ঢাকা, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২

পেকুয়ায় গণপিটুনীতে এক ব্যক্তির মৃত্যু

প্রকাশ: ২০২০-১০-৩১ ১৮:৩২:১০ || আপডেট: ২০২০-১০-৩১ ১৮:৩৬:৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় চোর সন্দেহে গনপিটুনীতে আহত জিয়াবুল হোসাইন (২৭) নামে এক ব্যক্তি অবশেষে মারা গেছেন।

তিনদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৪টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

তিনি টইটং ইউনিয়নের ছনখুলার জুম গ্রামের মৃত মাহমুদুল হকের ছেলে। বুধবার (২৮অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে লম্বা মুড়া এলাকায় চোর সন্দেহে তাকে গনপিটুনী দেয় স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় কিছু লোক এগিয়ে এসে মুমর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে,পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার ভোরে ওই যুবক শিলখালী ইউনিয়নের লম্বামূড়া এলাকায় ঘুরাঘুরির সময় কিছু লোক চোর চোর বলে ধাওয়া করে পিঠুনি দেয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ড়ের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক ও তার কয়েকজন সহযোগী এসে দ্বিতীয় দফায় লাটি দিয়ে ওই যুবককে আবারো মারধর করেন। ইউপি সদস্যের পাশাপাশি উশৃঙ্খল কিছু লোকও ওই যুবককে পেঠাতে থাকেন।

মারধরের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ওই যুবক। মারধরে ওই যুবক মারা গেছে ভেবে ইউপি সদস্য ও তার সাথে থাকা লোকজন দ্রুত সটকে পড়ে।

জিয়াবুলের মা দিলুয়ারা বেগম জানায়, জিয়াবুল শিলখালীতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। ভোরে বাড়ী ফেরার পথে ইউপি সদস্য ও তার লোকজন চোর আখ্যা দিয়ে পিঠিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। আমার ছেলেকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। জিয়াবুলের স্ত্রী কাউসার বেগম জানায়, মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বের হয় জিয়াবুল।

বুধবার সকালে চোর সন্দেহে তাকে গনপিটুনীর খবর পাই। সে অপরাধ করলে আইনের হাতে তুলে দিতে পারত। সেটা না করে তাকে নিষ্টুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।

আমরা চকরিয়া থানা রাস্তার মাথা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকি। মরদেহ এখনো চমেক হাসপাতালে রয়েছে।

শিলখালীর ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানায়, আমি মারধর করিনি। একজন চোরকে আটক করেছে বলে কেউ একজন ফোন করছিল। আমি ঘটনাস্থলে গেলে দেখি শতশত লোক জড়ো হয়েছে। ওই যুবককে মেরে আহত করা হয়েছে। ওসি সাহেবকে অবগত করেছি। নিজে তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি।

পেকুয়া থানায় দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার এস আই মিল্লত আলী জানান, মারা যাওয়ার বিষয়টি অফিসিয়ালভাবে এখনো জানায়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকেও জানায়নি।