ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি’র অত্যাচারে অতিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয়রা

প্রকাশ: ২০২১-০৫-১৪ ২৩:২৬:৫১ || আপডেট: ২০২১-০৫-১৪ ২৩:৩৬:৫১

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বরত ক্যাম্প ইনচার্জদের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গেছে  স্থানীয় জনগোষ্টি। এরা কখনো জীবনরক্ষাকারী ফার্মেসীর ঔষুধ পুড়ে দিচ্ছে। আবার কখনো স্থানীয় বাসিন্দাদের জোত স্বত্ত্বীয় মালিকাধীন জায়গার উপর নির্মিত স্থাপনা গুড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের প্রতি সিআইসির এমন বিমাতাসূলভ আচরণের ন্যায় বিচার পেতে আদালতের আশ্রয় নেয়ার কথা জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থরা।

বালুখালী এলাকার গফুর উল্লাহ নামে একজন জানিয়েছেন, ১১ মে দুপুরে বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বলিবাজার এলাকায় তার খতিয়ানভুক্ত জায়গার উপর নির্মিত ৫০টির বেশি দোকান ভাংচুর করে গুড়িয়ে দিয়েছে ৯নং ক্যাম্পের সিআইসি ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো: তানজীম।

গফুর উল্লাহ বলেন, সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তার মালিকানাধীন জায়গার উপর নির্মিত শতাধিক দোকানঘর পুড়ে গেছে। এতে তার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরে একই স্থানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে বাঁধা দেয় ক্যাম্প ইনচার্জ। এর আগেও কয়েক দফা দোকানপাট ঘরবাড়ি ভাংচুর করে ৯ নং ক্যাম্প ইনচার্জ।

এঘটনায় গফুর নিজের সহায় সম্পত্তি রক্ষা জন্য রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে কোন সুরাহা না হতেই ক্যাম্প ইনচার্জ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফার্মেসীসহ ৫০/৬০টির অধিক দোকানে ভাংচুর চালিয়েছে। এতে অন্তত: ঔষুধসহ ৫০ লক্ষ টাকার অধিক ক্ষতি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্প ইনচার্জ একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় ক্যাম্প সংলগ্ন বালুখালী গ্রামের মানুষের উপর এই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে হাজার হাজার দোকান বিদ্যমান রয়েছে এবং এমনকি ক্যাম্পের ভিতর ৬টি বাজার থেকে খাঁস কালেকশনের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এসবের কোন খবর নেই ক্যাম্প প্রশাসনের।

এর আগেও ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১১টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ক্যাম্প-৭-এ ফারজানা ফার্মেসীতে অভিযানের নামে ৭ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ পুড়িয়ে দেয় সিআইসি জেপি দেওয়ান।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ ফার্মেসী মালিক নুরুল হক বলেন, মাসোহারা না পাওয়ার কারণে ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহি: প্রকাশ করে ওই সিআইসি। কারণ ইতোপূর্বে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা কমিউনিটি মোবিলাইজার মো: আজিজ, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সদস্য জসিম, রুবেলসহ আরো একজন নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে আসছিল। সিপিপি সদস্য জসিম তার কাছ থেকে দুই দফায় ১০ হাজার টাকা আদায় করে।

তিনি বলেন, এখন আমি স্ত্রী-পুত্র ও পিতা-মাতা নিয়ে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছি। কারণ আমার সহায় সম্বল যা ছিল সর্বস্ব দিয়ে এই ফার্মেসীতে বিনিয়োগ করেছিলাম। তিনি এও বলেন, ক্যাম্পের কাটাতার সংলগ্ন ফার্মেসীতে আমার অনুপস্থিতিতে এবং বিনা নোটিশে অভিযানের নামে সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে ৭ লক্ষাধিক টাকার ঔষধ আগুনে বিনষ্ট করে। অথচ ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অসংখ্য রোহিঙ্গা ফার্মেসীসহ নানা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি ক্ষতিগ্রস্থ জনগোষ্টির একজন হিসেবে একটি ফার্মেসী করেছিলাম তাও ক্যাম্পের ভিতরে নয়। এরপর থেকে আমি আইনী প্রতিকার এবং ক্ষতিপুরণের দাবীতে আরআরআরসি অফিস, ইউএনও অফিসে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও ন্যায় বিচার পায়নি এখনো।

এদিকে বালুখালী ৯নং ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ কর্তৃক দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ।

এসব বেআইনী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে স্হানীয় এলাকাবাসী। আন্দোলনসহ প্রতিবাদের ডাক আসছে ক্ষোভ প্রকাশ এমনটি জানিয়েছেন গফুর মিয়া চৌধুরী।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে খাস কালেকশনের ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ টাকা আদায় করে থাকে এদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তাছাড়া ক্যাম্পের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে দেখভালের জন্য সিআইসি, এবিপিএনসহ আলাদা ভাবে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে বালুখালী ক্যাম্প-৯ এর ইনচার্জ সিনিয়র সহকারী সচিব মো: তানজীম বলেন, এমনিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সকল ফার্মেসী, ইলেকট্রনিক্স, জুয়েলারি শপ করা নিষিদ্ধ। এছাড়া সম্প্রতি বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যা পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসলে ক্যাম্পে এলাকা থেকে থেকে দোকান উচ্ছেদ করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে একাধিকবার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত এর অফিসিয়াল ০৩৪১৬৩৫১৩ নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও রিসিভ করা হয়নি। পরে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দৌজ্জার মোবাইল নম্বর-০১৮৪৭৪৬৬৮২১ রিং বাজলেও সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। যার ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।