ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আগামী বছর শেষ হচ্ছে খেয়াঘাট সেতু নির্মাণ কাজ

প্রকাশ: ২০২১-০৫-০৬ ১৭:১২:২২ || আপডেট: ২০২১-০৫-০৬ ১৭:১২:২২

 

মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা:

নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার খেয়াঘাটে আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নির্মাণ কাজ আগামী বছরে শেষ হচ্ছে। এই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে পাল্টে যাবে অত্র অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট। সেতুবন্ধনে আবদ্ধ হবে নদীর দুই তীরের লাখ লাখ মানুষ। শুরুর দিকে নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্তমানে অনেকটাই জোড়েসোড়ে এগিয়ে চলেছে সেতুর নির্মাণ কাজ। আগামী বছরের শুষ্ক মৌসুমে সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ” প্রকল্পের আওতায় উপজেলার জোতবাজার খেয়াঘাটে আত্রাই নদীর ওপর ২১৭মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.৮মিটার প্রস্থের একটি সেতুর নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহবান করে এলজিইডি। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ১৮কোটি ৮১লাখ ২৫হাজার টাকা।

দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি করার দায়িত্ব পান মিলন এসিএল এবং এমএএইচসিএল (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সেতুটি নির্মাণের জন্য ২০১৮সালের ১৪এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিনামা সম্পাদন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এরপর ১৭এপ্রিল কার্যাদেশ দেয়া হয়।

চুক্তিনামায় ২০২০সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির গড়িমসির কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

বাজারের ধান, পাট, সরিষাসহ বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। কিন্তু এখন পণ্য আমদানী-রফতানি জন্য তাদের ব্যবহার করতে হয় সড়ক পথ। নদীর দুইপারে যাতায়াতসহ পণ্য আনা-নেয়া সহজ করতে জোতবাজার খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর।

স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার প্রামানিক, আব্দুল জব্বার, আব্দুল লতিফসহ অনেকেই জানান, একসময় নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায় জোতবাজার হাটটি। সেই সময় এখানে প্রচুর পরিমাণে পাট বেচাকেনা হত। মান্দা উপজেলাসহ আশপাশের এলাকা থেকে নৌকা ও গরুর গাড়িতে পাটের আমদানি হত এ বাজারে। সেই মজুদ পাট কিনতে দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে আসতেন ব্যবসায়ীরা। পাটের বিখ্যাত মোকামের কারণে বাজারটির নামকরণ হয় ‘জুটবাজার’। কালের বিবর্তনে সেই নামের পরিবর্তন হয়ে ‘জোতবাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ঠিকাদার দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ বলেন, গড়িসমি নয় ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ডিজাইন পরিবর্তনের পর বর্তমানে পুরোদমে নির্মাণ কাজ চলছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে আগামী বছরের শুষ্ক মৌসুমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করার আশা করা হচ্ছে।

 

নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাকসুদুল আলম বলেন সেতুর নির্মাণ কাজের শুরুতে নদীতে অনেক কাঁদা থাকায় বেস ঢালাই দিতে প্রায় ১বছর লেগে যায়। এছাড়াও ডিজাইন পরিবর্তন, মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব, বর্ষাকালে নদীতে পানি চলে আসা ও দুর্যোগের কারণে নির্মাণ কাজে অনেকটা ধীরগতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

আগামী বছরের শুষ্ক মৌসুমের আগেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে। যদি বড় ধরনের কোন দুর্যোগ হানা না দেয় তাহলে আগামী বছরেই নদীর দুই তীরের মানুষরা সেতুটি দিয়ে চলাচল করতে পারবেন ইনশাল্লাহ।