ঢাকা, শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২

বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণে আত্মনির্ভর পুরো দেশ

প্রকাশ: ২০২১-১২-১৬ ০৮:৪৯:৩০ || আপডেট: ২০২১-১২-১৬ ০৮:৪৯:৩০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

১৯৭৩ সালের বিজয় দিবস। বাংলাদেশের মানুষ তখন স্বাধীন দেশে নানা চড়াই উৎড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা শিখছে। জাতীয় দিবস পালনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু ১৫ ডিসেম্বর এক ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে পুরো জাতি। তার কিছুদিন আগেই ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগের দুর্ভোগ ভুলে মেতে উঠেছিল সেদিন বিজয়ের আনন্দ উদযাপনে।

আত্মপ্রত্যয়ে প্রদীপ্ত অনন্য একটি দিনঃ

এদিন আত্মপ্রত্যয় প্রদীপ্ত জাতীয় দিবস পালন হয়। এদেশের সংগ্রামী মানুষের এই প্রত্যয়ের উজ্জ্বল প্রকাশ ঘটে জাতীয় দিবসের মিছিলে স্লোগানে, পোস্টারে ও ফেস্টুনে। আর লাখো জনতার দৃপ্ত পদক্ষেপে ঘোষিত হয় এগিয়ে চলা বলিষ্ঠ উচ্চারণ। সেদিন রাজপথ সশস্ত্রবাহিনী আর সর্বস্তরের মানুষের পদভারে মুখর হয়েছিল।

-পরিবেশ কেমন ছিল?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গগনে সূর্য তখন ওঠেনি। ঘন কুয়াশায় ঢাকা রাজধানী। কিন্তু মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ মানে না। এরই মধ্যে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়। ছুটেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ছুটেছে রাস্তার ধারে ধারে। জায়গা নিয়ে দাঁড়াতে শুরু করেছে রোডমার্চ দেখার জন্য। সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই উৎসাহ-উদ্দীপনা সারা শহর হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

জাতীয় দিবস উপলক্ষে গণ ঐক্যজোটের ও জোটের পক্ষ থেকে এই দিনে একটি মিছিল বের করা হয়। উদ্যান থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রক্ষীবাহিনী, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সম্মিলিত ঐতিহাসিক উৎসব ও প্রাণচাঞ্চল্য মুখর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমণ করে।

মিছিলে ঐক্যজোটের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আব্দুর রাজ্জাক, গাজী গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ন্যাপের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মতিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কমরেড ফরহাদ, আব্দুস সালামসহ আরও অনেকে। এসব সংগঠনের নারী-পুরুষ মিছিল সহকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সোহরাওয়ার্দী ময়দানে এসে জমা হয়। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগানসহ অসংখ্য প্ল্যাকার্ড।

রোডমার্চ দেখার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শহরে রাস্তার দুপাশে, শেরেবাংলা নগর থেকে শুরু করে শাহবাগ পর্যন্ত মানুষ আর মানুষ।

এই দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলী অর্জন করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে শেরেবাংলা নগরের অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছান। কিছু সময় পরে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। বিউগল বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানানো হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় রোডমার্চ ‘চল চল চল ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ বাজনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনী, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ এই বাজনার তালে রক্ষীবাহিনী এবং অন্যরা জোর কদমে এগিয়ে নিপুণভাবে অভিনন্দন জানান।

দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ আর মল্লিক পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানে এক ভাষণে ডক্টর মল্লিক স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল হতে হবে এবং এজন্য সহনশীলতা ও অধ্যাবসায় এবং কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। মল্লিক স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মৈত্রী বন্ধন অটুট থাকবে ও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

সিএসবি-টুয়েন্টিফোর-১৬/১২-থ,