ঢাকা, সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

ওয়ার্ল্ড ভিশনের পরিবেশনায় নিন্মমানের খাবার, খাচ্ছে না রোহিঙ্গারা, যত্রতত্রে ফেলে পরিবেশ দূষণ

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০২ ২২:১৫:৪৭ || আপডেট: ২০২১-০৪-০২ ২২:১৯:৩৯

 

গফুর মিয়া চৌধুরী, উখিয়া থেকে:
কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের দেয়া নিন্মমানের খাবার খাচ্ছে না রোহিঙ্গারা। যত্রতত্রে ফেলে দেয়ায় দুর্গন্ধে দুষিত হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ।

রোহিঙ্গাদের এসব খাদ্য সরবরাহ করছে এনজিও সংস্হা ওয়ার্ল্ড ভিশন। সংস্থাটি প্রতিদিন ১০ হাজার পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুকে সকাল-বিকাল প্যাকেট জাত করে খাবার সরবরাহ করছে।

প্রতিদিনের খাদ্যের তালিকায় সবজি ছাড়া কিছু না থাকায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা। এসব নিম্নমানের খাবার রোহিঙ্গারা না খেয়ে যত্রতত্র ফেলে দিতে দেখা গেছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে বালুখালী ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেলে রোহিঙ্গারা তাদের মানবিক জীবন যাপন ও অভাব অনটনের কথা এ প্রতিবেদককে জানান।

রোহিঙ্গারা বলেন, প্রতিদিন এনজিও ‘ সংস্হা গুলোর শুধু সবজি দিয়ে এক ধরনের খাবার আমরা কত খাব? সকাল বিকেল সবজি দিয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ভাত খেতে চায় না। অনেক রোহিঙ্গারা এক ধরনের খাবার নিয়ে তাদের অনীহার কথা জানান। শত শত রোহিঙ্গারা খাবার না খেয়ে যেখানে সেখানে ফেলে দিচ্ছে। এসব খাবার সর্বত্র স্তুপে পরিণত হচ্ছে। আর পড়ে থাকতে থাকতে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া স্হানীয় ১ নং ওয়ার্ডের শত শত বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন সবজির খাবার খেতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তারা এসব সবজি মিশ্রিত খাবারের প্যাকেট শুধু ফেলে দিচ্ছে। এসব হাজার হাজার প্যাকেট খাবার দিনের পর দিন পছে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে স্হানীয় গ্রামবাসীরা পছা গন্ধে ঘরে বাইরে থাকতে পাচ্ছে না। এলাকার পরিবেশ গন্ধে ভারী হয়ে উঠছে।

এদিকে এনজিও সংস্হা ওর্যাল্ড ভিশন থেকে খাদ্য সরবরাহের কাজ পান ব্র্যাক, রিক ও সুশীলন। তাঁদের খাবারের গুনগতমান নিয়ে ও নানান প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে আল মদিনা হোটেলের খাবারের মান খুবই খারাপ বলে রোহিঙ্গারা জানান। আল মদিনা লেখা আছে এসব প্যাকেটের খাবার ভাল নয়। কি ধরনের ভাল নয় এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন,ভাত বেশি নরম ও প্যাচাল, সবজি নিম্নমানের, মরিচ-হলুদ কম, লবন ঠিক ভাবে দেয় না এবং আর যথাসময়ে খাবার দেয় না।

এ বিষয়ে মাঠে সুপার ভিশনে দায়িত্বরত ওয়ার্ল্ড ভিশনের ফুর্ট সিকিউরটি কো-অর্ডিনেটর প্রদীপ কুমার বলেন, রোহিঙ্গারা প্রতিদিন সকাল বিকেল সবজির খাবার ঠিক ভাবে খেতে চায় না। তারা খাবার অনীহার কথা জানান। তার পরে আমরা খাবার দিয়ে আসছি। রোহিঙ্গাদের সরবরাহকৃত খাবারের ভেন্যু নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে। পরির্বতন হতে পারে।