ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

মঙ্গলময় সমাজ বিনির্মানে সম্প্রীতির বিকল্প নেই

প্রকাশ: ২০২০-০৯-১১ ১৩:৩৬:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৯-১১ ১৩:৩৬:৩০

রাহুল সেন ভিক্ষু
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই তাদের রয়েছে বিচার, বুদ্ধি প্রয়ােগের শক্তি। প্রগতি হচ্ছে পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের চাবিকাঠি। মানব কল্যাণের পথে পাড়ি দিতে
অবশ্যই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

সম্প্রীতি কি? শব্দটা উচ্চারণ করলে অবশ্যই শ্রুতিমধুর লাগে। সম্প্রীতি বলতে সাধারণ অর্থে আমরা বুঝি একজন আরেক জনের প্রতি এবং এক সমাজ আরেক সমাজের প্রতি মিত্রতা, সৌহার্দ্যতা, মৈত্রীভাব, একান্ততা, ঐক্যতা, অভিন্নতা ইত্যাদি একই অর্থবােধক শব্দ। আমার মতে সম্প্রীতির অপর নাম অহিংসা। কারণ সব অর্থবােধকের অর্থ অহিংসার মধ্যে লুকিয়ে আছে।

এখন কথা হল আমাদের ধর্মের মূল বাণী “ অহিংসা পরম ধর্ম” এই বাণীটা আমরা সবাই বলি। কিন্তু জানা এবং বলার চাইতে প্রশ্ন হলাে বাণীটাকে কি আমরা সঠিক ভাবে প্রয়ােগ করি কি? মনে হয় দুই জন লােক পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এবার দেখুন আমাদের সমাজটা কোথায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু সমাজে দেখা যায় কোন একটা লােকের মধ্যে যখন একটু সচ্ছলতা ফিরে আসে তখন সবাই তার সাথে রেশারেশি করে। যখন কারাে ছেলে বিদেশ গমণ বা ভাল কিছু করে তখন তাে আর কোন কথাই নেই। ঠিক কাঁকড়ার মত আচরণ করে। যখন কাঁকড়া ধরে কোন একটা পাত্রে রাখা হয় একটা কাঁকড়া যখন উপরে উঠতে চায় তখন অন্য আরেকটা কাঁকড়া পা দিয়ে ধরে নিচে নেমে আনে। আমার মনে হয় কাকড়াটা ভাবে আমি তাে উঠতে পারছি না, তুমি কেন আমাকে ফেলে যাবে তা হতেই পারে না। তাই বলছি যে আমাদেরকে সেই স্বভাব পরিহার করতে হবে।

কারণ, আমরা যদি কাঁকড়ার আচরণ করি নিজেও কিছু হতে পারলাম না অপরকেও ক্ষতি করলাম। যদি সেরকম হয় তাহলে আমাদের সমাজ সংস্কৃতি চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে। সমাজটা এমন একটা পরিস্থিতিতে প্রবেশ করবে বিবেক ও আত্মমর্যদাহীন কুসমাজে পরিণত হবে। তাই আমাদের উচিত একজন আরেকজনের প্রতি সহানুভুতি প্রদর্শন করা এবং সবার সাথে সম্প্রীতি সৃষ্টি করা।

সমাজকে সুন্দর করতে হলে সম্প্রীতি অবশ্যই প্রয়ােজন।

# পারিবারিক সম্প্রীতি # সামাজিক সম্প্রীতি, # ধর্মীয় সম্প্রীতি
সমাজের মঙ্গলার্থে এই তিনটি বিষয় যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।

১) পারিবারিক সম্প্রীতি ও পরিবার হল শিশুর আচার আচরণের শিক্ষা কেন্দ্র।
গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাদের সাথে কিভাবে আচরণ করবে তা একমাত্র নির্ভর করে পরিবারের উপর। ভদ্র,বিনয়ী, সংযমী হওয়ার জন্য পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরিবারের অভ্যন্তরীনে যদি ভালো সুসম্পর্ক বজায় না থাকে তাহলে সমাজের মঙ্গল চিন্তা করা নিরর্থক। ঠিক যেমন পোকাময় ফলের মতো হবে।পোকা ফল উপরে চাকচিক্য কিন্তুু ভেতরে পোকায় পূর্ণ।সেই ফল খেয়ে যেমন তৃপ্তি মেটানো ব্যর্থ, গঠন মূলক সমাজ বির্নিমানে অন্তরায়।তাই পরিবার থেকে সর্বাগ্রে সম্প্রীতির গোড়াপত্তন হবে।

২) সামাজিক সম্প্রীতি ও পরিবার থেকে সমাজ সৃষ্টি হয়। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তাই গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল বলেন- Man is by Nature a social and animal and man who is not a member of society is either a god or best, অর্থাৎ মানুষ স্বভাবতই সামাজিক জীব। যে সমাজে বাস করে না সেই পশু হয় দেবতা। যদি সমাজের একে অপরের প্রতি দায়-দায়িত্ব, ভদ্রতা, বিনয়ী ও সংযমী সু-বাক্য ও কর্ম সম্পাদন করা উচিত। তাতে পরস্পরের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সুদৃঢ় হয়। সৌহার্দ্য ভাব জেগে উঠে, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবােধ ভালবাসা কনিষ্ঠদের স্নেহ-মমতা গভীর হয়। প্রজন্ম অনুকরণশীল হয়ে যােগ্য উত্তরসূরীর দায়িত্ব আন্তরিক হতে দেখা যায় এবং নেতৃত্ব দান কারীদের যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

৩) ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমাজে কল্যাণের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতি অপরিহার্য। ধরুণ একটি অঞ্চলে বা গ্রামে তিন ধর্মের মানুষ বাস করে। যদি তাদের মাঝে সু-সম্পর্ক সৃষ্টি না হয় তাহলে সে অঞ্চলে কী সম্প্রীতি থাকবে? যদি ও আমরা বৌদ্ধ জাতির মধ্যে অন্য ধর্ম নিয়ে হাসাহাসি, হিংসাত্মক ভাব কম দেখা যায়। আরেক ধর্মের লােক আছে যারা ধর্ম নিয়ে যে তত হাসাহাসি করে কিন্তু কেন? ভালাে কাজে এমনিই মার থাকবে স্বাভাবিক। তদ্রুপ তারা বুঝতে পেরেছে যে প্রকৃত ধর্মই হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম। তাদের মতাে অন্ধ বিশ্বাস না তাই তাদের এত হিংসা। মাঙ্গলিক সমাজ বিনির্মাণে তাদের মনের পরিবর্তন আনতে হবে। চিন্তা চেতনার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা বৌদ্ধ জাতি হিংসা বিদ্বেষের পথে নেই আমরা শান্তিপ্রিয় এবং অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল জাতি।

আসুন সবাই মিলে এক হই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হই এবং এক সাথে কাজ করে সমাজে উন্নতির পথে নিয়ে যায়।

লেখক: রাহুলসেন ভিক্ষু, থেরবাদা ইউনিভার্সিটি ইয়াঙ্গুন, মায়ানমার।