ঢাকা, সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসা’র চাঁদাবাজি!

প্রকাশ: ২০২০-১১-১৩ ১৯:১০:২৩ || আপডেট: ২০২০-১১-১৩ ১৯:২৫:৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদাবাজি করছে আরসা। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে এসব চাঁদা। কেউ নগদ টাকা দিতে না পারলে চাউল দিতে হয়।

সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) কর্তৃক আদায়কৃত এসব অর্থে প্রয়োজনে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন, ৮ নভেম্বর হোছন মাঝির ব্লকের মসজিদের পশ্চিম পাশে মাঠে রাতের আধাঁরে মিটিং করে। এর আগে ব্লক ভিত্তিক জিম্মাদার দিয়ে প্রতিটি ক্যাম্পে দিনের বেলায় গিয়ে ১২ থেকে ৫০ বছরের রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরসার সদস্য হওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। কেউ অনীহা প্রকাশ করলে তাদেরকে রাতে তুলে নিয়ে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনসহ লাশগুম করারও হুমকি দেয়।

এছাড়াও রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী সংগঠনের ব্যানারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ক্যাম্পের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা নাগরিক, দোকান-পাট ও বাজার থেকে এই টাকা আদায় করছে।

বেশ কিছুদিন ধরে ‘আরসা’ গ্রুপের সদস্যরা হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে শতাদিক দোকান হতে লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে। এমনকি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চাঁদা উত্তোলন করলেও ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করছে না।

সুত্রে আরো জানা গেছে, বালুখালী ১১ ও ১২ নাম্বার ক্যাম্পের ‘আরসা’র শীর্ষ নেতা মৌলভী আব্দুর রহমান (৫৫), একই ক্যাম্পের জুস মোহাম্মদ (৪০), জাকের হোসেন (৪২), মোহাম্মদ ইউনুছ (৩৫), মোঃ আলম (৩৭)নুর কামাল ও মোহাম্মদ শাহ’র নেতৃত্বে ৩০/৩৫ জন সংঘবদ্ধ গ্রুপ প্রতিনিয়ত ক্যাম্পে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে।

এদিকে বালুখালী এলাকার স্থানীয় নুরুল হক, হাজী মোহাম্মদ মিয়া, মোঃ জকরিয়া, আবু তাহের, মোঃ রফিক ও মোঃ আলমগীর বলেন, সম্প্রতি বালুখালী ১১ ও ১২ নাম্বার ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তারা বলেন, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্থানীয় লোকজনের যে সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্টান দোকান রয়েছে এর থেকে ভাড়ার টাকা উত্তোলন করতে বাধা প্রদান করছে। এমনকি সোমবার প্রায় শতাধিক দোকান থেকে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছে আরসা’র সদস্যরা। এ নিয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

বালুখালী ১১নং ক্যাম্পের এপিবিএন’র ইন্সপেক্টর জাকের হোসেন বলেন ক্যাম্প থেকে আরসা’র নামে টোকেন বা রিসিভ দিয়ে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।

এপিবিএন-১৪ কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ ছালেহ আহমদ পাঠান বলেন, আরসা কর্তৃক চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অনলাইনে দেখেছি। তবে এ ধরণের কোন অভিযোগ এখনো পায়নি।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, এধরনের কোন অভিযোগ কিংবা তথ্য এখনো আসেনি। পূ্র্বে কোন অভিযোগ দায়ের করে থাকলে অবশ্যই তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।