ঢাকা, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ফলোআপ : ইউএনও-এসিল্যান্ডের গাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় তিন মামলা, আটক-৬

প্রকাশ: ২০২১-০৫-০৩ ২০:৫৬:১০ || আপডেট: ২০২১-০৫-০৩ ২২:১৬:২১

পলাশ বড়ুয়া ॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি ভবন নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নতা সৃষ্টি করে পুলিশ ও শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় ৩৮জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে উখিয়া থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা গুলোর বাদি যথাক্রমে উখিয়া থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ। যার মামলা নং ০৮(৫)২১, ০৯(৫)২১ এবং ১০(০৫)২১।

সোমবার রাতে করা এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা ১০০/১৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে এমনটি উখিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৬জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মকতুল হোছনের ছেলে আবু ছৈয়দ ফজলী, সুলতান আহমদের ছেলে মোহাম্মদ কালু প্রকাশ রংচা কালু, আরিফ, তারিক, জাহেদা, রিপন।

ন্যাক্কারজক এই ঘটনা সম্পর্কে সহকারী শিক্ষক আজিজুল হক জানিয়েছেন, দুষ্কৃতিকারীরা মসজিদের মাইকের ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে লেলিয়ে দিয়েছেন। এ সময় স্কুলের সিসি ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ভাংচুর করে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি নাছির উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে আগে ভবন করা দরকার। পরে খেলার মাঠ। তাছাড়া বিদ্যালয়ের এক দেড় কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি খেলার মাঠ রয়েছে। এই ভবন নির্মাণের পরেও খেলাধুলার করা জন্য যথেষ্ট জায়গা থাকবে। একই কথা বলেছেন স্থানীয় আবুল কালাম নামে একজন।

খেলার মাঠ রক্ষার দাবীতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করা মোহাম্মদ হোসাইন তার ফেসবুকে লিখেছেন, সোনারপাড়া খেলার মাঠে জোরপূর্বক ভবন করা কি দরকার ছিলো ? কেন গুলি করলো এলাকার লোকজনের উপর ? জমিটা আসলে কার ! বনবিভাগ না ব্যক্তিমালিকানাধীন ?

হোসাইন আরো লিখেছেন, সোনারপাড়া স্কুলের মাঠে ভবন করাকে নিয়ে বিরোধ অনেকদিনের ! এলাকাবাসীকে কোন রককম কিছু না জানিয়ে ইউএনওকে ভুল বুঝিয়ে যখন আব ছৈয়দ ফজলি ও আমাকে আটক করার চেষ্টা করে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড মহোদয়। পরে আমাকে ছেড়ে দেয়। পরে দুইজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকজ বাধা দিলে পুলিশ ফাকা গুলি এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে নারী-শিশুসহ ২০জন আহত হয়েছে।

সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মিলন কুমার বড়ুয়া বলেন, উপকূলীয় এই উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এর আগে একটি ভবন অনুমোদন হলেও তাদের বাধার কারণে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় এই ভবন নির্মাণ কাজে বাধা দিলে উখিয়া ইউএনও’র কার্যালয়ে কয়েকদফা মিটিংয়ের পর ভবন নির্মাণে সিদ্ধান্ত হয়।

উখিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে বাধা দেয়ার বিষয়টি দু:খজনক। বিদ্যালয়ের নামে নিজস্ব খতিয়ানভুক্ত জায়গার উপর ভবন নির্মাণের জন্য খুঁটি স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন করা হয়েছে। অথচ সেখানে কোন নির্মাণ সামগ্রীও মজুদ করা হয়নি। মাঠের জায়গাটিও বন বিভাগের। তাছাড়া ভবন নির্মাণ করা হলেও মাঠের কোন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)র রিপোর্টের ভিত্তিতে ওই স্থানে ভবন নির্মাণে সিদ্ধান্ত হয়।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহাম্মদ সঞ্জুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, আইন শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশ ও শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক ৩টি মামলা রুজু হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার (২ মে) সকাল ১০টার দিকে উখিয়া উপজেলা সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি ভবন নির্মাণ কাজের খুঁটি স্থাপন করতে গেলে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারসহ বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষকে বাধা প্রদান করে স্থানীয় উশৃঙ্খল যুবক মোহাম্মদ হোসাইনের নেতৃত্বে¡ কিছু দুষ্কৃতিকারী। খবর পেয়ে ঘন্টা খানেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) আমিমুল এহসান খান উপস্থিত হয়ে বুঝানোর চেষ্টা করে। এতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা একযোগে তাদের গাড়ীতে হামলা চালিয়ে গাড়ী ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশসহ কয়েকজন শিক্ষক হামলা শিকার হয়ে আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারসেল ও ফাকা গুলি (রাবার বুলেট) ছুড়লে স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়।