ঢাকা, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

মহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডে সন্দেহভাজন আরো ২ রোহিঙ্গা আটক

প্রকাশ: ২০২১-১০-০২ ১৬:১৪:৩৮ || আপডেট: ২০২১-১০-০২ ১৬:৩৯:৪৭

# নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার।
# উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সাধারণ রোহিঙ্গারা।
# আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার।

পলাশ বড়ুয়া ও শহীদুল ইসলাম॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাষ্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে আরো দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ নিয়ে আটক ৩ রোহিঙ্গাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে উখিয়া থানা পুলিশ। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে শংকায় দিন কাটাচ্ছে মামলার বাদীসহ নিহতের স্বজনেরা। এখনো পর্যন্ত সাধারণ রোহিঙ্গাদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। রোহিঙ্গারা তাদের ঘর থেকে আগের মত বের হচ্ছে না। এপিবিএন বলছে ক্যাম্পসহ নিহতের পরিবারের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২ অক্টোবর) ভোর ৪ টার দিকে হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আরো দুই রোহিঙ্গাকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলো উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া ক্যাম্প ১- ইষ্টের বাসিন্দা জকির আহমদের ছেলে জিয়াউর রহমান (৩২) ও মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে আব্দুস সালাম (২৯)। মাস্টার মুহিববুল্লাহ হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ রোহিঙ্গা জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে হত্যাকান্ডের পর থেকে আতংকে দিন কাটাচ্ছে এমন জানিয়েছেন নিহত মুহিববুল্লাহ ভাই হাবিবুল্লাহ। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সন্ত্রাসীরা আমাকে ও পুরো পরিবারকে হত্যা করে লাশ গুম করবে বলে ফোনে এবং হোয়াটসআপে হুমকি দিচ্ছে। তবে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।

লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা আবু সৈয়দ বলেন, এ হত্যাকান্ড কোনো ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। হত্যাকান্ডের ন্যায় বিচার দাবি করছি।

আবু নাছের বলেন, রোহিঙ্গাদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বিশ্বের দরবারে দাবি তুলেছিল মাষ্টার মহিবুল্লাহ। তাকে হত্যা করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গরা ঘর থেকে আগের মতো বের হচ্ছে না।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা জড়িত বিষয়ে এখনো স্বীকার করেনি। নিহতের পরিবারকে হুমকির বিষয়ে জানিনা।

১৪-এপিবিএন’র পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত সন্দেহে আরো দুই জন রোহিঙ্গাকে করে থানায় সোপর্দ করা হয়। এর আগে মোহাম্মদ সেলিম প্রকাশ লম্বা সেলিম নামে একজনকে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকেই ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএন এর টহল বাড়ানো হয়েছে। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১- ইষ্ট সংলগ্ন নিজ অফিসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাষ্টার মুহিবুল্লাহ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং- ১২৬, তারিখ-৩০/০৯/২০২১ইং।