ঢাকা, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী-শিশুসহ নিহত ১১জন, আহত সাড়ে ৫শ, নিখোঁজ ৪শ

প্রকাশ: ২০২১-০৩-২৩ ১৮:৪৩:৫৫ || আপডেট: ২০২১-০৩-২৩ ১৯:২৫:১৬

# মানবেতর জীবন যাপন করছে প্রায় অর্ধ লক্ষ মানুষ।

# রোহিঙ্গাদের দেয়া আগুনে পুড়েছে ক্যাম্প।

পলাশ বড়ুয়া/শহীদুল ইসলাম ॥

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৯ হাজার ৩শ পরিবারের আনুমানিক ৪৫ হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। আগুনের লেলিহান থেকে রক্ষায় পায়নি ৩ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার বসত বাড়ি। এ ঘটনায় নারী-শিশুসহ ১১ জন নিহত হয়েছে। ভস্মিভূত রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে বিকেল ৫টার দিকে কক্সবাজারে সাংবাদিকদের একথা বলেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো: মোহসিন।

তিনি ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে নগদ ১০ লক্ষ টাকা এবং ৫০ মে:টন চাউল বরাদ্ধ দেয়ার কথা বলেন। এছাড়াও স্থানীয়দের জন্য নগদ টাকা, চাউল, তালিকা পাওয়া গেলে ঘর করে দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৪শ জনের অধিক নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও সাড়ে ৫শ নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছে। এ পরিসংখ্যান পরিবর্তন হতে পারে।

এদিকে নিহত ১১ জন রোহিঙ্গার পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন সলিম উল্লাহ (৫৫), রফিক আলম (২৫), আবদুল্লাহ (৮), আসমাউল (৭), মিজানুর রহমান (৪), বশির আহমদ (৭৯), খতিজা বেগম (৭২), মো. একরাম (৩), এমদাদ উল্লাহ (২৪), তসলিমা (৪), মোশারফা (৩)।

২৩ মার্চ সরেজমিনে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লেগে আনুমানিক ১৫ হাজারের বেশি বাড়িঘরসহ, মসজিদ, ১৩৬ লার্ণিং সেণ্টার, দোকানপাট, হাসপাতাল ও এনজিওর ভবন পুড়ে গেছে। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া ৩৮০০ রোহিঙ্গা পরিবার সকাল থেকে দলেদলে পরিবারসহ পুরনো ঠিকানায় ফিরতে দেখা গেছে। অনেকেই কাঠ, বাস, ত্রিপল দিয়ে নতুন ঘর তৈরির শুরু করেছে।

ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পালংখালী ইউনিয়নের ১, ২ নং ওয়ার্ডের ৩ শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ি ঘর পুড়ে গেছে এমনটি জানিয়েছেন পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, উগ্র রোহিঙ্গাদের দেয়া আগুনে পুড়েছে ক্যাম্প। গতকাল আগুন দেয়ার সময় হাতে-নাতে ৬জনকে আটক করে ক্যাম্প প্রশাসনকে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সংরক্ষিত ইউপি সদস্য পারভীন আকতার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থ স্থানীয় বাসিন্দাদের কিছু শুকনো খাবার ছাড়া কোন ধরণের সহায়তা সামগ্রী দিতে পারিনি। প্রাথমিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

১নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষতিগ্রস্থ মৌলভী নুরুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, রোহিঙ্গাদের দেয়া আগুনে সব পুড়ে ছারখার হয়ে হয়ে গেছে। এনজিও গুলো আমাদের সাথে চরম বৈষম্য করছে। গাড়ীবর্তী করে সহায়তা সামগ্রী নিয়ে আসলেও আমাদের না দিয়ে সবকিছু রোহিঙ্গাদের দিচ্ছে। ‘

ক্ষতিগ্রস্থ রোহিঙ্গা আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের বাড়িঘর ও খাবারসহ সব পুড়ে গেছে। কাল থেকে খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করেছি।

বালুখালী ৯ ক্যাম্পের রোহিঙ্গা বশির আহমদ জানান, কাল থেকে জিয়াবুল হক নামে তার ৭ বছর বয়সী নাতীকে খুঁজে পাচ্ছে না। সকাল থেকে পানি ছাড়া কিছু জোটেনি।

ক্যাম্প-৯ এর সি ব্লকের সি-৫ এর বাসিন্দা মৌলভী মোস্তাক বলেন, আমার দুইটি দোকান এবং একটি ঘর পুড়ে গেছে। দোকানে অন্তত: ২৫ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে এখন সর্বহারা হয়ে গেছি।

ঘটনার দিন খবর পেয়ে কক্সবাজার, রামু, উখিয়া, টেকনাফের ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ১০ টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বালুখালী ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর একে একে বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার মো: এমদাদুল হক জানিয়েছেন, ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ৭জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি ও আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী-শিশুসহ নিহত ১১জন, আহত সাড়ে ৫শ, নিখোঁজ ৪শ

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত শেষে জানা যাবে। এ ঘটনা তদন্তের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসু-দ্দৌজা জানান, ঘটনাস্থলে প্রশাসনের কয়েক স্তরের কর্মকর্তা উপস্থিত রয়েছে। তবে প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ১৫ হাজার ঘর পুড়ে গেছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।