ঢাকা, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

ত্রাণ উদ্ধারে চেয়ারম্যান শাহ আলমের বাড়ি ও ডায়াবেটিস হাসপাতালে অভিযানের দাবি

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৮ ১৫:২৮:২২ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৮ ১৫:২৮:২২

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকায় ভোট নেয়ার ঘোষনা দেয়া কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান শাহ আলমের বিরুদ্ধে এবার সরকারী ত্রাণ বিক্রীর অভিযোগ উঠেছে।

হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বাসবভন ও তার বাসার সামনের ডায়বেটিকস হাসপাতালে অভিযান চালালে অনেক সরকারী ত্রান উদ্ধার হবে বলে জানিয়েছেন খোদ পরিষদের ৫ জন ইউপি সদস্য। তারা দ্রুত চেয়ারম্যানের বাসায় অভিযান করার দাবি জানান।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ ইউপি সদস্য এই অভিযোগ করেন। একই সাথে এই চেয়ারম্যানের অবৈধ সম্পদের পরিষদের তদন্ত করতে দূর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানান ইউপি সদস্যগন।

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ইউপি সদস্য জয়নাব বেগম লিপি, শাহাজাহান চৌধুরী, হোছাইন মোঃ মোক্তার, রফিক আহম্মদ ও ফজল করিম।

এই সময় ইউপি সদস্যগন অভিযোগ করেন ২০১৬ সালের ৪ জুনের নির্বাচনে নির্বাচনে তিনি কিভাবে নির্বাচনকে কলংকিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তা সারাদেশের মানুষ জানেন। ইতিহাস কলংকিত করে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে চেয়ারম্যান শাহ আলম হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদে দূর্নীতিরও ইতিহাস রচনা করেছেন।

ইউপি সদস্যরা আরো অভিযোগ করেন হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়ষ্কভাতা, বিধবা ভাতা, পঙ্গু ভাত, সরকারী প্রজেক্ট, ঠিকাদারি ও এনজিওর বিভিন্ন বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যান দূর্নীতি ও অনিয়ম করে আসতেছে ।

তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা আসার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী হোস্ট কমিউনিটির জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয় ও এনজিওরা যেসব সহযোগিতা করে তা চেয়ারম্যান শাহ আলম নিজস্ব ব্যাক্তিগত সহযোগিতার নামে বিতরন করে সরকারের সাথে প্রতারনা করছে। জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। দূর্নীতি করার জন্য চেয়ারম্যান এইসব এনজিওর সহযোগিতার সাথে ইউপি সদস্যগনকে সম্পৃক্ত করেনা। এনজিওর বিভিন্ন ত্রান ও সহযোগিতা পরিষদে না এনে চেয়ারম্যান নিজ বাসায় নিয়ে বিতরন করছে বলে দাবি করেন। এইসব ত্রান কোথায় যায় বা কাকে দেয়া হয় তার কোন হিসাব পরিষদের কেউ জানিনা। তিনি এসব ত্রান শুধু মাত্র ব্যাক্তিগত লোক ও আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিতরন করে আসছেন ।

ইউপি সদস্যগন অভিযোগ করেন, হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ আলম অধিকাংশ ওয়ার্ডের ভি.জি.ডি, ভি.জি.এফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও পঙ্গু ভাতা বিতরনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি করে আসছে। চেয়ারম্যান শাহ আলম টাকার বিনিময় ও নিজের স্বজনকে তারা ভিজিএফ কার্ড দিচ্ছে। এত ওয়ার্ড পর্যায়ের সাধারণ মানুষ সরকারের ভিজিডি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চেয়ারম্যান শাহ আলম বা তার মনোনীত ব্যক্তি দিয়ে হলদিয়া পালং ইউনিয়নে ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও পঙ্গু ভাতা বিতরণে বিভিন্ন মানুষ থেকে টাকা আদায় করছে। চেয়ারম্যান মনোনীত ব্যক্তিদের টাকা না দিলে কোন ব্যক্তি সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেনা। এতে করে প্রকৃত বয়স্ক, বিধবা, পঙ্গু ও গরীব অসহায় মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে তারা আরো বলেন, শাহ আলম হলদিয়া পালং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই ইউনিয়নে যত ধরনের সরকারি প্রকল্প বা বরাদ্দ এসেছে তার প্রত্যেকটিতে দূর্নীতি ও অনিয়ম করে চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাৎ করেছে। হলদিয়া পালং ইউনিয়নে এখন অঘোষিত চেয়ারম্যান হলো শাহ আলমের শ্যালক বিএনপি নেতা মনির আহম্মদ। মনির আহম্মদই এখন হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের রাজা । এই পরিষদের সকল কাজ, টেন্ডার, প্রকল্প চেয়ারম্যান শাহ আলমের শ্যালক মনির আহমেদ নিজে নামে বেনামে করে সরকরি টাকা আত্মসাৎ করে। মনির আহমেদের নেতৃত্বে হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাধরন জনগন থেকে শুরু করে আমরা যারা ইউপি সদস্য আছি তাদেরও হুমকি ধমকি দিয়ে জিম্মি করে আসছে। চেয়ারম্যান শাহ আলম সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব জনাব শফিউল আলমের ছোট ভাই হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি ও এনজিও কর্মকর্তাদের হুমক-ধমকি ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছেন। চেয়ারম্যান তার ভাই সাবেক মন্ত্রী পরিষদের সচিব শফিউল আলমের নাম ব্যবহার করে ইউপি সদস্যদেরও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করছে। আমাদের বিভিন্ন মামলায় ফাসানোর হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য জয়নাব বেগম লিপি ও ফজল করিম অভিযোগ করে বলেন, চেয়ারম্যান শাহ আলম ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ কাজে আমদের সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছে। বিগত পাঁচ (৫) বছরে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের প্রত্যেকটি প্রকল্পে সুষ্ঠু তদন্ত করলে চেয়ারম্যানের দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে। চেয়ারম্যান শাহ আলম, তার শ্যালক মনির আহম্মদ ও তাদের পরিবারের চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগের ও বর্তমান সম্পদের তথ্য তদন্ত করলে দুর্নীতি প্রমাণ পাওয়া যাবে। এই জন্য আমরা দূর্নীতি দমন কমিশন, স্থানিয় সরকার মন্ত্রনালয়, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ ১২টি সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছি।

ইউপি সদস্যগন হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে ও বর্তমানে চলমান ভিজিডি কার্ড বিতরনে দূর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে করতে আপনার সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। পাশাপাশি চেয়ারম্যান শাহ আলমের দুর্নীতির তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন করেন।