ঢাকা, সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১

উখিয়ায় এক দশক ধরে বহাল তবিয়তে এলজিইডির সোহরাব ॥ নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০২১-০৫-৩১ ১৭:১১:২২ || আপডেট: ২০২১-০৫-৩১ ১৮:০৬:৩২

 

জসিম আজাদ, উখিয়া ॥
তদারকি কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উখিয়া অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে থাকা নিয়েও মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এ কর্মকর্তার খুঁটির জোর নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন উখিয়ার সচেতন মহল।

বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস্ (বিএসআর) অনুযায়ী এক কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার বিধান নেই। অথচ উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন উখিয়ায় টানা একদশক ধরে বহাল তবিয়তে। দীর্ঘ সময় একস্থানে থাকার সুবাদে উখিয়ার প্রায় ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সোহরাবের গড়ে ওঠে বেশ সখ্যতা। এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে অধিকাংশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সিডিউল অনুসারে কাজ না করে ঠিকাদার ও জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে নানা অনিয়ম করে চলেছে অভিযোগ স্থানীয়দের। এমনকি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অলিখিত পার্টনার হিসেবে কাজ করার কথা বলছেন ঐসব স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব উখিয়ায় যোগদানের পর থেকে প্রায় ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেন৷ এ সম্পর্ক এক পর্যায়ে পারিবারিক সম্পর্কে পরিনত হয়। এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে যোগসাজশে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দিতে ও কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি করে অতিরিক্ত মুনাফা পেতে সহায়তা করে আসছেন বলে অভিযোগ এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন, উখিয়ার গয়ালমারার ঠিকাদার ফরিদুল আলম ও সোহরাব অলিখিত পার্টনার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ পাইয়ে দেন। এরা দুইজনে যোগসাজশে কাজ করার নামে ফাঁকি দিয়ে কিংবা নিম্নমানের কাজ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

শুধু তাই নয়, উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মধুর ছড়া এলাকায় মসজিদ রোডের কাজ না করার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মমতাজ কনস্ট্রাকশনের সাথে যোগসাজশে বিল সাবমিট করার অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

অনেক সময় তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের টাকা ফেরৎ না দিয়ে উল্টো ফাইল হারিয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে জামানত আত্মসাৎ করেন জানিয়ে আনিসুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ২০১৬ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করলে ২০১৭ সালের জুনের পর জামানত পাওয়ার কথা থাকলে আজ পর্যন্ত সেই জামানতের টাকা পায়নি। এ ব্যাপারে সোহরাব হোসেনের সাথে অসংখ্য বার যোগাযোগ করলে ফাইল হারিয়ে যাওয়ার অজুহাতে দেয়নি।

কামাল উদ্দিন নামে একজন জানায়, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন দীর্ঘ সময় উখিয়ায় কর্মরত থাকলেও তার পরিবার পরিজন কর্মস্থলে নিয়ে আসেননি। ঢাকার সাভারে থাকা পরিবার পরিজনকে সময় বেশি দিতে হয়। যার ফলে তাকে প্রায় সময় ঢাকায় থাকতে হয়। এ কারণে উন্নয়ন কাণ্ড তদারকিতে ঠিকমত দেখভাল করতে পারে না।

আরেক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে উখিয়ার সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেকে তদারকি অফিসার হিসেবে ২% টাকা আদায় করে বিল দাখিল করেন।

এ ব্যাপারে জানতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর গত তিন দিনে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।

একই বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৮ সালের শেষের দিকে জয়েন্ট করেছেন। এর আগের কোন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে বাধ্য না। এক পর্যায়ে রেগে গিয়ে সব অভিযোগ ভূয়া উল্লেখ করে অফিসে আসেন বলে ফোন কেটে দেন।