ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

রোহিঙ্গা নেতা মুহিববুল্লাহ’র দাফন সম্পন্ন ॥ মামলা রুজু

প্রকাশ: ২০২১-০৯-৩০ ২১:৩৮:৫৪ || আপডেট: ২০২১-০৯-৩০ ২৩:৫৮:২০

পলাশ বড়ুয়া ॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিববুল্লাহ’র নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

সে আরকান রোহিঙ্গা সলিউডারিটি পিচ ফর হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান। লম্বা শিয়া ক্যাম্প ১ ইষ্ট ব্লক ডি-৭ এর বাসিন্দা মৃত ফজল আহমদের ছেলে।

সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪.৫৫ মিনিটের সময় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১ ইষ্ট সাবেক সেনা বাহিনীর খাদ্য সহায়তা কেন্দ্র-২ আমবাগান চেকপোস্ট থেকে লম্বা শিয়া ওঠনির পশ্চিমে নিহতের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৪-এপিবিএন এর অধিনায়ক মো: নাঈমুল হক জানিয়েছেন, বিকেলে রোহিঙ্গা নেতা মুহিববুল্লাহ’র নামাজে জানাযা ও দাফন শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এখনো ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকান্ডের ঘটনাটি তাদের সংগঠনের আভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে নিহতের ভাই হাবিবুল্লাহ বাদী হয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গা নেতা মুহিববুল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং- ১২৬, তারিখ-৩০/০৯/২০২১ইং।

উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাতে ৯টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১ ইষ্ট সংলগ্ন নিজ অফিসেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে এই রোহিঙ্গা নেতা। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, ২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় আসেন মুহিবুল্লাহ।

এছাড়াও, তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার গণহত্যাবিরোধী যে মহাসমাবেশ হয়েছিল, তা সংগঠিত করেছিলেন মুহিবুল্লাহ।