ঢাকা, বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবে গণপরিবহনে নৈরাজ্যের নতুন মাত্রা যোগ করবে : ক্যাব

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০১ ১৬:৩৯:০৮ || আপডেট: ২০২১-০৪-০১ ১৬:৩৯:০৮

বার্তা পরিবেশক ॥
বছরজুড়ে করোনা মহামারী ও লকডাউনের কারনে প্রান্তিক, শ্রমজীবি ও সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা এমনিতে থমকে আছে। এ অবস্থায় গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তুাব অনুমোদন করা হলে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে দ্বিগুন ভাড়া আদায়ের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী গণপরিবহনে যাতায়ত ও ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়েছে। করোনা সংক্রমনের মহাদুর্ভোগে গণপরিবহন নগরবসাীর জীবনে আর একটি নতুন ভোগান্তি ও মহাযন্ত্রণা যোগ করেছে।

বিষয়টি অনেকটাই গণপরিবহন মালিক শ্রমিকদের দাবির আগেই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ভাড়া বৃদ্ধিতে আগ্রহী বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ায় গণপরিবহনগুলি ভাড়া আদায় করছে কিনা, সে বিষয়ে কোন নজরদারি প্রতিয়মান হয়নি। তাই এই জরুরি সংকটকালীন সময়ে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির মতো হটকারী সিদ্ধান্তে উপনীত না হতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএর প্রতি আহবান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।

করোনামহামারীর সংক্রমন রোধে তড়িগড়ি করে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের নির্দেশনা দিয়ে ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদনের পরে গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ০১ এপ্রিল ২০২১ এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

বৃস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম ও ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান প্রমুখ।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকায় ও করোনা মহামারীর প্রকোপ থাকায় অধিকাংশ সাধারণ মানুষ কর্মহীন, আয়রোজগার কমে যাওয়ায় এমানিতেই আর্থিক ও মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত।

এছাড়াও করোনার সুরক্ষা সামগ্রী, ওষুধ, চিকিৎসা সেবা ও নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন বিপর্যস্ত সেখানে বর্ধিত হারে বাস ভাড়া আদায়ের অনুমতি দেয়া হলে এটা হবে সড়কে ডাকাতির সামিল। কারন গণপরিবহন মালিক-শ্রমিকরা কোন সময় সরকারের নির্ধারিত হারে ভাড়া আদায় না করে যাত্রীদের জিম্মি করে দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া আদায় করে থাকেন। সেখানে বিআরটিএ, প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনে সক্ষম নয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন গণমাধ্যম সুত্রে জানা যায় রাজধানীতে প্রতিটি সড়ক রুটে চলাচলকারী বাস-মিনিবাস দৈনিক গড়ে ১২০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে থাকেন। করোনা মহামহারী কালে এই চাঁদা বন্ধ করা গেলে ও প্রয়োজনে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানী সরবরাহ করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি গণপরিবহন অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করতে পারেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে কোন সংকট ও অজুহাতে গণপরিবহনগুলি বর্ধিত ভাড়া আদায় করলেও স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া কমানোর কোন নজির নেই। দেশের ইতিহাসে র্দীঘ ছুটিতে থাকায় সাধারণ, শ্রমজীবি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠি কর্মহীন হয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে আছে, তাই অর্থেক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে গণপরিবহনগুলো বিদ্যমান ভাড়া আদায় করে পরিবহন সেবা চালু করে মালিক-শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থান পূনরায় শুরু করতে পারেন।