ঢাকা, শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

পেকুয়ার চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলা, অত:পর

প্রকাশ: ২০২১-০৪-২৬ ২১:০৯:৪১ || আপডেট: ২০২১-০৪-২৬ ২১:০৯:৪১

রেজাউল করিম রেজা, পেকুয়া:
পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর একটি ধর্ষণ মামলাকে কেন্দ্র বিন্দু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। একই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি তিনবার সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
ইস্যুর পর ইস্যু বের করে গোলা জ্বলে মাছ শিকারের চেষ্টা যেন থেমে নেই। উপজেলার মগনামায় ধর্ষণের মত সৃষ্ট রহস্য ভরা এই ঘটনায় শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায় অপর একটি চক্র।
এদিকে ১৯ এপ্রিল ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভিকটিম আজমিন সুলতানা প্রেমিক নুর হোসেন আবিদের বাড়ীতে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বলেছেন, আমি ধর্ষিতা নই। আবিদ ধর্ষক নয়। আমি তাঁকে দাওয়াত দিয়ে আমার বাসায় ডাকি। তার  সাথে আমার ১৮ মাসের প্রেমের সম্পর্ক। আমাদের এই সম্পর্কের কথা উভয় পরিবারের সবাই অবগত আছে। আমি  আবিদকে খুব ভালোবাসি। আমি তাকে পেতে চাই। সেদিন এলাকার কিছু মানুষ অতিউৎসাহী হয়ে জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশ ডেকে তিলকে তাল করেছে।
কিন্ত এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ১৮ এপ্রিল গবীর রাতে তারা দুইজনকে আটক করে সমাজের লোকজন। এবিষয়ে উভয় পরিবারের লোকজন নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু ২৪ ঘন্টা পরও কোন সামাধন না পেয়ে  সরকারি জাতীয় সেবা  ৯৯৯ এ আজমিন সুলতানা নিজেই কল দিয়ে ছিল। তার পরিবার এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এ বিষয়ে দাওয়া পাল্টা দাওয়া হয়েছে।
ভিকটিমকে অপহরণ করে জোরপূর্বক  সংবাদ সম্মেলন করাচ্ছে এমন অভিযোগ এনে ২১ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে পেকুয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ওই কিশোরীর সৎ বোন রেহেনা আক্তার পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন,আমার পিতা মারা গেছেন অনেক আগে। মা অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। পরিবারের লোকজনের অবর্তমানে গত ১৮ এপ্রিল রাতে মগনামার সাতঘর পাড়া এলাকার নুর মুহাম্মদের ছেলে নুর হোসেন আবিদ আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক বোনকে জোরপূর্বক বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণ করে। ওই সময় বোন চিৎকার করলে স্থানীয়রা হাতে নাতে ধর্ষক আবিদকে ধরে পেলেন।
একই সাথে আমার বোন নিজে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠান ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে ধর্ষককে আটক করার পর বোনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার পর আমার ভিকটিম বোনের পক্ষে আমি মামলার বাদি হওয়ার চেষ্টা করলে ধর্ষকের চাচা জিয়াউর রহমান বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হুমকি দেয় মামলা বাদী না হওয়ার জন্য। আমাদের অপর আত্মীয় হাবিব মামলার বাদী হতে চাইলে তাকেও প্রাণে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। যার অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে।
সর্বশেষ আমার সামনে আমার ভিকটিম বোন পেকুয়া থানার ওসি সাহেবকে বলেন, আমার ইজ্জত নষ্টকারীর বিরুদ্ধে আমি নিজেই বাদী হয়ে মামলা করবো। থানায় ধর্ষণ মামলা রুজু হওয়ার পর ধর্ষককে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে অভিভাবক করে বোনকে নিয়ে স্বাস্থ্য পরিক্ষা করাতে কক্সবাজার মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন।
পেকুয়া থানার এস আই ও  ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, ভিকটিম জাতীয় সেবা ৯৯৯ এ কলদিয়ে সে ধর্ষণ শিকার হয়েছে বলে দাবি করে। সেই মেসেজটি পেয়ে আমরা গিয়ে ভিকটিমের বসতঘর থেকে দুজনকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসি। পুলিশ তাকে মামলা করতে চাপপ্রয়োগ করেনি। ভিকটিম নিজ মুখে স্বীকার করে এবং নিজেই বাদী হয়ে নুর হোসেন আবিদকে বিবাদী করে থানায় এজাহার দিলে সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজি করা হয়। পরের দিন ২০ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে বিবাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালত ভিকটিমের স্বীকারোক্তি গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক ভিকটিমকে তার সৎ বোন রেহেনা আকতারের জিম্মায় দিয়ে ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ কেরাইসিসে পাঠিয়ে দেন।
সর্বশেষ আজমিন সোলতানা ২২ এপ্রিল তৃতীয় দফা সংবাদ সম্মেলন করে তার সৎ বোন রেহনা আকতারের সংবাদ সম্মেলনে বলা কথা গুলো সঠিক নয় দাবী করে বলেন,আমি ধর্ষিতা নই, আমাকে কেউ অপহরণ করেনি, হয়তো আমার বোন কারো কু-পরামর্শে কথা গুলো বলেছে। আমি এই কথা গুলোর তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি আবারও বলছি, আবিদ আমাকে ধর্ষণ করেনি। তার সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক। আমার বয়স ১৪ নয়। এখন আমার বয়স ১৭ বছর ৭ মাস। আমি সব বুঝি। আমার অনুরোধ থাকবে আপনারা আমাকে হয়রানি করবেন না এবং অপপ্রচার বন্ধ করুন।
এদিকে এলাকায়বাসী জানান, আজমিন সুলতানা তার পিতার বসতঘরে একা বসবাস করে আসছিল। আবিদকে দিনে-রাতে প্রায় সময় আসতে দেখা যেতো। তাদের অবাদ চলাফেরাও আমরা লক্ষ্য করেছি। এমন কি তার বাবা নুর মোহাম্মদকে সেটা আমরা অবগত করেছি। ঘটনার দিন এ বিষয়ে দফা দফায় বৈঠক হয়েছে।
উল্লেখ্য -গত ১৯ এপ্রিল রাতে পেকুয়া থানায় ৯(১)২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী ২০০৩ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়। পেকুয়া থানার মামলা নাম্বার ৫।