ঢাকা, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

লাশ উদ্ধারের ৫ দিনপরও জসিম হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটন হয়নি

প্রকাশ: ২০২২-০২-২০ ২১:০৭:৪৩ || আপডেট: ২০২২-০২-২০ ২১:০৭:৪৩

# সন্ধিগ্ধ দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
# আত্নগোপনে নিহত জসিমের ব্যবসায়ীক সহযোগি নয়ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
উখিয়ায় নিখোঁজ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন (৩৫) এর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো উদঘাটন হয়নি হত্যাকান্ডের মূল কারন। তবে তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে হত্যার ক্লু উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইশৃংখলা বাহিনী।

এদিকে জসিম হত্যার পর থেকে পুলিশের চোখে আলোচিত সেই নয়ন ‘আত্নগোপনে কেন? এই প্রশ্ন এখন পুলিশের পাশাপাশি সচেতন মহলের মাঝে। আত্নগোপনে থাকা নয়ন এক সময় জসিমের ব্যবসায়ীক সহযোগি ছিল বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি নয়ন ও জসিমের মধ্যে নানা কারনে ব্যবসায়ীক দ্বন্দ সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় ও পুলিশের সূত্রে জানা গেছে। দ্বন্দের কারনে জসিমকে হুমকিও দেয় নয়ন!

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, নয়নের কাছ থেকে জসিম ৪০ হাজার টাকা পাওয়ানা ছিল! ঘটনা পর থেকে সেই নয়ন আত্নগোপনে চলে যাওয়ার কারনে সহ্নের তীর অনেকটা তার দিকে! তবুও পুলিশ পৃথক দুইটি ব্যবসায়ীক দ্বন্দ, পরকিয়ার ঘটনাকে সামনে রেখে অগ্রসর হচ্ছে। এদিকে এই ঘটনায় উখিয়া থানা পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে শনিবার আদালতে প্রেরন করেছে।

এরা হলেন- জসিমের ম্যানেজার জামাল উদ্দিন ও গোডাউনের অংশিদার নুরুল ইসলাম।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া উপজেলা হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার বাসিন্দা ছলিম উল্লাহর ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৫) মরিচ্যাবাজারস্থ নাঈমা এন্টারপ্রাইজ নামীয় ডিলার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সে মরিচ্যা বাজার এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হন।

জসিম উদ্দিনের স্ত্রী জোসনা আকতার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর সাথে কারো বিরোধ নেই। ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে স্বামীর সাথে ফোনে কথা হলে কিছু বাজার নিয়ে আসার জন্য বলি। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকেও বাড়ী না ফেরায় পুনরায় মোবাইলে চেস্টা করলে তার ব্যবহৃত ০১৮৮১২২৫৩২২ ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। সারারাত না ফেরায় ভোর পৌনে ৫টার দিকে পরিবারের লোকজনসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখি অফিস ও গোডাউনে তালা লাগানো ছিল।

উখিয়া থানা উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন বলেন, জসিম হত্যায় জড়িত সন্দেহভাজন দুইজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর ৬৯, তারিখ-১৫/০২/২০২২ইং।

হত্যাকান্ডে সন্ধিগ্ধ দুইজন আটকের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনে রিমান্ডের আবেদন করবে এমনটি জানিয়েছেন উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারের পুলিশ পরিদর্শক তৌহিদুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীক দ্বন্দসহ তিন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে জসিম হত্যার তদন্ত চলছে। তিনি মনে করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জসিম হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।