ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ ৮টি মন্ডপে দূর্গাপুজা শুরু

প্রকাশ: ২০২১-১০-১১ ২০:৩৬:৫৩ || আপডেট: ২০২১-১০-১১ ২০:৩৬:৫৩

নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের ৪টি মোবাইল টীম

পলাশ বড়ুয়া:
সারাদেশের ন্যায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গাপুজাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এবার উখিয়ায় ৭টি পূজামন্ডপ এবং ৮টি ঘটপুজার মাধ্যমে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়াও মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পালিয়ে আসা হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও পুজার আয়োজন চলছে পুরোদমে।

উখিয়ার পুজামন্ডপ গুলোর মধ্যে ধুরুংখালী-১টি রুমখাঁবাজার-১টি, কাশিয়ারবিল-২টি, হারাশিয়া খালকাঁচা পাড়া-১টি, উখিয়া সদর দারোগা বাজার-১টি, বালুখালী-১টি। এছাড়াও ৮টি ঘটপূজা রয়েছে। অপরদিকে কুতুপালংয়ে আশ্রিত হিন্দু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১টি বলে সূত্রে জানা গেছে।

আজ মহা ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী শারদীয় দূর্গাপুজা শুরু হয়েছে। ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালি হিন্দুদের শারদীয়া দূর্গাপুজা।

এর আগে রোববার পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য পূজা করা হয় বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রবীন্দ্র দাশ রবি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক বালুখালীর একটি পুজা মন্ডপ নিয়ে শংকা কাজ করছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি ভালো আছে।

তিনি এও বলেন, প্রথমে এবার উখিয়ায় শ্মশানের জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে পুজা না করার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাসে পুজা করার সিদ্ধান্ত হয়।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। ঘোড়া এমন একটি বাহন যা যুদ্ধের সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ঘোড়ার পায়ের শব্দও যুদ্ধেরই ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ এই সময়ে যুদ্ধ, অশান্তি, হানাহানির সম্ভাবনা থাকে। পঞ্জিকা বলছে, মা দুর্গার এবার দোলায় গমন। দোলায় গমনের ফলাফল হল মড়ক লাগা।

এদিকে দুর্গোৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে উখিয়ায় পূজার জন্য সাড়ে ৬টন চাউল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উখিয়ার প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। রয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র।

ইউএনও বলেন, পুজারী ও দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত মাক্স, স্যানিটাইজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুজা উপলক্ষে তাঁকে প্রধান করে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি করা হয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, উখিয়ার ৭টি পুজা মন্ডপের জন্য পুলিশের ৪টি মোবাইল টীম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। একই সাথে ক্যাম্প কেন্দ্রিক যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষে পুলিশ কাজ করছে।