ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন সন্ত্রাসী গ্রুপ থাকবে না : এসপি নাইমুল হক

প্রকাশ: ২০২২-০২-০৩ ২০:০০:৪৯ || আপডেট: ২০২২-০২-০৩ ২০:০০:৪৯

 

পলাশ বড়ুয়া: 
ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সংগঠিত কোন বাহিনী কিংবা গ্রুপ থাকতে পারবেনা। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছে। রোহিঙ্গাদের শুধুমাত্র মানবিক আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবুও কেউ যদি কোন অপরাধে জড়িত হয়, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় উখিয়া উপজেলার কোটবাজারস্থ অস্থায়ী সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো: নাইমুল হক পিপিএম এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক মাদক, চোরাচালান, কালোবাজারি, অস্ত্র পাচার রোধ এবং রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারেও ক্যাম্প পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

এসপি নাইমুল হক বলেন, গত এক বছরে তাদের দায়িত্বাধীন ১৫টি ক্যাম্প এলাকা থেকে ২২০ জন কথিত আরসা সদস্যসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৮৬৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫০ পিস ইয়াবা, ৪০ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা,৪৪৭ মিনিক্যান বিদেশী বিয়ার,দেশীয় তৈরী ৫ বোতল মদ, বিদেশী ৮৫০ মিঃলিঃ তরল মদ।

ধৃতদের উখিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। এ সংক্রান্ত ১৮৬ টি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

এছাড়াও অভিযানে ১টি বিদেশী অস্ত্রসহ ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০০টি বিভিন্ন প্রকারের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তিনি এও বলেন, ১৪ এপিবিএন ও ক্যাম্প ইনচার্জদের সহযোগিতায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত গ্রেফতার করা ৪৬০জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ১০ লাখ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

পাশাপাশি এপিবিএন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গত বছরের ১৯ জুন ৩টি স্বর্ণের বার সহ ৮০৪ গ্রাম স্বর্ণালংকার,২৬ লাখ ৩ হাজার ১২০ নগদ টাকা,৩১লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ মিয়ানমার (মুদ্রা) কিয়াত উদ্ধার করা হয়। এসংক্রান্তে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রুজু করা হয়।

এপিবিএন রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আজিজুল হকসহ জড়িত ১২ জন কে গ্রেফতার করা হয়। তৎমধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করে।

গত বছরের ২২ অক্টোবর ৮ এপিবিএন’র আওতাধীন ১৮ নং ক্যাম্পে দারুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ৬ খুনের ঘটনায় জড়িত আরাফাত উল্লাহকে ঘটনা সংগঠিত হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গ্রেফতার কর‍তে সক্ষম হয় ১৪ এপিবিএন পুলিশের বিশেষ অভিযানিক দল। ধৃত আরাফাত ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

অপরদিকেগত ১৬ জানুয়ারী ১৪ এপিবিএন পুলিশের বিশেষ অভিযানিক দল ড্রোন অভিযানের মাধ্যমে কথিত আরসার শীর্ষ নেতা আতাউল্লাহ জুনুনীর সৎভাই শাহ আলী কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এসময় শাহ আলীর নিকট থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে জানান।

মতবিনিয় সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন ১৪ এপিবিএন’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শরীফুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুূদ আনোয়ার,পীযুষ চন্দ্র দাশ, সহকারী পুলিশ সুপার ও ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ ইমরানুল হক মারুফ, হাসান মাহমুদ, শাকিল আহমেদ, সুব্রত কুমার সাহা, ফরমান আলী উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় উখিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন, উখিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম আনোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি রফিক উদ্দিন বাবুল, সাবেক সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন, সহ সভাপতি হুমায়ুন কবির জুশান, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আমানুল হক বাবুল, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিক আজাদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ,বড়ুয়া, যুগ্ন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম আজাদ, দপ্তর সম্পাদক রফিক মাহমুদ, সদস্য ইমরান খান প্রমুখ।