ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২

রোহিঙ্গা জামাই-শ্বশুরের রামরাজত্ব

প্রকাশ: ২০২০-১২-২১ ২১:৪৫:৫৮ || আপডেট: ২০২০-১২-২১ ২১:৫০:১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা জামাই আনোয়ার ও শ্বশুর ছৈয়দ নুরের রামরাজত্ব চলছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজাপালং ইউনিয়নের পশ্চিম হরিণমারা গ্রামে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অব্যাহত হুমকি-ধমকির ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। ছৈয়দ নুর ও আনোয়ার নামের এ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ক্যাডারের অব্যাহত হুমকির মুখে জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কিছু অসহায় দরিদ্র পরিবার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম হরিণমারা এলাকায় বসতি গড়ে তোলা বর্মাইয়া ডাক্তার মৃত আবুল হোছনের ছেলে মো: ছৈয়দ নুর (৭৩) ও তার মেয়ের জামাতা রোহিঙ্গা আনোয়ার (৪২) পুরো এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করেছে।

শ্বশুর মিয়ানমারের নাগরিক হলেও হরিণমারায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্মাইয়া ডাক্তার নামে পরিচিত। তারা জামাই-শ্বশুর স্থানীয় অসাধু জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে বাংলাদেশী নাগরিক বনে গেছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে “অজানা লোকের আনাগোনায় শঙ্কিত এলাকাবাসী- উখিয়ার জঙ্গলে বর্মাইয়া ছৈয়দ নুর ডাক্তারের আস্তানা শীর্ষক সংবাদ ভোরের কাগজসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

আনোয়ার ও তার শ্বশুর ছৈয়দ নুরের বিরুদ্ধে রয়েছে ইয়াবা, অবৈধ অস্ত্র ও স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগ। রাজাপালং পশ্চিম হরিণমারা গ্রামে ২টি এবং কুতুপালংসহ ৪টি দালান ঘর গড়ে তুলেছে। আনোয়ারের রয়েছে একাধিক স্ত্রী।

এই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আনোয়ার অবৈধ টাকার প্রভাবে দেশের আইন কানুনের কোন তোয়াক্ষা করে না। সে হরিণমারা এলাকায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে অসহায় মানুষ গুলোর ভুমি দখল করে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হরিণমারা গ্রামের মৃত আবদুল করিমের পুত্র দরিদ্র কৃষক ছৈয়দ নুর প্রকাশ (কালা মনু) বলেন, পশ্চিম বাপ দাদার আমলের স্বত্ত্ব দখলীয় জায়গায় বসত ভিটায় পরিবার পরিজন নিয়ে থাকতে পারছি না। এই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আনোয়ার তার নিয়ন্ত্রিত রোহিঙ্গা দিয়ে তাকে অপহরণসহ হত্যার হুমকি দেয় । একই সাথে তার বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারা করছে। এখন নিজের জানমাল রক্ষা করতে স্বজনদের নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এদিকে পুলিশের সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা বর্মাইয়া ছৈয়দ নুর ও তার মেয়ের জামাই আনোয়ারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়।

কয়েক বছর পুর্বেও তাঁর ভগ্নিপতি খাইরুল হককে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে এবং পরে জাদুটোনার মাধ্যমে মেরে ফেলেছে বলে জনস্বীকৃতি মেলে। বর্তমানে খাইরুল হকের বউকে মেরে ফেলে বাড়ি ভিটা জবর দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে গত ৮ নভেম্বর অসহায় ছৈয়দ নুর ও মৃত খাইরুল হকের অসহায় বিধবা স্ত্রী শামসুর নাহার কক্সবাজার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ।

এবিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ারের সাথে মুঠোফোনে (০১৮১৯৯৯৯৫২৬) একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলামের কাছে ফোনে জানতে চাইলে, এ সংক্রান্ত কোন তথ্য দিতে পারবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য না দেয়ার বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।