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই:
অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হওয়ায় ফেলে চলে গেলেন মা-বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালে।

জানা গেছে, ২৮ মার্চ রাত প্রায় ৯ টা ৩০ মিনিটে সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম হয় এক শিশুর। জন্মের পর দেখা যায় তার মাথা অস্বাভাবিক মোটা, ঠোঁট আর তালু কাটা ।

চিকিৎসা বিদ্যার ভাষায় যাকে বলে হাইড্রোক্যাফালাস, ক্লেপ্ট লিফ ও ক্লেপ্ট পেলেট।

জন্মের পর পরই শিশুটিকে হাসপাতালের শিশু কেয়ারে রাখা হলেও শিশুটির অস্বাভাবিক অবস্থার কথা শুনে তার পিতা মাতা একটিবারের জন্যও তাকে দেখতে আসেনি বরং শিশুটিকে নিতে তারা অস্বীকৃতি জানায়।

তারা চিকিৎসকদেরকে জানান, এই বাচ্চা দেখলে তাদের অকল্যাণ হবে। শিশু জন্মের ৪ দিন পরও তার মা হাসপাতালে তার নিজের চিকিৎসা নিলেও পাশাপাশি ওয়ার্ডে থেকেও শিশুটিকে একটিবার দেখতে যায়নি। এবং গত ১ এপ্রিল বাচ্চাটির মা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন চন্দ্রঘোনা খ্রীস্টিয়ান হাসপাতালে কর্মরত বিদেশী চিকিৎসক টিমের সদস্যরা।

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ প্রবীর খিয়াং জানান, এঘটনা জানার পর বিদেশী চিকিৎসক টিমের সদস্যরা হাসপাতালে বাচ্চাটিকে দেখতে আসেন এবং বাচ্চাটির দায়িত্ব নেয় তারা। জন্মের দিন সারারাত শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে থাকেন চিকিৎসক দলের এক গৃহীনি
সারানুল। এই দলের অন্যতম চিকিৎসক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ আমেরিকার চিকিৎসক ডাঃ এলিজাবেথের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে শিশুটির চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।

বুধবার সকালে সরেজমিন হাসপাতালের ৭ নং ক্যাবিনে গিয়ে দেখা যায়, ডাঃ এলিজাবেথ শিশুটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তিনি জানান, অত্যন্ত মানবিক কারনে আমরা তার দায়িত্ব নিয়েছি। ইতিমধ্যে তার অপারেশনের জন্য আমরা পরীক্ষা নীরিক্ষা করেছি। রিপোর্ট হাতে আসলেই আমরা তার অপারেশনের ব্যবস্থা করবো। এটা একটি জটিল অপারেশন। তবে তিন মাসের আগে এই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব নয়। তবে আমরা আশা করছি অপারেশনের পর শিশুটি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

ইতিমধ্যে খবর পেয়ে শিশুটির দায়িত্ব নিতে হাসপাতালে ছুটে আসেন চট্টগ্রামের ব্যাটারী গলির মিনু বারিকদার। বুধবার সকালে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, আমি নিজ সন্তানের মতো শিশুটিকে লালন পালন করবো।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বিলাইছড়ি উপজেলার ৩ নং ফারুয়া ইউনিয়নের ধোপাছড়ি গ্রাম থেকে এক উপজাতী দম্পতি হাসপাতালে আসে এবং সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।