ঢাকা, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

সোনাইছড়ির থমথমে পরিস্থিতি কাটেনি এখনো, আতঙ্কে ঘরছাড়া নারী-পুরুষ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৬ ১০:০৪:০৮ || আপডেট: ২০২০-০৪-০৬ ১০:০৪:০৮

ময়নাতদন্ত শেষে নান্নু’র মায়ের দাফন সম্পন্ন
 
 
নিজস্ব প্রতিবেদক: 
কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়িতে  আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা সহ দফায় দফায় সংঘর্ষ ভাঙচুর ও তান্ডব লীলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক  এবং দু’পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা।
 
বিশেষ করে  মামলার আসামীর মা নুর নাহার বেগমের হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে চলছে পরস্পর বিরোধী অভিযোগ। কেউ কেউ এই মৃত্যুকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষকে মামলা দিয়ে ঘায়েল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান। 
 
মিথ্যা মামলা ও হামলার ভয়ে বহু নিরপরাধ লোক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। এ সুযোগে সন্ত্রাসী বাহিনীরা পুরো এলাকায় মহড়া দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ও অনেক নাটকীয়তা শেষে ওই মহিলার ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার দাফন করা হয়েছে।
 
জানা যায়, লকডাউনের সময় পশ্চিম সোনাইছড়িতে সপ্তাহখানেক আগে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে  নুরুল আবছার নান্নু ও তার ভাইদের সাথে  দেলোয়ার হোসেনসসহ কয়েকজনের তর্ক হয়।
 
এ ঘটনায় নান্নু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বাহিনীর   ছুরিকাঘাতে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই সময় মোবারক সহ আহত হয়েছিল আরো বেশ কয়েকজন।
 
এ ব্যাপারে ৩১ মার্চ উখিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ভিকটিমের ছোট ভাই মোবারক হোসেন। যার মামলা নম্বর -৪৫। এ মামলায় ৩ জনকে আসামী করা হয়। আসামীরা হচ্ছে  পশ্চিম সোনাইছড়ি এলাকার আলী হোসেন, দুই ছেলে নুরুল আবছার নান্নু ও আহমদ শরীফ।
 
এলাকাবাসীরা জানান গত শুক্রবার বিকালে অভিযান চালিয়ে নিয়মিত মামলার আসামী আহমদ শরীফকে গ্রেফতার করে ইনানী পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
 
এ ঘটনায় জের ধরে  জাফর আলম , সানা উল্লাহর নেতৃত্বে একদল লাঠিয়াল বাহিনী প্রতিপক্ষের বাড়িতে হানা দিয়ে ভাঙচুরসহ তাণ্ডবলীলা চালায় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।
 
 
এ সময় সোনাইছড়ি গ্রামের আবদুস কুদ্দুস (৪৫), ফরিদুল আলম (৪৭) মো. হোসেন (২৫), মোঃ রনি (২১), মোহাম্মদ রাসেল (২২),  সানা উল্লাহর ভাই ও জাফর আলম (৪৫)সহ অনেকে আহত হন বলে জানা গেছে।
 
খবর পেয়ে পুলিশ আবার ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহমদের ছেলে মমতাজ মিয়া, মৌলভী ইসলামের ছেলে সিরাজ উল্লাহ ও বদিউল আলমের ছেলে হাকিম আলীকে আটক করে।
 
অনেকের সাথে কথা বলে জানা গেছে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি আহমদ শরীফ কে   গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন নান্নুর মা নুর নাহার বেগম।
 
তাৎক্ষণিক কোটবাজার অরজিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। নুর নাহার বেগম সোনাইছড়ি গ্রামের আলী হোসেনের স্ত্রী। পরিবারের অভিযোগ তিনি স্ট্রোক করে নাই। প্রতিপক্ষরা তাকে নির্যাতন চালিয়েছে।   
 
গ্রামবাসীরা জানান, পুত্র আহমেদ শরীফকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে তা সহ্য করতে না পারে মা স্ট্রোক করেন।
 
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে’র ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃ মেরাজ হোসেন চয়ন বলেন, নুর নাহার বেগমের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন পাওয়া যায় নি। হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হতে পারে।
 
মামলার বাদী মোবারক হোসেন অভিযোগ করে বলেন হত্যাচেষ্টা মামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্ট্রোকে মারা যাওয়া নারী কে পুঁজি করে মিথ্যা মামলা সাজানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
 
এ বিষয়ে জানতে নুরুল আবছার নান্নুর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
 
এ বিষয়ে ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ সাহা বলেন, ওইদিন নিয়মিত মামলার আসামী আহমদ শরীফসহ  ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মায়ের মৃত্যুর পর মানবিকদিক বিবেচনা ও কোর্ট থেকে জামিন নেয়ার শর্ত সাপেক্ষে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও তিনি জানান।
 
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য মহিলার  ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
 
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ইকবাল হোসেন বলেন, এঘটনার সত্যানুসন্ধানে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। মহিলার মৃত্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বজনদের দাবীর প্রেক্ষিতে ময়না তদন্ত করতে পারে। এ ঘটনায় যাতে কেউ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়েও নজরদারি করছে পুলিশ।