ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

গ্রাজুয়েশন হওয়ার পর থেকে স্বামী আর নির্যাতন করে না

প্রকাশ: ২০২২-০১-১০ ০০:৩৮:৫৬ || আপডেট: ২০২২-০১-১০ ০০:৪১:০৭

পলাশ বড়ুয়া: 
সংসারে অভাব-অনটন লেগে লাগত। তার উপর স্বামীর পরকীয়ার কারণে সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্বামীর নির্যাতনের কারণে কয়েকবার বাবার বাড়ি চলে গেছিলাম। শেষবার গফুর উদ্দিন চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় ফিরে আসি। এরপরও মাঝে মাঝে রাত-বিরাতে স্বামী বাড়ি ফিরে কারণে-অকারণে শারীরিক নির্যাতন করত।

বর্তমানে স্বামীর সংসারে খুবই ভালো আছি। দু’জনই বুঝেছি সংসারটি একজনের নয়। সংসার সুখ-শান্তিময় করতে দুইজনের অংশগ্রহণ এবং পারষ্পরিক বোঝাপড়া জরুরী। গ্রাজুয়েশন পরিবার হওয়ার পর থেকে আমার স্বামী আমাকে আর নির্যাতন করে না।

কথা গুলো বলছিলেন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের দূর্গম ৬নং ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ার বাসিন্দা নুর আলমের স্ত্রী আজিজা খাতুন (৩০)।

আজিজা বলেছেন, ২০০৯ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ভিশন ‘জরুরী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোকে কাজের বিনিময়ে অর্থ, জীবিকা, আয়বর্ধন কার্যক্রম, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা রোধে পুরুষ সম্পৃক্তকরণ ও পুষ্টি কার্যক্রমে গ্রামের নারী-পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন।

এতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে পুরুষ সম্পৃক্তকরণ প্রশিক্ষণের পর থেকে আমার স্বামীর মানসিক উন্নতি হয়েছে। এখন নির্যাতন করে না। নির্যাতন করলে হটলাইন ১০৯ নাম্বারে ফোন করে দিব।

এ বিষয়ে নুর আলম (৪৫) বলেন, সংসারে কোন কারণে রাগ উঠলে ২/৪ ঘন্টার জন্য বেরিয়ে যায়। মাথা ঠাণ্ডা হলে বাড়ি ফিরে আসি। কারণ স্বামী-স্ত্রীর অংশগ্রহণমূলক এসব প্রশিক্ষণের মধ্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ। বাল্য বিবাহ বন্ধ। দ্বন্দ নিরসন। ক্ষমতায়ন। নারীর কাজে পুরষের সম্পৃক্ততা। গ্রাজুয়েজশন সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, ৬টি সেশনের পর থেকে আর স্ত্রীকে শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন করিনা। স্ত্রীর অসুখ হলে আমি রান্না করি। সংসারের অন্যান্য কাজেও সহযোগিতা করি। এমনকি রাতে মশারিটাও আমি টাঙিয়ে ঘুমায়।

তিনি এও বলেন, সংসারের অভাবের কারণে আমাদের বড় ছেলেটা পড়ালেখা করতে পারিনি। সে গ্যারেজে কাজ করে। বর্তমানে বাকী ৩ ছেলে-মেয়ে লেখাপড়া করছে। তাদের বাল্য বিয়ে দিব না। এলাকায় কেউ বাল্য বিয়ে দিলে তা বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছি।

একই ধরণের কথা বলেছেন পালংখালী তেলখোলা এলাকার আব্দু সালামের ছেলে কামাল উদ্দিন (২৮) ও তার স্ত্রী দিল জুহুরা (২৫)।

গ্রাজুয়েশন হওয়ার পর থেকে স্বামী আর নির্যাতন করে না
ছবি : সন্তানদের নিয়ে কামাল উদ্দিন ও দিল জুহুরা দম্পতি।

কামাল বলেন, ম্যান কেয়ার মিটিং করে সচেতন হয়ে একটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। আগে হালকা হলেও আমাদের সংসারে এখন কোন ধরণের ঝামেলা হয়না।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় ওয়ার্ল্ড ভিশনের জিবিভি প্রিভেনশন অফিসার কে.এম মুজিবুল আলমের সাথে। তিনি বলেন, এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে “সংসারে শান্তি আনয়ন”।

বর্তমানে উখিয়ায় ৩টি এবং টেকনাফে ২টি ইউনিয়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে প্রকল্পটি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।

তিনি আরো বলেন, দুই উপজেলায় ২০০টি গ্রুপে ৪ হাজার নারী-পুরুষ প্রতিমাসে একটি করে সেশন পেয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫০০ পরিবার গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। বাকী ৫০০ পরিবার প্রক্রিয়াধীন। মূলত: এসব পরিবারের কাজ হচ্ছে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বাল্য বিবাহ বন্ধ করা। প্রয়োজনে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করা।