ঢাকা, বুধবার, ১৮ মে ২০২২

আ’লীগ নেতার মেয়ে বিয়ে করলেন জামায়াত নেতার ছেলে

প্রকাশ: ২০২২-০২-০৬ ২০:১৫:১২ || আপডেট: ২০২২-০২-০৬ ২০:১৫:১২

অতিথি প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের মেয়েকে বিয়ে করেছেন জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এড. শাহজালাল চৌধুরী ছেলে।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে হোটেল-মোটেল জোনের তারকা হোটেল সী-গালে শাহজালাল চৌধুরীর ছেলে আইনজীবী হাসানুল বান্নার সাথে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের মেয়ে সুফিয়ার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

হাসানুল বান্না জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর ভাতিজা।

এদিকে, এ বিয়েকে ঘিরে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তারকা হোটেল সী-গালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জামায়াত-জাপা-এবি পার্টিসহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতাদের মিলনমেলা বসে।

অতিথি হয়ে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী, সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সরকার দলীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, নারী সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদি, জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারী, উখিয়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, এবি পার্টি নেতা শামসুল হক শারেকসহ সকল রাজনৈতিক দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।

আ'লীগ নেতার মেয়ে বিয়ে করলেন জামায়াত নেতার ছেলে
আসেন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও আইনজীবী, সাংবাদিক, আলেম ওলামা ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ এবং পারিবারিক আত্মীয় স্বজনরা।

রাজনীতির মাঠে একধরনের মুখ দেখাদেখি বন্ধ বিরোধী রাজনীতিবিদদের। কিন্তু বিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত ও এবি পার্টির নেতারা একাত্ম হয়ে একই টেবিলে খাবার গ্রহণের পর সবাই মিলে জমিয়ে আড্ডা দেন। প্রাণবন্ত ওই আড্ডায় উঠে আসে পুরনো দিনের রাজনৈতিক অনেক স্মৃতি এবং বর্তমান অবস্থা।

আলোচনা হয় বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনে গঠিত সার্চ কমিটি নিয়েও। এনিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে কথা হলেও আলাপের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত হাস্যোজ্জল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।

আলোচনায় বক্তব্য নিজের মতের বাইরে গেলেও কারো চোখেমুখে কোন রাগ বা বিরক্তি দেখা যায়নি বলে উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে।

রাজনীতিতে বৈরীভাব থাকলেও সামাজিক অনুষ্ঠানে জেলার সকল রাজনীতিকদের এমন সৌহার্দপূর্ণ উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সাধারণ অতিথিদের বিমোহিত করেছে। অনেকে সবার একসাথে বসে আলাপচারিতার স্থির চিত্র তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছেন। সেখানে সিংহভাগই একে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করছেন।

এ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে লম্বা স্ট্যাটাস দিয়েছেন এবি পার্টির নেতা ও প্রবীণ সাংবাদিক শামসুল হক শারেক।

উপসংহারে তিনি লিখেছেন, এ বিয়ে অনুষ্ঠানের মতোই যদি আমাদের সমাজ ও দেশের পরিবেশটা হতো! সব দলের নেতারা একসাথে বসে যদি আমাদের সমাজ এবং দেশটা পরিচালনা করতো, তাহলে কতই না ভালো হতো!

বর-কনের পরিবার সূত্র জানায়, আগেই আকদ সম্পন্ন হয়েছিলো হাসানুল কান্না ও সুফিয়ার। কিন্তু করোনার কারণে বিবাহত্তোর সংবর্ধনা করতে পারেননি। শনিবার তারকা হোটেল সী-গালে সীমিত পরিসরে করা হয় আনুষ্ঠানিকতা।

এতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, এবি পার্টিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও কোন নেতাই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।