ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মে ২০২২

এইচএসসি পরীক্ষা ফি’র খরচ বাদে উদ্বৃত্ত থাকলে ফেরত দেবে শিক্ষা বোর্ড

প্রকাশ: ২০২০-১০-১২ ১২:৫০:১৪ || আপডেট: ২০২০-১০-১২ ১২:৫০:১৪

সিএসবি২৪ ডেস্ক:
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ফি ফেরতের দাবি তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। এবারের পরীক্ষার ফি পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় বাদে উদ্বৃত্ত থাকলে ফেরত দেবে শিক্ষা বোর্ড। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিল করে ভিন্ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক এ বিষয়ে আমাদের সময়কে বলেন, শিক্ষার্থীদের

কাছ থেকে নেওয়া পরীক্ষার ফির অর্থ ইতোমধ্যে খরচ করতে হয়েছে বিভিন্ন খাতে। আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা হচ্ছে না, ঠিক আছে কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি তো ছিল শতভাগ। সেজন্য খরচও হয়েছে, যেমন- প্রশ্নপত্র ছাপানো, সরবরাহ, এমসিকিউ শিট ছাপানো, উত্তরপত্র ক্রয়, তৈরি করা, সরবরাহ, হাজিরাপত্র, অ্যাডমিট কার্ড, সিটপ্ল্যান, কেন্দ্রের প্রস্তুতির জন্য ব্যয় হয়েছে বোর্ডের।

তিনি বলেন, একটা খাতের টাকা এখনো ব্যয় হয়নি, সেটা হচ্ছে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের যে টাকা দেওয়া হয়। পরীক্ষার পর এই টাকা ব্যয় করে বোর্ড। যেমন একটি খাতা মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষকদের ২০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থীর ১০টি উত্তরপত্র থাকে, এ হিসেবে ২০০ টাকা হয়। তবে পরীক্ষা না হলেও আমরা সার্টিফিকেট দেব, মার্কশিট দেব। এগুলোয় খরচ সামনে আছে।

নতুন পদ্ধতিতে ফল তৈরি করতে বোর্ডের বিভিন্নভাবে খরচের তথ্য উল্লেখ করে মু. জিয়াউল হক বলেন, নতুন পদ্ধতি ফল তৈরির জন্য একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করতে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হচ্ছে। এই কমিটির বৈঠকে চা-নাশতার একটা খরচ থাকবে। বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল তৈরি তো ম্যানুয়ালভাবে সম্ভব নয়, এর জন্য বোর্ডের একটা সফটওয়্যার তৈরি করতে হয়, এ বাবদ অনেক টাকা ব্যয় হবে। সুতরাং বলতে পারি যে অর্থ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে সেটা বেশিরভাগ ব্যয় হয়েছে, সামনে আরও ব্যয়ের খাত আছে। এরপর আমরা একটা হিসাবনিকাশ করে দেখব কত টাকা থাকে। যদি ফেরত দেওয়া লাগে, দিয়ে দেব।

জানা যায়, এইচএসসির ফরম পূরণের জন্য গত বছরের নভেম্বরে কেন্দ্র ফিসহ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৫০০ টাকা, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীদের এক হাজার ৯৪০ টাকা করে ফি দিতে হয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞানে কেন্দ্র ফি (ব্যবহারিক ফিসহ) ৮০৫ এবং মানবিক ও বাণিজ্যে ৪৪৫ টাকা করে ফি নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের ফি থেকে ট্যাগ অফিসারের সম্মানীসহ অন্য ব্যয় নির্বাহ করতে বলা হয়। কিন্তু যাদের ব্যবহারিক বিষয় আছে তাদের টাকার সঙ্গে প্রতি পত্রের জন্য আরও ২৫ টাকা করে দিতে হয়েছে। এছাড়া ব্যবহারিক উত্তরপত্র মূল্যায়নে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত পরীক্ষকের জন্য পত্র প্রতি ২৫ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে।

ফরম পূরণের জন্য একজন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে প্রতি পত্রের জন্য ১০০ টাকা, ব্যবহারিক প্রতি পত্রের জন্য ২৫ টাকা, একাডেমিক/ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫০ টাকা, সনদ ফি ১০০ টাকা, রোভার স্কাউট/গার্ল গাইডস ফি ১৫ টাকা এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ফি পাঁচ টাকা দিতে হয়েছে। তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে তারা বোর্ড নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে।

গত ৭ অক্টোবর অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

তিনি বলেন, জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে এইচএসসির ফল প্রকাশ করা হবে।

এ বছর উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থী। নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী এই পরীক্ষা গত ১ এপ্রিল হওয়ার শুরু হওয়ার কথা। করোনা সংক্রমণের জন্য এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।-আমাদের সময়।