ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

ইনানীতে ইজারাবিহীন ৫৩টি দোকান, বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২০২১-০৯-১১ ১৮:২১:২৯ || আপডেট: ২০২১-০৯-১২ ০০:৩৬:০৫

পলাশ বড়ুয়া ॥
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে সরকারি খাস জায়গার উপর ৫৩টি দোকান নির্মাণ করে প্রতিবৎসর অর্ধকোটির টাকার বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারি ইজারা না হলেও দোকান প্রতি বৎসরে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে ওই সিন্ডিকেট সদস্যরা। যার ফলে সরকার বৎসরের পর বৎসর বিশাল অংকের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি:মি: দূরে কোরাল পাথুরের ইনানী সী-বীচ। এই বীচে নামার রাস্তায় উভয় পার্শ্বে অর্ধশতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। দোকান গুলোতে পর্যটকদের ভিড় ও আকর্ষণীয় বিভিন্ন পণ্যের সমাহার লক্ষ্য করা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যস্ততম ইনানী বীচের নিচে দিকে গাড়ী পার্কিংয়ের জন্য ২২ লক্ষ টাকায় ইজারা হয়েছে। তবে ৫৩টি দোকান এখনো খাস কালেকশন কিংবা ইজারার আওতায় আসেনি। অথচ সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব দোকান ভাড়া, উপ-ভাড়া দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এদের মধ্যে ছোট ইনানীর মোহাম্মদ হোছনের ছেলে নাজির হোছনের ৫টি দোকান, তার পরিবারের অপরাপর সদস্যরা ৫টি, ছৈয়দ কাশেমের ছেলে ও বিএমসি সদস্য মো: বেলাল-৩টি, শাহ আলমের ছেলে শাহ জাহান ২টি, মোহাম্মদ হোছনের ছেলে আজিজ উল্লাহ, মৃত জাফরের ছেলে আজিম আলীসহ অনেকে এভাবে দোকানের মালিক বনে গেছে।

এছাড়াও সম্প্রতি পুলিশ বক্সের পশ্চিম পার্শ্বে মো: বশির ও মাহমুদুল হক রাতের আঁধারে দোকান নির্মাণ করেছে।

নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা অস্থায়ী ভাবে ব্যবসা করছি। সরকার যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, স্থায়ী স্থাপনা এবং পার্কিং ব্যবস্থা করে দিলে  এই খাত থেকে প্রতিবৎসর বিশাল অংকের রাজস্ব পাবে।

এ ব্যাপারে ইনানী সী-বীচ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজির হোছন বলেন, এটা সরকারি জায়গা। বীচে গাড়ী পার্কিং ইজারা হয়েছে। ৫৩টি দোকান ইজারার আওতায় আসেনি। সরকারি ভাবে দোকান নির্মাণ করে চুক্তিভিত্তিক ভাড়ায় কিংবা ইজারা দিলে প্রতি বৎসর বিশাল অংকের রাজস্ব পাবে।  আমার ১টি দোকান রয়েছে। পরিবারের অপরাপর সদস্যদের নামেও ১টি করে দোকান রয়েছে।

বিএমসি সদস্য মো: বেলাল বলেন, ইনানী বীচে বাঁশ-গাছের তৈরি যে দোকান গুলো রয়েছে সেখানে আমার নামে কোন দোকান নেই। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ছৈয়দ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রীট করায় দোকান গুলো সরকারি ভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ইজারা কিংবা খাস কালেকশনও হচ্ছে না। ইতিপূর্বে প্রশাসন দোকান গুলোর ভেঙ্গে দিয়েছিল। যা পরে আবারো বাঁশ-গাছ দিয়ে তৈরি করেছে। বিস্তারিত জানার জন্য ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করুন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি সদস্য নয়। তাছাড়া ইনানী সী-বীচে কোন স্থাপনা করা যাবে না মর্মে একটি রুল জারি আছে। দোকান গুলো থেকে খাস কালেকশন করা হয় না।