ঢাকা, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদ্রাসায় নারকীয় হত্যাকান্ডে নিহত-৬, আহত-২০

প্রকাশ: ২০২১-১০-২২ ১৯:২৫:৫৪ || আপডেট: ২০২১-১০-২২ ১৯:৪২:২০

 

পলাশ বড়ুয়া ॥

আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। এবার মাদ্রাসায় ডুকে নারকীয় হত্যাকান্ড চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় ৬জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত: আরো ২০জন। রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাষ্টার মুহিববুল্লাহ হত্যাকান্ডের এক মাস না হতেই আবারো মাদ্রাসায় ডুকে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায় সন্ত্রাসীরা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অব্যাহত হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না সাধারণ রোহিঙ্গারা। পুরো ক্যাম্পজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালিয়ে ঘটনাস্থলে ৪জন এফডিএমএন সদস্যকে হত্যা করেছে। এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ গুরুতর আহত হয়েছে আরো ২০জন। আহতদের উদ্ধার করে থেকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরো ২জন মারা গেছে।

এ ঘটনায় হামলাকারীদের একজন মুুজিবুর রহমান (১৭) কে অস্ত্রসহ আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সে ক্যাম্প-১১ এর ব্লক এ/২ এর আবুল কালামের ছেলে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি ও একটি দেশীয় ছুরি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

নিহতরা হলো, ক্যাম্প-১২ এর মাদ্রাসা শিক্ষক মো. ইদ্রিস,ক্যাম্প-৯ এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম হোসেন,ক্যাম্প-১৮ এর নুরুল ইসলামের ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র আজিজুল হক, ক্যাম্প-১৮ এর আবুল হোসেনের ছেলে মো. আমিন।

পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা গেছে আরও তিনজন। তারা হলো, ক্যাম্প-১৮ এর মোহাম্মদ নবীর ছেলে নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), ক্যাম্প-২৪ এর মাদ্রাসা শিক্ষক রহিমুল্লাহর ছেলে হামিদুল্লাহ(৫৫) ও ক্যাম্প-১৮ এর নুর মোহাম্মদ এর ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র নুর কায়সার(১৫)।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ময়নারঘোনা ১৮নং ক্যাম্পে ৫২ ব্লকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় লৌমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটেছে।

এপিবিএন প্রথমে ৭জন নিহতের বিষয়টি জানালেও পরে মাঝিদের সূত্রে ক্যাম্প-১৮ এর নুর মোহাম্মদ এর ছেলে মাদ্রাসা ছাত্র নুর কায়সার(১৫) নামে একজন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে বলে জানায়।

এদিকে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চাচ্ছে না। যদি কেউ তাদের অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ে মিডিয়ার সামনে এসে কথা বলে কিংবা নাম প্রকাশ করে তাহলে তাদেরকে রাতের আঁধারে হত্যা করা হবে বলে জানিয়েছেন খোদ নিহতদের একজনের ছোট ভাই।

৮-এপিবিএন ও পুলিশ নিহত ৬জনের লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয় বলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন।

৮ এপিবিএন এসপি মো. শিহাব কায়সার খান বলেন, শুক্রবার ভোরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৬জন রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। জড়িত থাকার অপরাধের একজনকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্যাম্পে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এপিবিএন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ‘মদুতুল উম্মা’ মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় ৩ টা পর্যন্ত ব্লকরেইড পরিচালনা করে, অন্যান্য ক্যাম্প এলাকায়ও একই সাথে ব্লক রেইড পরিচালনা করা হয়।

খবর পেয়ে কক্সবাজার ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার শামছুদ্দৌজা নয়ন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ডিউটি অফিসার।

উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে নিজ অফিসে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গুলিতে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহ নিহত হয়। এরপর থেকে প্রতিটি ক্যাম্পে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভয়-আতংকে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।