ঢাকা, শনিবার, ১৩ আগস্ট ২০২২

উখিয়ায় সরকারি গোপাটের উপর ভাইস চেয়ারম্যানের অবৈধ স্থাপনা!

প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৫ ২৩:৪৩:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০৯-০৬ ০৭:২৫:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উখিয়ায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সরকারি গোপাট দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

বছর খানেক পূর্বে উপজেলার রত্নাপালং মৌজার ১নং সিটের বিএস ৫৬৩, আরএস ৬৯৭ দাগের সরকারি গোপাট ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলেও এযাবৎ প্রশাসনের দৃষ্টি পড়েনি। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উখিয়াবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের কোর্টবাজার-ভালুকিয়া সড়কের মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন ১নং ওয়ার্ডের শত বছরের পুরোনো সরকারি গোপাট দখল করে স্থাপনা নিমার্ণ করেছে উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।

এ সময় স্থানীয় লোকজনের নিকট থেকে জানতে চাওয়া হলে তারা ভয়ে-আতংকে মুখ খুলতে চাইনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বয়োবৃদ্ধ কয়েকজন লোক সাংবাদিকদের জানান, স্বাধীনতার পরবর্তি সময় থেকে এই জায়গাটি সরকারি গোপাট হিসেবে বেদখল ছিল। কিন্তু ভাইস চেয়ারম্যান জাহাংগীর ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে এক বছর আগে বিরোধীয় জায়গাটি অল্প দামে ক্রয় করে রাতারাতি দখল করে নেয়। পরবর্তিতে রত্নাপালং মৌজার ১নং সিটের বিএস ৫৬৩, আরএস ৬৯৭ দাগের সরকারি গোপাট ভরাট করে এই স্থাপনাটি নির্মাণ করে।

যার কারণে রত্নাপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার বর্ষা মৌসুমে পানি বন্দি হয়ে পড়েন। গ্রামবাসী সরকারি এ গোপাটটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রত্নাপালং ইউনিয়নের এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ জানান, ১৯৭৭ সালে আমরা যখন পালং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে বিদ্যালয়ের সহপাঠি নিয়ে উক্ত জায়গায় ধানের চারা রোপন করেছিলাম। ওই সময় তৎকালিন মহকুমা প্রশাসন জায়গাটি সরকারি গোপাট বলে আমাদের সতর্ক করেছিলেন। পরবর্তিতে ওখানে কোন ধরণের চাষাবাদ না করার জন্য কঠোরভাবে নিষেধও করেন।

রত্নাপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোক্তার আহমদ বলেন, আমি লোকজনের মুখে শুনেছি কোর্টবাজার-ভালুকিয়া সড়কের মধ্যরত্নার বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন ১নং সিটের বিএস ৫৬৩, আরএস ৬৯৭ দাগে একটি সরকারি গোপাট রয়েছে। বর্তমানে গোপাটের একটি অংশ প্রভাবশালীর হাতে দখল হয়ে গেছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি।

এ বিষয়ে রত্নাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি মোবাইলে বলা যাবে না। বিস্তারিত জানতে হলে ঘটনাস্থলে আসতে হবে। প্রয়োজনে আমি চকিদার দিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা করবো।

ঘটনার বিষয়ে উখিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহাংগীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি গোপাট বাদ রেখে আমি স্থাপনা নির্মাণ করেছি। পানি নিস্কাশনের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে গোপাটের উপর একটি কালভার্ট নির্মাণ করে দিয়েছি। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি বিষয়টি ইতিমধ্যে সহকারি কমিশনার (ভূমি)কে অবহিত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।