ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

মান্দায় রাস্তা নয় যেন মরণ ফাঁদ!

প্রকাশ: ২০২১-০৫-০৩ ১১:২৪:২১ || আপডেট: ২০২১-০৫-০৩ ১১:২৪:২১

 

মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা:

কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। কোথাও কোথাও খোয়া-বালুর আস্তরণ পর্যন্ত নেই। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুইধারের বার্ম ভেঙে সংকুচিত হয়ে গেছে রাস্তা। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে দু’একটি ভ্যান-ভটভটি। নেহাত প্রয়োজন ছাড়া রাস্তাটি এখন আর কেউ ব্যবহার করছে না। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকল্প রাস্তায় চলাচল করছে এলাকার মানুষ।

বেহাল এ রাস্তাটি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফেরিঘাট থেকে পাঁঠাকাটা-শিবগঞ্জ হয়ে সংযুক্ত হয়েছে মহাদেবপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে। আত্রাই নদীর পূর্বতীরের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ এটি। যানবাহন চলাচলের জন্য এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২০০৫ সালে রাস্তাটিতে কার্পেটিং করা হয়। এরপর রাস্তাটি নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিকট হস্তান্তর করে এলজিইডি। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে রাস্তাটি।

সরজমিনে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় কাঠবোঝাই একটি চার্জারভ্যান, একটি মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি বাইসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। প্রয়োজনে কিছু লোক পায়ে হেঁটেই চলাচল করছেন। অথচ একসময় এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, চার্জারভ্যান ও ভটভটিসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন চলাচল করত। নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত হওয়ায় মান্দা-মহাদেবপুর যাতায়াতের জন্য এ রাস্তাটি ব্যবহার করতেন বেশির ভাগ পথচারী।

দোসতিনা গ্রামের মাজেদুর রহমান, দক্ষিণ পারইল গ্রামের ওসমান আলী প্রামানিক ও মাষ্টার আবুল কালাম আজাদ, সূর্য নারায়নপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ুম ও খাইরুল ইসলাসসহ আরও অনেকে জানান, ফেরিঘাট থেকে মান্দার সীমানা পাঁঠাকাটা পর্যন্ত দুরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। বর্তমান এ ৮ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে চলাচলের উপায় নেই। পাকাকরণের পর এ রাস্তা দিয়ে একসময় বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক বেপরোয়া চলাচল করেছে। এ কারণে রাস্তাটি খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক ও ভটভটি চলাচল রাস্তাটি নষ্ট হওয়ার আরেকটি কারণ বলেও উল্লেখ করেন তারা।

দোসতিনা গ্রামের বাসিন্দা অ্যাড. আশরাফুল ইসলাম বশির জানান, বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়রা ছাড়া দুরদুরান্তের মানুষজন এ পথে আর চলাচল করেন না। রাস্তাটি ভেঙে সংকুচিত ও দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাঁধে এসে আঘাত হানলে এলাকাবাসীর নির্ঘুম রাত কাটে। এ সময় বাঁধ ভেঙে যাবার আশঙ্কায় রাত জেগে পাহারা দিতে হয় তাদের। অবিলম্বে রাস্তাটি মেরামতের জোর দাবি জানান তিনি।

এলাকাবাসির অভিযোগ, রাস্তাটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে তা রক্ষার জন্য বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রাক বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসি। কিন্তু বালুমহালের ইজারাদারগণ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। রাস্তাটি সংস্কারের দাবিতেও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বর্তমানে রাস্তাটি অত্র এলাকার মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মোরশেদুল হাসান বলেন, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রাস্তাটি পাকাকরণের কিছুদিন পর নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। রাস্তাটি রক্ষণাবেক্ষনসহ যাবতীয় দেখভালের বিষয় এখন সওজের।

রাস্তাটির বেহালদশার কথা অকপটে স্বীকার করেন নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, রাস্তাটি তাঁর দপ্তরের অধীনে আসার পর টুকটাক কাজ ছাড়া তেমন কিছুই করা হয়নি। বতর্মানে শিবগঞ্জ বাজার থেকে শিবগঞ্জ মোড় পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার রাস্তায় কাজ চলছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, মান্দা ফেরিঘাট থেকে শিবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার রাস্তার কাজের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কাজটি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।