ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

একদিনেই মত পাল্টিয়েছে ভাসানচর পরিদর্শন করা রোহিঙ্গা নেতারা

প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৯ ১৮:১৬:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৯-০৯ ১৮:২৯:৪৫

# ভাসানচর যেতে বাধাঁগ্রস্থ করছে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ।

পলাশ বড়ুয়া ॥
একদিন যেতে না যেতেই মত পাল্টিয়েছে ভাসানচর পরিদর্শন করে আসা রোহিঙ্গা নেতারা। সেখান থেকে ফেরার পরপর ভাসানচরের পরিবেশ ভালো লাগার কথা ক্যাম্পে জানানোর কথা মুখে বললেও ক্যাম্পে ফিরে নিরব ভুমিকা পালন করছে তারা। তবে বিশেষ একটি সূত্রে জানা গেছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ ভাসানচর যেতে বাঁধাগ্রস্থ করছে ক্যাম্প কেন্দ্রিক রোহিঙ্গাদের স্বশস্ত্র একটি গ্রুপ। তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে নিরব ভুমিকা পালন করছে ভাসানচর পরিদর্শন করা এসব রোহিঙ্গারা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে ভাসানচর পরিদর্শন করে ফিরে আসা ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গারা স্ব -স্ব ক্যাম্পে গিয়ে সেখানকার সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো সম্পর্কে ক্যাম্পে জানানোর কথা বললেও বুধবার বিকেল পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গার সাথেও কথা বলেনি।

ভাসানচর পরিদর্শন করে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালুখালী ১নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আমরা ভাসানচর পরিদর্শন করেছি। সেখানকার পরিবেশও পর্যবেক্ষণ করেছি। রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত আবাসন প্রকল্প দেখে ভালো লেগেছে। তবে ক্যাম্পে ফিরে এসে এ বিষয়ে রোহিঙ্গাদের বুঝানোর মতো কোন পরিবেশ নেই। কারণ ক্যাম্পে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা চাপ প্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, ভাসানচর পরিদর্শন শেষে একদিন গত হলেও কোন রোহিঙ্গা আমাদের নিকট থেকে কোন তথ্য জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এতে মনে হচ্ছে রোহিঙ্গারা ভাসানচরে যেতে অনিচ্ছুক।

রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দলের সদস্য নুর আলমও বলেন, ভাসানচরের চারপাশের বাঁধ ঘুরে দেখে সার্বিক পরিবেশ ভালো লেগেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের গড়ে তোলা অবকাঠা আমাদের পছন্দ হয়েছে বলে

বুধবার ভাসানচর পরিদর্শন করা অনেকের কাছে মতামত জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান, আবার অনেকের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভাসানচর পরিদর্শন করে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে বালুখালী ক্যাম্প-,৯ এর ব্লক আই-টু এর বাসিন্দা নূর আলম, বালুখালী ক্যাম্প-১০ এর ব্লক জি ২২’র নূর মোহাম্মদ, ক্যাম্প ১১ এর হেড মাঝি মোঃ ওসমান, ব্লকমাঝি দিল মোহাম্মদ ও গোল ফারাজ, ক্যাম্প ১২ ময়নার ঘোনা হেডমাঝি আব্দুর রহিম, ব্লক মাঝি নূর হোসাইন ও নূর জাহান, ক্যাম্প ১৯ বার্মাপাড়া হেডমাঝি মুজি উল্লাহ, ব্লকমাঝি মোঃ হাবিবুর রহমান,নূর মোস্তফা ও মো: রফিক প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেছেন, ভাসানচর পরিদর্শন করে আসা রোহিঙ্গা নেতারা ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সেখানকার পরিবেশ সম্পর্কে বুঝাবেন। এক্ষেত্রে শতভাগ রোহিঙ্গা ভাসানচরে যেতে রাজি নাও হতে পারে। তবে কাউকে জোর করে পাঠানো হবে না। রাজি সাপেক্ষে দ্রুত সময়ের মধ্যে এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভাসানচর পরিদর্শন করা রোহিঙ্গাদের বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি অবগত নন বলে জানান।

ক্যাম্প-৮, ৯ ও ১০ এর ইনচার্জ আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ভাসানচর যেতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের বাধাগ্রস্থ করার ব্যাপারে কোন তথ্য এখনো পায়নি। তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে গত শনিবার সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় উখিয়া-টেকনাফ থেকে ৪০জন রোহিঙ্গা নেতাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় নৌবাহিনী, পুলিশসহ অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সাথে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টের পরে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে। পরে বাংলাদেশ সরকার সার্বিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে তাদেরকে ভাসানচরে স্থানান্তরে সিদ্ধান্ত নেয়।