ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর শাসন আমলে রেকর্ড পরিমাণ খুন!

প্রকাশ: ২০২১-১০-৩০ ২০:১৬:০৭ || আপডেট: ২০২১-১০-৩০ ২০:১৬:৩২

 

বার্তা পরিবেশক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় রত্নাপালং ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা, সমর্থকদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রাথী (ঘোড়া প্রতীক) নুরুল কবির চৌধুরীর যত অভিযোগ।

৩০ অক্টোবর বিকেলে উখিয়া প্রেস ক্লাবের হল রুমে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

এসময় নুরুল কবির চৌধুরী বলেন, রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর শাসন আমলে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ জন খুন হয়েছে। স্বাধীনতার পর যা ইতিহাস। তার বিচার ব্যবস্থার দূর্বলতার, বিলম্বিত শালিশ, অদক্ষতা এবং পক্ষপাতিত্বের কারণে এসব খুনের ঘটনা ঘটেছে।

বিভিন্ন কৌশলে তিনি সব সময় ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে ১, ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের জনগনের উপর হিটলারের শাসন কায়েম করেছেন। তার এবং তার সন্ত্রাসীর বাহিনীর কাছে অসংখ্য বৈধ ও অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। নির্বচনের পূর্বে এগুলো উদ্ধার করা না হলে রত্না পালং ইউনিয়নের কোনভাবেই সুষ্ঠু ভাবে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

অতীতের সকল সংসদ নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং ইউপি নির্বাচন গুলোতে রত্নাপালং ইউনিয়নের ১,২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে কখনো সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়নি।

তিনি ইতিমধ্যে প্রভাব খাটিয়ে আমতলী ও তেলীপাড়ায় আমার নির্বাচনী অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। আমার সমর্থক ও কর্মীদের উপর হামলা করেছে।

খাইরুল আলম চৌধুরী নিজে এবার প্রার্থী হয়নি, অথচ চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদার পক্ষ নিয়ে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা দেখিয়ে মাঠে ময়দানে প্রকাশ্যে রাম রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ইউনিয়ন পরিষদকে নৌকা প্রতীকের অফিস হিসাবে ব্যবহার করছে এবং সরকারি সাহায্য গুলো প্রদান করতেছে।

নুরুল হুদা ও সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণের দেওয়া হবে বলে ভোটাদের কাজ থেকে আইডি কার্ড সংগ্রহ করে নিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে ফেলতেছেন। যা নির্বাচনী আচরণ বিধির সম্পুর্ণ লংঘনের সামিল।

একজন ব্যক্তি বর্তমান চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বে থেকে কিভাবে অন্য একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়ক বা কর্মী হিসাবে কাজ করেন? নির্বাচনের পূর্বে তাকে খাইরুল আলম চৌধুরীক এলাকা ত্যাগের নির্দেশনা সরকারীভাবে দেওয়া না হলে, তিনি এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করে তুলে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করবেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী নিজে প্রার্থী না হয়ে এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত এবং সংঘাতময় করে তুলে সুকৌশলে নির্বাচন বানচাল করে চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

এ সময় তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন, এলাকার সাধারণ জনগনের নিরাপত্তা, সকল প্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অধিক ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্রে আইপি ক্যামরা স্থাপন, পর্যাপ্ত বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন, নির্বাহী ম্যাজিস্টেট্র নিয়োগ এবং সার্বক্ষণিক সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ টীম থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানান।

এক প্রশ্নে নুরুল কবির চৌধুরী বলেন, আমি কেন বৌদ্ধ মন্দির হামলার আসামি হবো? খাইরুল আলম চৌধুরীর সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হুদাই কোটবাজার বৌদ্ধ মন্দির হামলার নাটেরগুরু, তার প্রতিপক্ষদের মামলায় আসামি করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তিনি উক্ত ঘৃণিত হামলার ঘটনা ঘটিয়ে ছিলেন। অথচ কোটবাজার বৌদ্ধ মন্দিরের হামলা হওয়ার পূর্বেই উক্ত মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নুরুল হুদাকেই তৎকালীন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাযিত্ব দেওয়া হয়েছিল।

নুরুল হুদার নিজের এলাকা ছাড়া রত্নাপালং ইউনিয়নের অন্য কোন এলাকায় তো বৌদ্ধ মন্দির ভাংচুর হয়নি, এর থেকে কি প্রমাণ হয়? নুরুল হুদা নিজের এলাকার বৌদ্ধ সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

চেয়ারম্যার প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরী আরো বলেন,
চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী ও নৌকা মার্কার প্রার্থী নুরুল হুদা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে মাইকে ঘোষণা করেছেন, ৫ নভেম্বরের পর আমাকে, আমার কর্মী ও সমর্থকদের ঘর থেকে বের হতে দিবে না। রত্না পালং ইউনিয়নের কোন জায়গায় আমার কোন পোস্টার ও ব্যানার থাকতে না, সব ছিঁড়ে ফেলবে এবং প্রচার প্রচারণা চালাতে দিবে না।

তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন, জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও রিটানিং অফিসারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।