ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

টেকনাফ প্রশাসনের নিস্কিয়তার সুযোগে ওরা আবার সক্রিয়

প্রকাশ: ২০২০-১১-২০ ০৫:১৩:০৬ || আপডেট: ২০২০-১১-২০ ০৫:১৩:০৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ
সীমান্ত শহর টেকনাফ আবার অশান্ত হতে শুরু করছে। দিনদিন ভেঙ্গে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

আত্মগোপনে থাকা অপরাধীরা আবার বীরদর্পে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। ডজন মামলার আসামিরাও জবরদখল, মাস্তানি ও সন্ত্রাসী স্টাইলে বাহিনী গঠন করে প্রভাব বিস্তারে মেতে উঠেছে। প্রশাসনের নিস্কিয়তার সুযোগে দীর্ঘ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা সেই বল্লা বাহিনী মাস্তান টিম গঠন করে আবার মাঠে সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এমনই অভিযোগ করেছেন সাবরাং নয়া পাড়া এলাকার সাবেক মেম্বার আব্দুল কুদ্দুস।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আব্দুর রহমানের পুত্র হাফিজুল্লাহ প্রকাশ বল্লা, আব্দুল গফুর প্রকাশ জাফরের পুত্র, মঞ্জুর আলম, সাদ্দাম হোসাইন ও আব্দুল্লাহ সন্ত্রাসী কায়দায় ১২ নভেম্বর নয়টি গরু মহিষ, ত্রিশ কন সুপারি ও ১৫০ আড়ি ধান লুট করে নিয়ে যায় এবং আমার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।

ঘরে থাকা স্বর্ণালাংকারসহ প্রচুর সম্পদ ক্ষয় ক্ষতি করে। ৯ নভেম্বর আব্দুর রহমান হত্যার সূত্র ধরে হাজী আব্দুল মজিদের ভূ-সম্পদ অবৈধ দখল করার জন্য হাজী আব্দুল মজিদকে জিম্মি করে আত্মগোপনে নিয়ে গেছে।

হাজী আব্দুল মজিদ আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুস মেম্বারকে খোঁজ নিলে উক্ত গং অন্য ব্যক্তিকে আব্দুল কুদ্দুস মেম্বার বলে মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা করছিলো। হাজী আব্দুল মজিদের কাছে থাকা প্রচুর জমিজমা নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। এভাবে বল্লা বাহিনী নিজের শক্তি জানান দেয়ার জন্য মঞ্জুর আলমকে হাতে নিয়ে পূর্বের স্টাইলে মাস্তান বাহিনী গঠন করেছে। এদিকে দীর্ঘ কয়েক বছর আগে শাহ পরীর দ্বীপ লবণ মাঠ ও নয়া পাড়া এলাকায় বল্লা বাহিনীর তান্ডব কেমন তা এলাকার সাধারণ মানুষ এখনো ভুলে যায়নি।

তার উত্থান নিয়ে আবারও শংকিত হয়ে উঠছে এলাকাবাসী। হাফিজুল্লাহ বল্লা ও মঞ্জুর আলম ডজন মামলার পলাতক আসামী। এমনকি তারা বিগত সময়ে পুলিশ বাহিনীকেও চরমভাবে হেনস্থা ও মারধর করেছিলো। তাদের বর্তমান সময়ের উত্থানে এলাকার সাধারণ মানুষ কোন ভাবেই নিরাপদ মনে করছে না।

টেকনাফ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি, বল্লা বাহিনীর ন্যায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীরা কোনভাবেই যেনো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। অতিদ্রুত তাদের কণ্ঠ রোধ করা না গেলে টেকনাফ উপজেলায় আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটার আশংকা রয়েছে। অপরাধীদের ধরে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের জরুরী নজরদারি কামনা করছেন সাবরাং নয়া পাড়া এলাকার জনসাধারণ।

তবে সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে টেকনাফের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র।