ঢাকা, রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১

শুদ্ধ সুন্দর প্রার্থনায় হোক বিদায়ী- নববর্ষ বরণ

প্রকাশ: ২০২১-০৪-১২ ১০:১৬:২৩ || আপডেট: ২০২১-০৪-১২ ১০:১৬:২৩

 

পলাশ বড়ুয়া:
১২ এপ্রিল ঐতিহ্যগত ভাবে বাঙালি বৌদ্ধরা ফুলবিজু পালন করে থাকে। এ দিন ভোরে সূর্য উঠার আগে প্যারাবন থেকে অনেক কস্টে ফুল তুলে আনে উঠতি বয়সীরা।

এসব ফুল দিয়ে সম্যক বুদ্ধকে পুষ্পপূজার পাশাপাশি বাড়িঘর সাজানো হয়। তবে পাহাড়ী ণৃ-গোষ্টিদের মধ্যে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দিতেও দেখা যায়।

১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাৎ মুল বিজু। এদিন খুব ভোরে উঠে সবাই সুগন্ধি সাবান দিয়ে গোসল করলেও আগেকার দিনে ঘিলা/বজ/কাঁচা হলুদ পিষে গোসল করা হতো। ধর্মীয় উপাসনালয়ের সাথে বাড়ি ঘরেও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে থাকে।

এরপর বাড়িতে কিংবা বিহারে প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধ প্রতিবিম্ব গুলোকে পানি/দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে পূজা করা হয়। এ সময় উঠতি বয়সীদের কেউ কেউ পানি এবং রং খেলায় মেতে উঠে।

পরে সবাই নতুন জামা-কাপড় গায়ে দিয়ে বড়দের প্রণাম করে আর্শিবাদ নেয়। আত্নীয়-স্বজনরা ঘরে ঘরে বেড়াতে আসে-যায়। এভাবে পুরো দিন শেষে রাতেও চলে ঘুরাঘুরি, খোশগল্প।

বিজু আদিবাসী চাকমা সম্প্রদায়ের অন্যতম আনন্দ-উৎসবের দিন বলে জানা গেছে। কয়েকদিন ধরে চলে তাদের পানিখেলা।

এ উপলক্ষে ঘরে ঘরে খৈ, নাড়ু, জিরা, শিম বিচি, চুটকি পাচন (বিভিন্ন রকমের সবজির মিশ্রণে তৈরি এক ধরনের তরকারী) সহ অনেক সুস্বাদু খাবার রান্না করা হয়। এসব দিয়ে তাদেরকে আপ্যায়ন করা হয়।

বছরের শেষ দুই দিন উদযাপনের পর পুরো বাঙালি জাতি নানা আয়োজনে উৎসাহ উদ্দীপনায় পালন করে থাকে বাংলা নববর্ষ।

বাংলা নববর্ষের ১ম দিন অর্থাত্‍ ১৪ এপ্রিল পালন করা হয়। এই দিনেও বিজুর আমেজ থাকে। বিজু এবং নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় বলী খেলা, হা ডু ডু, মোরগ লড়াই, হাড়ি ভাঙ্গা, ঘি মাখা গাছে উঠা, রশি টানাটানিসহ বসে নাগরদোলা।

বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির এই দিন গুলোতে এখন আর আগের মতো উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায় না। কারণ এ প্রজন্মের অধিকাংশের উপর চেপে বসেছে অপ-সংস্কৃতি এবং মাদকের করাল গ্রাস।

তাই শুদ্ধ, সুন্দর প্রার্থনায় হোক বিদায়ী এবং নববর্ষ বরণ-

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা। অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…।

লেখক : সম্পাদক, উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব।