ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

ভারতবর্ষের মাটি বুক চিড়ে জানিয়ে দিচ্ছে এই মাটি বুদ্ধের

প্রকাশ: ২০২১-১১-০৫ ০১:৫৩:২৯ || আপডেট: ২০২১-১১-০৫ ০১:৫৩:২৯

ড. বরসম্বোধি ভিক্ষু, ভারতঃ


প্রায় দু’হাজার বছরেরও অধিক পুরোনো মহামতি ভগবান বুদ্ধের অষ্টধাতুর এক বিশাল প্রতিবিম্বের সন্ধান পাওয়া গেছে। গত রোববার (২৪’শে অক্টোবর) ভারতের উত্তর প্রদেশের নেপাল সীমান্ত লাগোয়া জিলা “সিদ্ধার্থ নগর” শহরের মাঝখানেই নদীতে হিন্দুদের অন্যতম বড় পর্ব আসন্ন ছঠ পূজা উপলক্ষে ছঠ ঘাট পরিস্কার-পরিচ্ছন্নের কাজ করতে গিয়ে জামুআরর নদীতে ভগবান বুদ্ধের এই প্রাচীন প্রতিবিম্বের সন্ধান পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন, প্রতিবিম্বটি প্রায় দু’হাজার বছরেরও অধিক প্রাচীন। অষ্টধাতু দ্বারা নির্মিত এ প্রতিবিম্বের বর্তমান মূল্য দশ কোটি রূপী বলে ইতোমধ্যে সরকার পক্ষ হতে ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে শহরের নগরপালিকা তথা পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জামিল সিদ্দীকী জানান, তিনি জামুআরর নদীতে নির্মিত পর্ব উপলক্ষে ছঠ ঘাট পরিস্কার করাচ্ছিলেন। শ্রমিকেরা যখন নদীতে নেমে ঘাটের অাশে-পাশের নদীর কিনারা পরিষ্কার করছিলেন তখন তারা এ প্রতিবিম্বের সন্ধান পান এবং তা দেখার পর তিনি রীতিমতো আশ্চর্যান্বিত হন।

ভগবান বুদ্ধের এ প্রতিবিম্বটি দু’ফুট উচ্চতাসম্পন্ন এবং অনেক ভারী ছিলো। মেয়র দেখমাত্রই বুঝতে পেরেছিলেন ইহা অতীব প্রাচীন এবং ইহার মহত্বতা তিনি উপলব্দি করেন। কালবিলম্ব না করে প্রশাসনকে খবর দিলে প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং সবাই অনুমান করেছেন যে, এটি নদীতে জলের সাথে অন্যত্র কোথাও হতে প্রবাহিত হয়ে এসেছে। সিদ্ধার্থ নগর জিলায় ভগবান বুদ্ধের পিতা রাজা শুদ্ধোদনের রাজধানী প্রাচীন কপিলবাস্তু নদীর সাথে লাগোয়া। আসলে কপিলবাস্তু হলো বজহাসাগরের নিকটে। বজহাসাগরের জল জামুআরর নদীতে এসে পড়ে থাকে। সম্ভবত, বুদ্ধের পুরাতাত্ত্বিক ক্ষেত্র হতে এ প্রতিবিম্বটি নদীতে প্রবাহিত হয়ে এ ঘাট পর্যন্ত এসে পৌছেঁছে।

বর্তমানে পুলিশ বিভাগ ইহাকে অষ্টধাতুর প্রতিবিম্ব বলে উল্লেখ করে ইহার মূল্য দশ কোটিরূপী নির্ধারণ করেছে এবং ইহাকে দু’হাজার বছরেরও অধিক প্রাচীন হওয়ার সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছে। বুদ্ধের প্রতিবিম্বটিকে দেখার জন্য সেখানে নিয়ত হাজারো লোকের সমাগম হচ্ছে এবং এটি এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের সংরক্ষণে রয়েছে।

এ সম্পর্কে নগর পালিকা মোহাম্মদ জামিল সিদ্দীকী বলেছেন যে, এ প্রতিবিম্বটি একটি অতীব মূল্যবান ও মহত্বপূর্ণ। প্রতিবিম্বটির কলাত্ম নৈপুণ্যতা দেখে বৌদ্ধ কালের স্বর্ণিম যুগের ইতিহাস পুন: স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।