ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট ২০২২

ভূমি সহকারী’র বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০২০-০৯-১৭ ১৬:০৫:৪৮ || আপডেট: ২০২০-০৯-১৭ ১৬:০৫:৪৮

 

মোঃ হাবিবুর রহমান, নওগাঁ :
নওগাঁর মান্দায় এসিল্যান্ড ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ওই ভূমি কর্মকর্তা হলেন, নুরুল্যাবাদ- কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লতিফর রহমান।

ভূক্তভোগী ইয়াকুব আলী, বেলাল হোসেন, আঃ হামদি জানান, এসিল্যান্ডের পরির্দশন কালে ওই অফিসে জমির খাজনা দিতে গেলে তাদের কাছ থেকে খাজনার রশিদে উল্লেখিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করেন অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা লতিফর রহমান।

এটি শুধু ওই ভূমি অফিসেরই চিত্র না। বরং মান্দা উপজেলার প্রতিটি ভূমি অফিসের একই অবস্থা। এসব যেন দেখার কেউ নেই! তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। আর প্রতিটি ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য ত আছেই। দালাল আর ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয় না মান্দার ভূমি অফিসগুলোতে এমন অভিযোগ হাজারো ভুক্তভোগীর।

বিশেষ করে খাজনা-খারিজ বা ক্রয়- বিক্রয়ের সময় জমির খাজনা দিতে গেলে অতিরিক্ত টাকা ঘুষ না দিলে খাজনার রশিদ মিলেনা। অনেক সময় খাজনার রশিদের সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়ে থাকে। শুধু তাই না, অনলাইনে জমি খারিজ করতেও যেনো ভোগান্তির শেষ নেই! ঠুনকো অভিযোগে অথবা কাজগের নূন্যতম গড়মিল পরিলক্ষিত হওয়া মাত্রই খারিজ আবেদন বাতিল ঘোষনা করে নথিজাত করা হয়।

গত কয়েক বছরে মান্দায় হাজার- হাজার খারিজ আবেদন নথিজাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মান্দার ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের অসৌজন্যমূলক আচরণে অতিষ্ঠ সাধারণ জনগণ। ভূমি অফিসে গেলে কে অফিসার? কে কর্মচারী চেনাই মুশকিল! আর এজন্যই দালালদের খপ্পরে পড়ে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। বৈরী আচরণ, অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে কাজ করিয়ে নেয়া এবং ভূমি অফিসের সকল প্রকার ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায় মান্দাবাসী।

এ ব্যাপারে নুরুল্যাবাদ- কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই অভিযুক্ত ভূমি কর্মকর্তা লতিফর রহমান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মান্দা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ ইমরানুল হক বলেন, এবিষয়ে ভূক্তোভূগীদের সু-নির্দিষ্ট এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভূমি অফিসে দালালদের কোন স্থান নেই বলেও জানান তিনি।

নুরুল্যাবাদ – কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, মান্দার ভূমি অফিসে কোন চাঁদাবাজি চলবে না। এরপর সংবাদ সংবাদকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বিরুপ মন্তব্য করাসহ ওই অফিসের ভূমি কর্মকর্তাকে মান্দার ভূয়া এবং চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের তালিকা করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন যে, এরপর কোন সাংবাদিক অফিসে চাঁদাবাজি করতে আসলে আমাকে জানাবেন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবো বলে হুমকি প্রদান করে ভূমি অফিস পরিদর্শনের ব্যাপারে কোন মন্তব্য না করেই অফিসে যেতে বলেন।

অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে অফিসে যাওয়ার দীর্ঘসময় অপেক্ষার পর তিনি অফিসে এসে তিনি কর্মব্যস্ততা দেখিয়ে ক্যামেরার সামনে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। অথচ, তিনি আবারো সাংবাদিকদের সম্পর্কে বাজে বাজে মন্তব্য করে বসেন।এসিল্যান্ডের এমন বাজে মন্তব্য সত্যিই কষ্টদায়ক। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তার এমন অতিরঞ্জিত আচরণের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন।