ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

করোনাভাইরাসের প্রকোপে ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লকডাউন ঘোষণা

প্রকাশ: ২০২১-০৫-২১ ১৪:০০:৪০ || আপডেট: ২০২১-০৫-২১ ১৪:০৬:৩৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফের ৫টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে লকডাউন ঘোষণার নির্দেশনা জারি করেছে ক্যাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (২১ মে) সকাল থেকে ক্যাম্প গুলোতে লকডাউন শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ মে) রাত ১২টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছু-দৌজা নয়ন।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জানান, পাঁচটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লকডাউন শুরু হয়েছে। যা পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্প গুলো হলো উখিয়ার ২-ডব্লিউ, ৩, ৪, ১৫ এবং টেকনাফের ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য মতে, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে উখিয়ার ৪টি এবং টেকনাফের ১টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লকডাউন ঘোষণা করেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।
এদিকে বুধবার পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৩ জন এবং এদের মধ্যে মারা গেছেন ১৩ জন রোহিঙ্গা। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪১ হাজার ৪৭৭ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬৩৯ জন রোহিঙ্গা। আইসোলেশনে রয়েছে ২১১ জন।
অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সামছু-দৌজা জানান, করোনা মহামারির দ্বিতীয় প্রকোপে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংক্রমণের হার বেড়েই চলছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে করোনা সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বগতিতে থাকা ক্যাম্পগুলোতে লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে উখিয়া ও টেকনাফের ৫টি ক্যাম্পে লকডাউন ঘোষণার ব্যাপারে ক্যাম্প প্রশাসনসহ রোহিঙ্গাদের সেবায় নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোকে করণীয় সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
নির্দেশনার তথ্য উল্লেখ করে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, লকডাউন ঘোষিত ক্যাম্পগুলোর বাসিন্দারা নিজেদের ক্যাম্পের বাইরে যাতায়াত করতে পারবেন না। চিকিৎসা ও খাদ্যসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যে কারো চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া লকডাউন ঘোষিত ক্যাম্পগুলোতে দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেন সামছু-দৌজা।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক শাখার সমন্বয়ক ডা. তোহা ভূঁইয়া জানান, গত কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোসহ কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। যা গত এক বছরের আক্রান্তের সংখ্যা তুলনায় বেশি।